
তীব্র অর্থসংকটের কারণ দেখিয়ে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে গাজার ২০টির বেশি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডিজেল সরবরাহ বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এই সিদ্ধান্তের ফলে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার নাজুক স্বাস্থ্যখাত চূড়ান্ত বিপর্যয়ের মুখে পড়তে যাচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বুরশ। এক ভিডিও বার্তায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, বর্তমানে যে সীমিত জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে, কোনোমতে তা দিয়েই চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো সচল রাখা হচ্ছে।
মুনির আল-বুরশ সতর্ক করে বলেন, জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে কেবল হাসপাতালের জেনারেটরগুলোই অচল হবে না, বরং এর ভয়াবহ প্রভাব পড়বে পুরো চিকিৎসা ব্যবস্থায়। বিশেষ করে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ও অস্ত্রোপচারকক্ষগুলোর কার্যক্রম পুরোপুরি থমকে যাবে। এর ফলে ভেন্টিলেটর ও অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে পড়বে, যা ইনকিউবেটরে থাকা নবজাতক, ডায়ালাইসিস রোগী এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত মুমূর্ষু ব্যক্তিদের জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেবে।
পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্স সেবা এবং জরুরি ওষুধ ও টিকা সংরক্ষণের কোল্ড চেইন ব্যবস্থাও অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আল-বুরশের মতে, এটি কেবল সাময়িক জ্বালানি সংকট নয়, বরং চিকিৎসা সেবাকে পুরোপুরি পঙ্গু করে দেওয়ার মতো একটি পদক্ষেপ, যা প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুর হার বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি এড়াতে ডব্লিউএইচও এবং আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোর প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। তবে এ বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর মধ্যেই ডিজেল সরবরাহ বন্ধের সিদ্ধান্ত নতুন সংকট তৈরি করবে এবং গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর চাপ আরো বাড়াবে।
প্রতিনিধির নাম 

























