ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের নৈশভোজে নিরামিষ মেনু নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক

ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন উপলক্ষে আয়োজিত এক জমকালো নৈশভোজে পরিবেশিত খাবার নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। গত ১২ সেপ্টেম্বর (শনিবার) সন্ধ্যায় আয়োজিত এই নৈশভোজে বিশ্বনেতাদের জন্য সম্পূর্ণ নিরামিষ মেনু রাখা হয়, যেখানে ১০টিরও বেশি ভিন্ন ধরনের পদ ছিল। এই ঘটনাটি নিয়ে কংগ্রেস নেতারা অভিযোগ তুলেছেন যে, সরকার কৌশলে বিশ্বের ওপর নিরামিষভোজী খাদ্যাভ্যাস চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বিষয়টি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি তার পোস্টে উল্লেখ করেন, রেকর্ডের জন্য বলছি, প্রায় ৮০ শতাংশ ভারতীয় আমিষভোজী। অন্যদিকে, অল ইন্ডিয়া মজলিস-এ-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের নেতা ওয়ারিস পাঠানও এ নিয়ে সরব হয়েছেন। তিনি ভারতের বৈচিত্র্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, আপনি যদি নিরামিষভোজী হওয়ার প্রচার চালাতে চান, তবে তা অবশ্যই করতে পারেন। তবে খাবারের মেনুতে মাটন বা চিকেনের অনুপস্থিতি নিয়ে তিনি বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরোধীদের প্রতি করা ‘নারাজ ফুফা’ মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে এনে সরকারপক্ষের দিকে পালটা কটাক্ষ ছুড়ে দেন।

কংগ্রেস ও অন্যান্য বিরোধী নেতাদের এমন মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ, একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আয়োজনের মূল বিষয়বস্তু বা নীতিগত আলোচনার চেয়ে খাবার নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করে কংগ্রেস ঘটনাটিকে খাটো করে দেখছে। বিজেপির মতে, বৈশ্বিক মঞ্চে ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে উত্থানে কংগ্রেস সম্ভবত সন্তুষ্ট নয়। তাই গঠনমূলক কোনো সমালোচনা করতে না পেরে তারা নৈশভোজের মেনু নিয়ে হাস্যকর বিতর্ক তৈরি করছে।

বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র তুহিন সিনহা এ বিষয়ে বলেন, রাহুল গান্ধীর মন্তব্য তার নিজস্ব মানসিকতা এবং দলের সংকীর্ণ চিন্তারই বহিঃপ্রকাশ। তিনি আরও দাবি করেন, যদি দেশে দায়িত্বশীল ও বিচক্ষণ কোনো বিরোধীদলীয় নেতৃত্ব থাকতেন, তবে আজ তারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ভারতকে বিশ্বমঞ্চে এই সফল আয়োজনের জন্য অভিনন্দন জানাতেন। সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর তথ্যানুযায়ী, পুরো বিষয়টি নিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলে চলছে তীব্র তর্ক-বিতর্ক। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গতকালের আয়োজনে সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিশ্বনেতাদের জন্য পুরোপুরি নিরামিষ খাবার পরিবেশন করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শুরুতে ছিল খুম্ব গালাউটি, আর মিষ্টির তালিকায় ছিল শাহদূত ফিরনি ও জিলাপির সঙ্গে ফ্রুট ক্রিম। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে মূল খাবারের সব পদই ছিল নিরামিষ—পনির, মাশরুম, মিলেট পোলাও ও বিটরুট রায়তা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এসব খাবারে নতুন ও বৈচিত্র্যময় উপকরণও ব্যবহার করা হয়েছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কংগ্রেস নেতা পবন খেরা এক্সে লিখেছেন, ‘সহদেশীয়দের ওপর নিজেদের পছন্দের খাবার চাপিয়ে দেয়ার বিজেপির অভ্যাস এমনিতেই গভীরভাবে সমস্যাজনক। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এখন তারা আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অতিথিদের ওপরও নিজেদের পছন্দ চাপিয়ে দিয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওয়ারিস পাঠান বলেন, ‘আমরা ভারতের বৈচিত্র্য নিয়ে অনেক কথা বলি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু এই মেনু সেই বৈচিত্র্যকেই যেন মুছে দিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাঘাটায় অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, ড্রেজার মেশিন ও সরঞ্জাম জব্দ

