ছয় দিন পর সাগরে সফল ট্রলার

দীর্ঘ সময় সাগরে কাটিয়ে কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীর নুনিয়াছটা ঘাটে ফিরেছে এফভি কুলসুমা নামের একটি মাছ ধরার ট্রলার। গত সোমবার সকালে ঘাটে নোঙর করার পর থেকেই ট্রলারের জেলেরা ব্যস্ত হয়ে পড়েন মাছ খালাসের কাজে। ঝুড়িতে ভরে ইলিশসহ পোপা, মাইট্যা ও রুপচাঁদা মাছ ফিশারিঘাটের পাইকারি মৎস্য অবতরণকেন্দ্রে তোলা হয়। ট্রলারের মালিক নুনিয়াছটার বাসিন্দা আমান উল্লাহ জানান, টানা ছয় দিন সাগরে ভেসে থেকে শেষ মুহূর্তে তাঁরা আশাতীত মাছ পেয়েছেন।

ফিশারিঘাটে আনার পর ব্যবসায়ীরা ট্রলারের মোট ২ হাজার ২০০টি ইলিশ ২৬ লাখ ৪০ হাজার টাকায় কিনে নেন। প্রতিটি ইলিশের ওজন ছিল ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রামের মধ্যে। শ্রমিকেরা বরফমিশ্রিত কার্টনে এসব ইলিশ সাজিয়ে দুপুরের মধ্যেই ঢাকার উদ্দেশ্যে ট্রাকে পাঠিয়ে দেন। ট্রলারের ১২ জন জেলে জানিয়েছেন, মাছ বিক্রির লভ্যাংশ থেকে প্রত্যেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকা করে পাবেন। যদিও এক মৌসুমের খোরাকির তুলনায় এই আয় যথেষ্ট নয়, তবুও চরম মন্দার বাজারে এটি তাঁদের জন্য স্বস্তির সংবাদ।

আমান উল্লাহ জানান, গত তিন মাস ধরে বঙ্গোপসাগরে মাছের চরম আকাল চলছিল। ঘন ঘন নিম্নচাপ ও লঘুচাপের কারণে গত দুই মাস জেলেরা সাগরে নামতেই পারেননি। তবে গত কয়েক দিন ধরে কিছু ট্রলার মাছের দেখা পাচ্ছে। মহেশখালীর তাজিয়াকাটা থেকে ১০-১২ কিলোমিটার দূরে জাল ফেলেই তাঁরা এই ইলিশ পেয়েছেন। তবে ছোট ট্রলারে গভীর সাগরে ৮০-৯০ কিলোমিটার দূরে গিয়ে মাছ ধরা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় অধিকাংশ জেলে এখন বিপাকে পড়েছেন।

কক্সবাজার ফিশিংবোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেনের ভাষ্যমতে, জেলায় ছোট-বড় প্রায় ৬ হাজার ট্রলারের মধ্যে ৪ হাজারই বর্তমানে ঘাটে বসে আছে। বাকি ২ হাজার ট্রলার সাগরে গেলেও মাছের অভাবে লোকসানের মুখে পড়ছে। ট্রিপে প্রতি ট্রলারের ৬-৭ লাখ টাকা খরচ হলেও অনেক সময় ১ থেকে ৩ লাখ টাকার মাছ পাওয়া যায় না। এতে বহু মালিক ট্রলার বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা ১ লাখ ২০ হাজার জেলের জীবিকাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

বাজারে আসা অন্যান্য ব্যবসায়ীরা জানান, গত কয়েক দিনে তিন শতাধিক ট্রলার ঘাটে ফিরলেও গড়ে প্রতিটি ট্রলারে ২০০ থেকে ৩০০টি ইলিশ মিলেছে। এফভি কুলসুমাতেই সবচেয়ে বেশি ইলিশ ধরা পড়েছে। অবতরণকেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের গত আড়াই মাসে ৫০০ মেট্রিক টন ইলিশও আহরণ হয়নি। যেখানে এর আগের অর্থবছরে মোট ইলিশের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৬২৮ টন এবং মাছের মোট অবতরণ ছিল ৫ হাজার ৬৫৮ টন। গত দশ বছরের পরিসংখ্যান বলছে, মাছ আহরণের হার বেশিরভাগ সময়েই নিম্নমুখী।

সামুদ্রিক মৎস্য গবেষণাকেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আশরাফুল হক জানান, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত তাপমাত্রা বৃদ্ধি, সামুদ্রিক দূষণ ও নদীর উপকূলে ছড়িয়ে থাকা প্লাস্টিক মাছের প্রজনন ও বিচরণকে বাধাগ্রস্ত করছে। এছাড়া ক্ষতিকর জালের ব্যবহার মাছের পোনা নিধনে ভূমিকা রাখছে। সাগরে মজুত মাছের তুলনায় আহরণের পরিমাণ বেশি হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদী সংকট দেখা দিয়েছে। গত অর্থবছরে ২০ হাজার মেট্রিক টনের বেশি ইলিশ আহরণ হলেও চলতি বছরে তা আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে বলে তথ্য দিচ্ছে মৎস্য বিভাগ।

