গফরগাঁওয়ে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনে ৫ শতাধিক ঘরবাড়ি ব্রহ্মপু্ত্রের গর্ভে বিলীন হওয়ার সম্ভাবনা

 

ময়মনসিংহের দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানাধীন বাঁশিয়া বাজার থেকে ৮নং টাংগাব ইউনিয়নের দক্ষিণ শেষ সীমানা টোক চাঁনপুর ঘাট পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ শতাধিক পরিবারকে রক্ষা, শত শত একর ফসলী জমি ও কে.বি. ইসমাইল খান সড়ককে নদের ভাঙ্গণের কবল থেকে রক্ষার জন্য এলাকাবাসী ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক বরাবর গত ৮ সেপ্টেম্বর একটি আবেদন করেছেন।

এই আবেদনের অনুলিপি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এবং ময়মনসিংহ জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি,গফরগাঁও ও দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা আসন থেকে নির্বাচিত এমপি মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান বাচ্চু, ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, অধিনায়ক RAB-14, পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলী, পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), দক্ষিন গফরগাঁও উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি), অফিসার ইনচার্জ পাগলা থানা,টাংগাব ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট আরও অনেকেই দেওয়া হয়েছে।

আবেদনে বলা হয়েছে ময়মনসিংহ জেলার নবগঠিত দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানাধীন বাঁশিয়া বাজার থেকে ৮নং টাংগাব ইউনিয়নের দক্ষিণ শেষ সীমানা টোক চাঁনপুর ঘাট পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে প্রতিনিয়ত বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

এতে উল্লেখিত এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থিত ৫ শতাধিক পরিবারের বাড়ীঘর হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে যেকোন মুহুর্তে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে ঘরবাড়ি নদগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী এলাকায় অবস্থিত শত শত একর ফসলী জমি নদগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার উপক্রম সৃষ্টি হয়েছে। এতে নিরীহ কৃষকরা নিদারুন কষ্টে পতিত হবে।

ময়মনসিংহ থেকে দক্ষিণ গফরগাঁও টোক চাঁনপুর ঘাট পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদের তীরঘেষা কে.বি. ইসমাইল খান সড়কটি অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। বালু উত্তোলন বন্ধ করা না হলে এই সড়কটি ব্রহ্মপুত্র নদগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। এতে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ভয়াবহ দুর্দশা ও দূর্ভোগ নেমে আসবে।

এ ছাড়াও ব্রহ্মপুত্র ও কালিবানার মোহনায় স্থাপিত ব্রীজটিও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে ঝুঁকিতে পড়ে গেছে। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে জনস্বার্থে নির্মিত এই ব্রীজটিও ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম সৃষ্টি হয়েছে।

এ থেকে পরিত্রাণ এবং অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতঃ নিরীহ এলাকাবাসীকে সমূহ ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আবেদনকারীগণ বিষয়টি আমলে নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে জনগণের ঘরবাড়ি রক্ষা, ফসলী জমি রক্ষা, কে.বি. ইসমাইল খান সড়ক রক্ষা ও ব্রহ্মপুত্র এবং কালিবানার মোহনায় স্থাপিত ব্রীজটিকে রক্ষার জন্য আশু ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

সাঘাটায় অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, ড্রেজার মেশিন ও সরঞ্জাম জব্দ

Verified by MonsterInsights

গফরগাঁওয়ে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনে ৫ শতাধিক ঘরবাড়ি ব্রহ্মপু্ত্রের গর্ভে বিলীন হওয়ার সম্ভাবনা

আপলোডের সময় : 08:32:59 pm, Wednesday, 9 September 2026

 

ময়মনসিংহের দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানাধীন বাঁশিয়া বাজার থেকে ৮নং টাংগাব ইউনিয়নের দক্ষিণ শেষ সীমানা টোক চাঁনপুর ঘাট পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ শতাধিক পরিবারকে রক্ষা, শত শত একর ফসলী জমি ও কে.বি. ইসমাইল খান সড়ককে নদের ভাঙ্গণের কবল থেকে রক্ষার জন্য এলাকাবাসী ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক বরাবর গত ৮ সেপ্টেম্বর একটি আবেদন করেছেন।

এই আবেদনের অনুলিপি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এবং ময়মনসিংহ জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি,গফরগাঁও ও দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা আসন থেকে নির্বাচিত এমপি মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান বাচ্চু, ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, অধিনায়ক RAB-14, পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলী, পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), দক্ষিন গফরগাঁও উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি), অফিসার ইনচার্জ পাগলা থানা,টাংগাব ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট আরও অনেকেই দেওয়া হয়েছে।

আবেদনে বলা হয়েছে ময়মনসিংহ জেলার নবগঠিত দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানাধীন বাঁশিয়া বাজার থেকে ৮নং টাংগাব ইউনিয়নের দক্ষিণ শেষ সীমানা টোক চাঁনপুর ঘাট পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে প্রতিনিয়ত বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

এতে উল্লেখিত এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থিত ৫ শতাধিক পরিবারের বাড়ীঘর হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে যেকোন মুহুর্তে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে ঘরবাড়ি নদগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী এলাকায় অবস্থিত শত শত একর ফসলী জমি নদগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার উপক্রম সৃষ্টি হয়েছে। এতে নিরীহ কৃষকরা নিদারুন কষ্টে পতিত হবে।

ময়মনসিংহ থেকে দক্ষিণ গফরগাঁও টোক চাঁনপুর ঘাট পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদের তীরঘেষা কে.বি. ইসমাইল খান সড়কটি অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। বালু উত্তোলন বন্ধ করা না হলে এই সড়কটি ব্রহ্মপুত্র নদগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। এতে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ভয়াবহ দুর্দশা ও দূর্ভোগ নেমে আসবে।

এ ছাড়াও ব্রহ্মপুত্র ও কালিবানার মোহনায় স্থাপিত ব্রীজটিও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে ঝুঁকিতে পড়ে গেছে। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে জনস্বার্থে নির্মিত এই ব্রীজটিও ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম সৃষ্টি হয়েছে।

এ থেকে পরিত্রাণ এবং অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতঃ নিরীহ এলাকাবাসীকে সমূহ ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আবেদনকারীগণ বিষয়টি আমলে নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে জনগণের ঘরবাড়ি রক্ষা, ফসলী জমি রক্ষা, কে.বি. ইসমাইল খান সড়ক রক্ষা ও ব্রহ্মপুত্র এবং কালিবানার মোহনায় স্থাপিত ব্রীজটিকে রক্ষার জন্য আশু ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন।