চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষার ফল জালিয়াতির অভিযোগ: তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে ফের জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদনের প্রেক্ষিতে উত্তরপত্র যাচাই করতে গিয়ে দেখা গেছে, খাতায় শূন্য নম্বর পাওয়া সত্ত্বেও প্রকাশিত ফলাফলে ওই শিক্ষার্থীকে ৪৫ নম্বর দেওয়া হয়েছে। এই অসংগতি ধরা পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, নগরের একটি বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের সময় এই জালিয়াতি প্রথম নজরে আসে। ওই শিক্ষার্থী পদার্থবিজ্ঞান, উচ্চতর গণিত এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়—এই তিনটি বিষয়ের ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছিল। প্রতিটি বিষয়ের খাতা যাচাই করতে গিয়েই খাতায় প্রাপ্ত নম্বরের সাথে প্রকাশিত ফলাফলের অমিল পাওয়া যায়। এরপর ওই শিক্ষার্থীর অন্যান্য বিষয়ের উত্তরপত্রও তলব করে যাচাই করা হয়, যেখানে একই ধরনের অসংগতি শনাক্ত হয়েছে।

এই ঘটনার কারণ ও এর সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করতে গত ২৫ আগস্ট তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে শিক্ষা বোর্ড। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বোর্ডের সচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ জহিরুল হক স্বপনকে। এছাড়া সদস্য হিসেবে আছেন উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (উচ্চমাধ্যমিক) অধ্যাপক মোহাম্মদ দিদারুল আলম এবং সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) মোহাম্মদ আবদুল আজিজ। তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর নির্বাচনী পরীক্ষার ফলাফলও সংগ্রহ করেছে কমিটি, যা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বোর্ডে জমা দিয়েছে।

তদন্ত কমিটির প্রধান ও বোর্ডের সচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ জহিরুল হক স্বপন জানান, বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে এবং কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। প্রতিবেদন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়ার পর বিস্তারিত জানানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

উল্লেখ্য, চলতি বছর চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষায় ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল, যার মধ্যে ৭৭ হাজার ৪৫৩ জন পাস করেছে এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৩৯৮ জন। মোট ৩৯ হাজার ৭৯৮ জন শিক্ষার্থী ফলাফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছিল।

শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের মতে, পরীক্ষার হল থেকে উত্তরপত্রের প্রথম অংশ কম্পিউটার সেন্টারে পাঠিয়ে স্ক্যান করে সার্ভারে রাখা হয়। পরবর্তীতে প্রধান পরীক্ষকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত নম্বর সার্ভারে যুক্ত করা হয়। ফলাফল প্রকাশের কয়েক দিন আগে নম্বর মিলিয়ে চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণ করা হয়, আর এই পর্যায়েই শিক্ষার্থীর পরিচয় জানা সম্ভব হয়, যা নম্বর পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি করে দেয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বোর্ডের তিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগের জালিয়াতিগুলোতে কম্পিউটার ও পরীক্ষা শাখার একটি চক্রের সম্পৃক্ততা ছিল, এবারও কম্পিউটার শাখার বিষয়ে কিছু প্রমাণ পাওয়া গেছে।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ফলাফল জালিয়াতির ঘটনা এটিই প্রথম নয়। গত বছর এসএসসি পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণের সময় ৩৪টি খাতার নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। সে সময় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অভিযান পরিচালনা করলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এছাড়া ২০২৩ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় সাবেক সচিব অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র নাথের ছেলের ১১টি পত্রের নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে, যা নিয়ে মামলা চলমান এবং গত মাসে চার্জশিট দাখিল হয়েছে। যদিও সাবেক সচিব নারায়ণ চন্দ্র নাথ দাবি করেছেন, তাঁকে ও তাঁর ছেলেকে এই ঘটনায় ফাঁসানো হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অথচ প্রকাশিত ফলাফলে ওই অংশে ৪৫ নম্বর দেখানো হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বারবার অভিযোগ, তবু ধরা পড়ে না ‘চক্র’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা চেয়ারম্যানকে লিখিতভাবে অবহিত করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেগুলো স্ক্যান করে আগেই সার্ভারে সংরক্ষণ করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এরপরই নম্বর পরিবর্তন করার সুযোগ থাকে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সুতরাং বিস্তারিত কিছু বলা যাবে না এখনই।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাঘাটায় অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, ড্রেজার মেশিন ও সরঞ্জাম জব্দ

