খুলনার সন্ত্রাসী গ্রুপ আরমান বাহিনীর প্রধান আরমান হোসেন দিপু শ্যুটারকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ গ্রেফতার

র‍্যাব-৬, খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর, খালিশপুর, আড়ংঘাটা, দিঘলিয়া ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি ও সহিংসতার অভিযোগে আলোচিত সন্ত্রাসী গ্রুপ ‘আরমান বাহিনী’র প্রধান মোঃ আরমান হোসেন দিপু আরমান আরমিন, যিনি স্থানীয়ভাবে ‘শ্যুটার আরমান’ নামে পরিচিত, পিতা-মোঃ আসাদুজ্জামান মিঠু, গ্রাম-মহেস্বরপাশা, দৌলতপুর,খুলনা, তাকে গত ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ই ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে।
পরবর্তীতে তার দেয়া তথ্যমতে আরমান ও তার সহযোগীদের ব্যবহৃত ০১টি বিদেশী পিস্তল, ০২ টি শটগান ও ১২ রাউন্ড শটগান এর গুলি উদ্ধার করে।
প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে গত ১৭ জুন ২০২৬ তারিখে দৌলতপুরে মসজিদে প্রবেশ করে দুই মুসল্লিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় তার সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করে।
কোম্পানি কমান্ডার আরো জানান, আরমান হোসেন দিপু দৌলতপুর ও আড়ংঘাটা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। পরবর্তীতে সে নিজস্ব একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করে। তার নেতৃত্বাধীন গ্রুপে ৮-১০ সদস্যের নাম উঠে এসেছে। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অস্ত্রের মহড়ার মাধ্যমে তারা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করত বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন বিদেশি নম্বর থেকে হোয়াটস্ অ্যাপে ফোন করে চাঁদা দাবি এবং চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া, ভয়ভীতি প্রদর্শন এমনকি গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
আরমানের পিসিপিআর পর্যালোচনা করে জানা যায় আরমান হোসেন দিপু এর বিরুদ্ধে খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন থানায় হত্যা ও হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক মামলার তথ্য রয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল .মামুন মোল্যা হত্যা মামলা, তারিখ ২৫ জানুয়ারি ২০২১।মারজান মুন্না হত্যা মামলা, ৩০ জুন ২০২২।কালা রানা হত্যা (ভিকটিমের মৃত্যুকালীন জবানবন্দি ও তদন্তে সন্দিগ্ধ)ঘাউরা রাজিব হত্যা, তারিখ ৩১ জানুয়ারি ২০২৬।যুবদল নেতা রাশু হত্যা, তারিখ ১৯ মার্চ ২০২৬ (তদন্তে সন্দিগ্ধ)।মনিরুল ইসলাম রনি হত্যা, তারিখ ২৮ আগস্ট ২০২৬ (তদন্তে সন্দিগ্ধ)।দৌলতপুরে মসজিদে প্রবেশ করে দুই মুসল্লিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ, তারিখ ১৭ জুন ২০২৬
তার গ্রেফতারের মাধ্যমে আরমান বাহিনীর সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পথ আরও সুগম হয়েছে। একই সঙ্গে তার সহযোগিদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
আমরা আশাবাদী অতিদ্রুত বাকী সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হব। র‍্যাব-৬ সর্বদা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, অপরাধ দমন ও জনগণের নিরাপত্তা রক্ষায় বদ্ধ পরিকর। এই অভিযান পরিচালনার ঘটনায় KMP (DB), খুলনা মেট্রো পলিটন, জেলা পুলিশসহ অন্যান্য সংস্থাসমূহের যথেষ্ট সহায়তা পেয়েছি। আমি বিশ্বাস করি, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সকলের সমন্বিত ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ উপহার দিয়ে যেতে পারব।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

সাঘাটায় অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, ড্রেজার মেশিন ও সরঞ্জাম জব্দ

Verified by MonsterInsights

খুলনার সন্ত্রাসী গ্রুপ আরমান বাহিনীর প্রধান আরমান হোসেন দিপু শ্যুটারকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ গ্রেফতার

আপলোডের সময় : 10:32:41 pm, Monday, 7 September 2026

র‍্যাব-৬, খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর, খালিশপুর, আড়ংঘাটা, দিঘলিয়া ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি ও সহিংসতার অভিযোগে আলোচিত সন্ত্রাসী গ্রুপ ‘আরমান বাহিনী’র প্রধান মোঃ আরমান হোসেন দিপু আরমান আরমিন, যিনি স্থানীয়ভাবে ‘শ্যুটার আরমান’ নামে পরিচিত, পিতা-মোঃ আসাদুজ্জামান মিঠু, গ্রাম-মহেস্বরপাশা, দৌলতপুর,খুলনা, তাকে গত ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ই ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে।
পরবর্তীতে তার দেয়া তথ্যমতে আরমান ও তার সহযোগীদের ব্যবহৃত ০১টি বিদেশী পিস্তল, ০২ টি শটগান ও ১২ রাউন্ড শটগান এর গুলি উদ্ধার করে।
প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে গত ১৭ জুন ২০২৬ তারিখে দৌলতপুরে মসজিদে প্রবেশ করে দুই মুসল্লিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় তার সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করে।
কোম্পানি কমান্ডার আরো জানান, আরমান হোসেন দিপু দৌলতপুর ও আড়ংঘাটা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। পরবর্তীতে সে নিজস্ব একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করে। তার নেতৃত্বাধীন গ্রুপে ৮-১০ সদস্যের নাম উঠে এসেছে। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অস্ত্রের মহড়ার মাধ্যমে তারা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করত বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন বিদেশি নম্বর থেকে হোয়াটস্ অ্যাপে ফোন করে চাঁদা দাবি এবং চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া, ভয়ভীতি প্রদর্শন এমনকি গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
আরমানের পিসিপিআর পর্যালোচনা করে জানা যায় আরমান হোসেন দিপু এর বিরুদ্ধে খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন থানায় হত্যা ও হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক মামলার তথ্য রয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল .মামুন মোল্যা হত্যা মামলা, তারিখ ২৫ জানুয়ারি ২০২১।মারজান মুন্না হত্যা মামলা, ৩০ জুন ২০২২।কালা রানা হত্যা (ভিকটিমের মৃত্যুকালীন জবানবন্দি ও তদন্তে সন্দিগ্ধ)ঘাউরা রাজিব হত্যা, তারিখ ৩১ জানুয়ারি ২০২৬।যুবদল নেতা রাশু হত্যা, তারিখ ১৯ মার্চ ২০২৬ (তদন্তে সন্দিগ্ধ)।মনিরুল ইসলাম রনি হত্যা, তারিখ ২৮ আগস্ট ২০২৬ (তদন্তে সন্দিগ্ধ)।দৌলতপুরে মসজিদে প্রবেশ করে দুই মুসল্লিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ, তারিখ ১৭ জুন ২০২৬
তার গ্রেফতারের মাধ্যমে আরমান বাহিনীর সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পথ আরও সুগম হয়েছে। একই সঙ্গে তার সহযোগিদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
আমরা আশাবাদী অতিদ্রুত বাকী সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হব। র‍্যাব-৬ সর্বদা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, অপরাধ দমন ও জনগণের নিরাপত্তা রক্ষায় বদ্ধ পরিকর। এই অভিযান পরিচালনার ঘটনায় KMP (DB), খুলনা মেট্রো পলিটন, জেলা পুলিশসহ অন্যান্য সংস্থাসমূহের যথেষ্ট সহায়তা পেয়েছি। আমি বিশ্বাস করি, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সকলের সমন্বিত ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ উপহার দিয়ে যেতে পারব।