Verified by MonsterInsights

ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের নৈশভোজে নিরামিষ মেনু নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক

আপলোডের সময় : 11:20:34 am, Monday, 14 September 2026

ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন উপলক্ষে আয়োজিত এক জমকালো নৈশভোজে পরিবেশিত খাবার নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। গত ১২ সেপ্টেম্বর (শনিবার) সন্ধ্যায় আয়োজিত এই নৈশভোজে বিশ্বনেতাদের জন্য সম্পূর্ণ নিরামিষ মেনু রাখা হয়, যেখানে ১০টিরও বেশি ভিন্ন ধরনের পদ ছিল। এই ঘটনাটি নিয়ে কংগ্রেস নেতারা অভিযোগ তুলেছেন যে, সরকার কৌশলে বিশ্বের ওপর নিরামিষভোজী খাদ্যাভ্যাস চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বিষয়টি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি তার পোস্টে উল্লেখ করেন, রেকর্ডের জন্য বলছি, প্রায় ৮০ শতাংশ ভারতীয় আমিষভোজী। অন্যদিকে, অল ইন্ডিয়া মজলিস-এ-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের নেতা ওয়ারিস পাঠানও এ নিয়ে সরব হয়েছেন। তিনি ভারতের বৈচিত্র্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, আপনি যদি নিরামিষভোজী হওয়ার প্রচার চালাতে চান, তবে তা অবশ্যই করতে পারেন। তবে খাবারের মেনুতে মাটন বা চিকেনের অনুপস্থিতি নিয়ে তিনি বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরোধীদের প্রতি করা ‘নারাজ ফুফা’ মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে এনে সরকারপক্ষের দিকে পালটা কটাক্ষ ছুড়ে দেন।

কংগ্রেস ও অন্যান্য বিরোধী নেতাদের এমন মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ, একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আয়োজনের মূল বিষয়বস্তু বা নীতিগত আলোচনার চেয়ে খাবার নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করে কংগ্রেস ঘটনাটিকে খাটো করে দেখছে। বিজেপির মতে, বৈশ্বিক মঞ্চে ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে উত্থানে কংগ্রেস সম্ভবত সন্তুষ্ট নয়। তাই গঠনমূলক কোনো সমালোচনা করতে না পেরে তারা নৈশভোজের মেনু নিয়ে হাস্যকর বিতর্ক তৈরি করছে।

বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র তুহিন সিনহা এ বিষয়ে বলেন, রাহুল গান্ধীর মন্তব্য তার নিজস্ব মানসিকতা এবং দলের সংকীর্ণ চিন্তারই বহিঃপ্রকাশ। তিনি আরও দাবি করেন, যদি দেশে দায়িত্বশীল ও বিচক্ষণ কোনো বিরোধীদলীয় নেতৃত্ব থাকতেন, তবে আজ তারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ভারতকে বিশ্বমঞ্চে এই সফল আয়োজনের জন্য অভিনন্দন জানাতেন। সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর তথ্যানুযায়ী, পুরো বিষয়টি নিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলে চলছে তীব্র তর্ক-বিতর্ক। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গতকালের আয়োজনে সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিশ্বনেতাদের জন্য পুরোপুরি নিরামিষ খাবার পরিবেশন করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শুরুতে ছিল খুম্ব গালাউটি, আর মিষ্টির তালিকায় ছিল শাহদূত ফিরনি ও জিলাপির সঙ্গে ফ্রুট ক্রিম। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে মূল খাবারের সব পদই ছিল নিরামিষ—পনির, মাশরুম, মিলেট পোলাও ও বিটরুট রায়তা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এসব খাবারে নতুন ও বৈচিত্র্যময় উপকরণও ব্যবহার করা হয়েছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কংগ্রেস নেতা পবন খেরা এক্সে লিখেছেন, ‘সহদেশীয়দের ওপর নিজেদের পছন্দের খাবার চাপিয়ে দেয়ার বিজেপির অভ্যাস এমনিতেই গভীরভাবে সমস্যাজনক। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এখন তারা আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অতিথিদের ওপরও নিজেদের পছন্দ চাপিয়ে দিয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওয়ারিস পাঠান বলেন, ‘আমরা ভারতের বৈচিত্র্য নিয়ে অনেক কথা বলি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু এই মেনু সেই বৈচিত্র্যকেই যেন মুছে দিয়েছে।