ইসরায়েলি নির্বাচন সামনে রেখে কাতারকে ‘শত্রু’ ঘোষণা নেতানিয়াহুর, স্বীকার করলেন দোহায় হামলার কথা

আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০২৩ সালে গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর এটিই দেশটিতে প্রথম নির্বাচন। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে গাজা পরিস্থিতি, অর্থনীতি এবং ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার কারণে নেতানিয়াহু সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে। ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণের প্রচেষ্টায় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু আই২৪নিউজ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কাতার ও গাজায় মানবিক সহায়তার নামে হামাসের অর্থায়ন নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন।

সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু কাতারকে ‘শত্রুভাবাপন্ন’ রাষ্ট্র হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি দোহায় বোমা হামলার কথা স্বীকার করে দাবি করেন, সেই পদক্ষেপটি সঠিক ছিল। প্রায় এক বছর আগে, ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর দোহায় ওই হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল। এতে হামাসের পাঁচ সদস্য এবং কাতারের একজন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন। হামলার সময় হামাস নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত গাজা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার জন্য দোহায় অবস্থান করছিলেন। নেতানিয়াহু দাবি করেন, গাজায় চলমান যুদ্ধে ইসরায়েলের নীতি নির্ধারণে কাতারের কোনো ভূমিকা নেই।

গাজায় মানবিক সহায়তার নামে কোটি কোটি ডলার পাঠানোর বিষয়ে নেতানিয়াহু জানান, এসব অর্থ ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ও শিন বেতের তদারকিতে পাঠানো হয়েছিল। তবে তিনি গাজায় পাঠানো অর্থ অন্য খাতে ব্যবহারের অভিযোগ নাকচ করে দেন। যদিও সমালোচকদের দাবি, কাতারের পাঠানো এই অর্থ হামাসকে ৭ অক্টোবরের হামলার প্রস্তুতি নিতে সহায়তা করেছে। অন্যদিকে, কাতার বরাবরই হামাসকে অর্থায়নের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ দোহা ফোরামে জানিয়েছিলেন, কাতারের সহায়তা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় গাজার মানুষের কাছে পৌঁছেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত ছিল।

২০২৫ সালের ওই হামলার পর কাতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছিল। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি একে ‘কাপুরুষোচিত’ এবং আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতির ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেন। জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসও এই হামলাকে কাতারের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার লঙ্ঘন হিসেবে নিন্দা জানান। সে সময় ইরান ও পাকিস্তানসহ বেশ কয়েকটি দেশ হামলার প্রতিবাদ জানায় এবং কাতারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করতে জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের নেতারা দোহা সফর করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে জাতীয়তাবাদী ভোট ব্যাংককে শক্তিশালী করতে নেতানিয়াহু বারবার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উত্তেজনা উসকে দেওয়ার কৌশল অবলম্বন করছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাঘাটায় অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, ড্রেজার মেশিন ও সরঞ্জাম জব্দ

Verified by MonsterInsights

ইসরায়েলি নির্বাচন সামনে রেখে কাতারকে ‘শত্রু’ ঘোষণা নেতানিয়াহুর, স্বীকার করলেন দোহায় হামলার কথা

আপলোডের সময় : 10:45:18 am, Tuesday, 8 September 2026

আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০২৩ সালে গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর এটিই দেশটিতে প্রথম নির্বাচন। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে গাজা পরিস্থিতি, অর্থনীতি এবং ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার কারণে নেতানিয়াহু সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে। ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণের প্রচেষ্টায় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু আই২৪নিউজ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কাতার ও গাজায় মানবিক সহায়তার নামে হামাসের অর্থায়ন নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন।

সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু কাতারকে ‘শত্রুভাবাপন্ন’ রাষ্ট্র হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি দোহায় বোমা হামলার কথা স্বীকার করে দাবি করেন, সেই পদক্ষেপটি সঠিক ছিল। প্রায় এক বছর আগে, ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর দোহায় ওই হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল। এতে হামাসের পাঁচ সদস্য এবং কাতারের একজন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন। হামলার সময় হামাস নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত গাজা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার জন্য দোহায় অবস্থান করছিলেন। নেতানিয়াহু দাবি করেন, গাজায় চলমান যুদ্ধে ইসরায়েলের নীতি নির্ধারণে কাতারের কোনো ভূমিকা নেই।

গাজায় মানবিক সহায়তার নামে কোটি কোটি ডলার পাঠানোর বিষয়ে নেতানিয়াহু জানান, এসব অর্থ ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ও শিন বেতের তদারকিতে পাঠানো হয়েছিল। তবে তিনি গাজায় পাঠানো অর্থ অন্য খাতে ব্যবহারের অভিযোগ নাকচ করে দেন। যদিও সমালোচকদের দাবি, কাতারের পাঠানো এই অর্থ হামাসকে ৭ অক্টোবরের হামলার প্রস্তুতি নিতে সহায়তা করেছে। অন্যদিকে, কাতার বরাবরই হামাসকে অর্থায়নের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ দোহা ফোরামে জানিয়েছিলেন, কাতারের সহায়তা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় গাজার মানুষের কাছে পৌঁছেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত ছিল।

২০২৫ সালের ওই হামলার পর কাতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছিল। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি একে ‘কাপুরুষোচিত’ এবং আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতির ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেন। জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসও এই হামলাকে কাতারের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার লঙ্ঘন হিসেবে নিন্দা জানান। সে সময় ইরান ও পাকিস্তানসহ বেশ কয়েকটি দেশ হামলার প্রতিবাদ জানায় এবং কাতারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করতে জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের নেতারা দোহা সফর করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে জাতীয়তাবাদী ভোট ব্যাংককে শক্তিশালী করতে নেতানিয়াহু বারবার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উত্তেজনা উসকে দেওয়ার কৌশল অবলম্বন করছেন।