ফিশারিঘাটে বর্তমানে প্রতি কেজি ১ কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার থেকে ২ হাজার ১০০ টাকায়, ৮০০-৯০০ গ্রামের ইলিশ ১ হাজার ৭০০ টাকায়, ৫০০-৭০০ গ্রামের ইলিশ ১ হাজার ২০০-১ হাজার ২৫০ টাকায় এবং ৩০০-৪০০ গ্রামের ইলিশ ৬৫০-৭৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মাঝারি আকারের ইলিশগুলোর পেটে ডিম থাকার বিষয়টি ব্যবসায়ীদের ভাবিয়ে তুলেছে। টেকনাফ, সেন্ট মার্টিন, মহেশখালী ও কুতুবদিয়াসহ জেলার বিভিন্ন ঘাটে সামুদ্রিক মাছের এমন বেচাবিক্রি অব্যাহত রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এফভি কুলসুমা ট্রলারের মালিক শহরের নুনিয়াছটার বাসিন্দা আমান উল্লাহ(৫৪)। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, টানা পাঁচ দিন ট্রলারের ১২ জন জেলে সাগরের বিভিন্ন এলাকায় জাল ফেলে ইলিশের নাগাল পাননি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গতকাল সোমবার সকাল আটটার দিকে দীর্ঘ সাত দিন সাগরে কাটিয়ে ফিরে আসে ট্রলারটি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফিশারিঘাটে গতকাল ২৭ জন মাছ ব্যবসায়ীকে পাওয়া গেল, যাঁরা ইলিশ কিনে বরফ দিয়ে ঢাকায় পাঠাচ্ছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাতে ট্রলারের মালিক ও জেলেশ্রমিক উভয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এসব খেয়ে বা জালে জড়িয়ে মাছ-চিংড়ি কাছিমসহ সামুদ্রিক প্রাণী মারা যাচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কক্সবাজার মৎস্য অবতরণকেন্দ্রের দেওয়া তথ্যমতে, পাইকারি মাছ বিক্রির এই বাজারে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট মাছ অবতরণ হয়েছে ২ হাজার ৩৯ মেট্রিক টন।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাঘাটায় অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, ড্রেজার মেশিন ও সরঞ্জাম জব্দ

Verified by MonsterInsights

ছয় দিন পর সাগরে সফল ট্রলার

আপলোডের সময় : 09:57:21 am, Tuesday, 15 September 2026

দীর্ঘ সময় সাগরে কাটিয়ে কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীর নুনিয়াছটা ঘাটে ফিরেছে এফভি কুলসুমা নামের একটি মাছ ধরার ট্রলার। গত সোমবার সকালে ঘাটে নোঙর করার পর থেকেই ট্রলারের জেলেরা ব্যস্ত হয়ে পড়েন মাছ খালাসের কাজে। ঝুড়িতে ভরে ইলিশসহ পোপা, মাইট্যা ও রুপচাঁদা মাছ ফিশারিঘাটের পাইকারি মৎস্য অবতরণকেন্দ্রে তোলা হয়। ট্রলারের মালিক নুনিয়াছটার বাসিন্দা আমান উল্লাহ জানান, টানা ছয় দিন সাগরে ভেসে থেকে শেষ মুহূর্তে তাঁরা আশাতীত মাছ পেয়েছেন।

ফিশারিঘাটে আনার পর ব্যবসায়ীরা ট্রলারের মোট ২ হাজার ২০০টি ইলিশ ২৬ লাখ ৪০ হাজার টাকায় কিনে নেন। প্রতিটি ইলিশের ওজন ছিল ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রামের মধ্যে। শ্রমিকেরা বরফমিশ্রিত কার্টনে এসব ইলিশ সাজিয়ে দুপুরের মধ্যেই ঢাকার উদ্দেশ্যে ট্রাকে পাঠিয়ে দেন। ট্রলারের ১২ জন জেলে জানিয়েছেন, মাছ বিক্রির লভ্যাংশ থেকে প্রত্যেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকা করে পাবেন। যদিও এক মৌসুমের খোরাকির তুলনায় এই আয় যথেষ্ট নয়, তবুও চরম মন্দার বাজারে এটি তাঁদের জন্য স্বস্তির সংবাদ।