Verified by MonsterInsights

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষার ফল জালিয়াতির অভিযোগ: তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি

আপলোডের সময় : 10:05:58 am, Friday, 11 September 2026

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে ফের জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদনের প্রেক্ষিতে উত্তরপত্র যাচাই করতে গিয়ে দেখা গেছে, খাতায় শূন্য নম্বর পাওয়া সত্ত্বেও প্রকাশিত ফলাফলে ওই শিক্ষার্থীকে ৪৫ নম্বর দেওয়া হয়েছে। এই অসংগতি ধরা পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, নগরের একটি বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের সময় এই জালিয়াতি প্রথম নজরে আসে। ওই শিক্ষার্থী পদার্থবিজ্ঞান, উচ্চতর গণিত এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়—এই তিনটি বিষয়ের ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছিল। প্রতিটি বিষয়ের খাতা যাচাই করতে গিয়েই খাতায় প্রাপ্ত নম্বরের সাথে প্রকাশিত ফলাফলের অমিল পাওয়া যায়। এরপর ওই শিক্ষার্থীর অন্যান্য বিষয়ের উত্তরপত্রও তলব করে যাচাই করা হয়, যেখানে একই ধরনের অসংগতি শনাক্ত হয়েছে।

এই ঘটনার কারণ ও এর সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করতে গত ২৫ আগস্ট তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে শিক্ষা বোর্ড। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বোর্ডের সচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ জহিরুল হক স্বপনকে। এছাড়া সদস্য হিসেবে আছেন উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (উচ্চমাধ্যমিক) অধ্যাপক মোহাম্মদ দিদারুল আলম এবং সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) মোহাম্মদ আবদুল আজিজ। তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর নির্বাচনী পরীক্ষার ফলাফলও সংগ্রহ করেছে কমিটি, যা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বোর্ডে জমা দিয়েছে।

তদন্ত কমিটির প্রধান ও বোর্ডের সচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ জহিরুল হক স্বপন জানান, বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে এবং কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। প্রতিবেদন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়ার পর বিস্তারিত জানানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

উল্লেখ্য, চলতি বছর চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষায় ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল, যার মধ্যে ৭৭ হাজার ৪৫৩ জন পাস করেছে এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৩৯৮ জন। মোট ৩৯ হাজার ৭৯৮ জন শিক্ষার্থী ফলাফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছিল।

শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের মতে, পরীক্ষার হল থেকে উত্তরপত্রের প্রথম অংশ কম্পিউটার সেন্টারে পাঠিয়ে স্ক্যান করে সার্ভারে রাখা হয়। পরবর্তীতে প্রধান পরীক্ষকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত নম্বর সার্ভারে যুক্ত করা হয়। ফলাফল প্রকাশের কয়েক দিন আগে নম্বর মিলিয়ে চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণ করা হয়, আর এই পর্যায়েই শিক্ষার্থীর পরিচয় জানা সম্ভব হয়, যা নম্বর পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি করে দেয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বোর্ডের তিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগের জালিয়াতিগুলোতে কম্পিউটার ও পরীক্ষা শাখার একটি চক্রের সম্পৃক্ততা ছিল, এবারও কম্পিউটার শাখার বিষয়ে কিছু প্রমাণ পাওয়া গেছে।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ফলাফল জালিয়াতির ঘটনা এটিই প্রথম নয়। গত বছর এসএসসি পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণের সময় ৩৪টি খাতার নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। সে সময় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অভিযান পরিচালনা করলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এছাড়া ২০২৩ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় সাবেক সচিব অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র নাথের ছেলের ১১টি পত্রের নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে, যা নিয়ে মামলা চলমান এবং গত মাসে চার্জশিট দাখিল হয়েছে। যদিও সাবেক সচিব নারায়ণ চন্দ্র নাথ দাবি করেছেন, তাঁকে ও তাঁর ছেলেকে এই ঘটনায় ফাঁসানো হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অথচ প্রকাশিত ফলাফলে ওই অংশে ৪৫ নম্বর দেখানো হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বারবার অভিযোগ, তবু ধরা পড়ে না ‘চক্র’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা চেয়ারম্যানকে লিখিতভাবে অবহিত করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেগুলো স্ক্যান করে আগেই সার্ভারে সংরক্ষণ করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এরপরই নম্বর পরিবর্তন করার সুযোগ থাকে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সুতরাং বিস্তারিত কিছু বলা যাবে না এখনই।