অভয়নগরে চরমপন্থী বাহারুল হত্যাকাণ্ডে ৩ লক্ষ ভাড়াটে খুনি আশরাফুল আটক

যশোরের অভয়নগর উপজেলার রানাগাতি মধ্যপাড়ায় চরমপন্থী বাহারুল মল্লিক হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে ডিবি পুলিশ। পারিবারিক বিরোধের জের ধরে আপন ছোটভাই মামুন মল্লিক ৩ লাখ টাকা চুক্তিতে ভাড়াটে কিলার দিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।
আর হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া মূল কিলার আশরাফুল ইসলাম ছিলেন খোদ বাহারুল মল্লিকেরই একমাত্র ঘনিষ্ঠ সহযোগী। ১০ সেপ্টেম্বর আশরাফুল ইসলাম আদালতে এ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
গত ৯ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে খুলনার ফুলতলা উপজেলার দক্ষিণ দিহি গ্রাম থেকে কিলার আশরাফুল ইসলামকে আটক করে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। আটক আশরাফুল ওই গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে।
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর সকালে রানাগাতি মধ্যপাড়ার একটি বাগান থেকে বাহারুল মল্লিকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বড়ভাই বিল্লাল মল্লিক অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে অভয়নগর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটির মূল তদন্ত করছেন অভয়নগর থানার এসআই নাসির।
ডিবি পুলিশের এসআই শিবু মন্ডল ও এসআই কামাল হোসেন জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে কিলার শনাক্তের পর আশরাফুলকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আশরাফুল জানান, নিহতের ছোটভাই মামুন মল্লিক তাকে ৩ লাখ টাকার চেক দিয়ে হত্যার চুক্তি করেন। টাকা উত্তোলনের পর ৬ সেপ্টেম্বর রাতে কৌশলে বাহারুলকে বাগানে ডেকে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় তার সঙ্গে আরও তিনজন অংশ নেন।
জিজ্ঞাসাবাদে আশরাফুল আরও জানান, পিতা আব্দুর রশিদের ২৫-৩০ বিঘা জমির ভাগের দাবিতে প্রায়ই বাড়িতে এসে পিতা ও ভাইদের মারধর করতেন চরমপন্থী বাহারুল। সেই অত্যাচারের হাত থেকে রেহাই পেতেই ছোটভাই মামুন এই চরম পথ বেছে নেন।
ডিবি পুলিশ জানায়, ঘটনায় জড়িত মূল পরিকল্পনাকারী মামুন মল্লিক বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তাকে আটকের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

আইজিপির বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলো পুলিশ সদরদফতর, ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে

Verified by MonsterInsights

অভয়নগরে চরমপন্থী বাহারুল হত্যাকাণ্ডে ৩ লক্ষ ভাড়াটে খুনি আশরাফুল আটক

আপলোডের সময় : 10:59:38 pm, Saturday, 12 September 2026

যশোরের অভয়নগর উপজেলার রানাগাতি মধ্যপাড়ায় চরমপন্থী বাহারুল মল্লিক হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে ডিবি পুলিশ। পারিবারিক বিরোধের জের ধরে আপন ছোটভাই মামুন মল্লিক ৩ লাখ টাকা চুক্তিতে ভাড়াটে কিলার দিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।
আর হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া মূল কিলার আশরাফুল ইসলাম ছিলেন খোদ বাহারুল মল্লিকেরই একমাত্র ঘনিষ্ঠ সহযোগী। ১০ সেপ্টেম্বর আশরাফুল ইসলাম আদালতে এ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
গত ৯ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে খুলনার ফুলতলা উপজেলার দক্ষিণ দিহি গ্রাম থেকে কিলার আশরাফুল ইসলামকে আটক করে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। আটক আশরাফুল ওই গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে।
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর সকালে রানাগাতি মধ্যপাড়ার একটি বাগান থেকে বাহারুল মল্লিকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বড়ভাই বিল্লাল মল্লিক অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে অভয়নগর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটির মূল তদন্ত করছেন অভয়নগর থানার এসআই নাসির।
ডিবি পুলিশের এসআই শিবু মন্ডল ও এসআই কামাল হোসেন জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে কিলার শনাক্তের পর আশরাফুলকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আশরাফুল জানান, নিহতের ছোটভাই মামুন মল্লিক তাকে ৩ লাখ টাকার চেক দিয়ে হত্যার চুক্তি করেন। টাকা উত্তোলনের পর ৬ সেপ্টেম্বর রাতে কৌশলে বাহারুলকে বাগানে ডেকে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় তার সঙ্গে আরও তিনজন অংশ নেন।
জিজ্ঞাসাবাদে আশরাফুল আরও জানান, পিতা আব্দুর রশিদের ২৫-৩০ বিঘা জমির ভাগের দাবিতে প্রায়ই বাড়িতে এসে পিতা ও ভাইদের মারধর করতেন চরমপন্থী বাহারুল। সেই অত্যাচারের হাত থেকে রেহাই পেতেই ছোটভাই মামুন এই চরম পথ বেছে নেন।
ডিবি পুলিশ জানায়, ঘটনায় জড়িত মূল পরিকল্পনাকারী মামুন মল্লিক বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তাকে আটকের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।