আমান উল্লাহ জানান, গত তিন মাস ধরে বঙ্গোপসাগরে মাছের চরম আকাল চলছিল। ঘন ঘন নিম্নচাপ ও লঘুচাপের কারণে গত দুই মাস জেলেরা সাগরে নামতেই পারেননি। তবে গত কয়েক দিন ধরে কিছু ট্রলার মাছের দেখা পাচ্ছে। মহেশখালীর তাজিয়াকাটা থেকে ১০-১২ কিলোমিটার দূরে জাল ফেলেই তাঁরা এই ইলিশ পেয়েছেন। তবে ছোট ট্রলারে গভীর সাগরে ৮০-৯০ কিলোমিটার দূরে গিয়ে মাছ ধরা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় অধিকাংশ জেলে এখন বিপাকে পড়েছেন।

কক্সবাজার ফিশিংবোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেনের ভাষ্যমতে, জেলায় ছোট-বড় প্রায় ৬ হাজার ট্রলারের মধ্যে ৪ হাজারই বর্তমানে ঘাটে বসে আছে। বাকি ২ হাজার ট্রলার সাগরে গেলেও মাছের অভাবে লোকসানের মুখে পড়ছে। ট্রিপে প্রতি ট্রলারের ৬-৭ লাখ টাকা খরচ হলেও অনেক সময় ১ থেকে ৩ লাখ টাকার মাছ পাওয়া যায় না। এতে বহু মালিক ট্রলার বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা ১ লাখ ২০ হাজার জেলের জীবিকাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

বাজারে আসা অন্যান্য ব্যবসায়ীরা জানান, গত কয়েক দিনে তিন শতাধিক ট্রলার ঘাটে ফিরলেও গড়ে প্রতিটি ট্রলারে ২০০ থেকে ৩০০টি ইলিশ মিলেছে। এফভি কুলসুমাতেই সবচেয়ে বেশি ইলিশ ধরা পড়েছে। অবতরণকেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের গত আড়াই মাসে ৫০০ মেট্রিক টন ইলিশও আহরণ হয়নি। যেখানে এর আগের অর্থবছরে মোট ইলিশের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৬২৮ টন এবং মাছের মোট অবতরণ ছিল ৫ হাজার ৬৫৮ টন। গত দশ বছরের পরিসংখ্যান বলছে, মাছ আহরণের হার বেশিরভাগ সময়েই নিম্নমুখী।

সামুদ্রিক মৎস্য গবেষণাকেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আশরাফুল হক জানান, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত তাপমাত্রা বৃদ্ধি, সামুদ্রিক দূষণ ও নদীর উপকূলে ছড়িয়ে থাকা প্লাস্টিক মাছের প্রজনন ও বিচরণকে বাধাগ্রস্ত করছে। এছাড়া ক্ষতিকর জালের ব্যবহার মাছের পোনা নিধনে ভূমিকা রাখছে। সাগরে মজুত মাছের তুলনায় আহরণের পরিমাণ বেশি হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদী সংকট দেখা দিয়েছে। গত অর্থবছরে ২০ হাজার মেট্রিক টনের বেশি ইলিশ আহরণ হলেও চলতি বছরে তা আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে বলে তথ্য দিচ্ছে মৎস্য বিভাগ।

ফিশারিঘাটে বর্তমানে প্রতি কেজি ১ কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার থেকে ২ হাজার ১০০ টাকায়, ৮০০-৯০০ গ্রামের ইলিশ ১ হাজার ৭০০ টাকায়, ৫০০-৭০০ গ্রামের ইলিশ ১ হাজার ২০০-১ হাজার ২৫০ টাকায় এবং ৩০০-৪০০ গ্রামের ইলিশ ৬৫০-৭৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মাঝারি আকারের ইলিশগুলোর পেটে ডিম থাকার বিষয়টি ব্যবসায়ীদের ভাবিয়ে তুলেছে। টেকনাফ, সেন্ট মার্টিন, মহেশখালী ও কুতুবদিয়াসহ জেলার বিভিন্ন ঘাটে সামুদ্রিক মাছের এমন বেচাবিক্রি অব্যাহত রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এফভি কুলসুমা ট্রলারের মালিক শহরের নুনিয়াছটার বাসিন্দা আমান উল্লাহ(৫৪)। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, টানা পাঁচ দিন ট্রলারের ১২ জন জেলে সাগরের বিভিন্ন এলাকায় জাল ফেলে ইলিশের নাগাল পাননি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গতকাল সোমবার সকাল আটটার দিকে দীর্ঘ সাত দিন সাগরে কাটিয়ে ফিরে আসে ট্রলারটি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফিশারিঘাটে গতকাল ২৭ জন মাছ ব্যবসায়ীকে পাওয়া গেল, যাঁরা ইলিশ কিনে বরফ দিয়ে ঢাকায় পাঠাচ্ছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাতে ট্রলারের মালিক ও জেলেশ্রমিক উভয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এসব খেয়ে বা জালে জড়িয়ে মাছ-চিংড়ি কাছিমসহ সামুদ্রিক প্রাণী মারা যাচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কক্সবাজার মৎস্য অবতরণকেন্দ্রের দেওয়া তথ্যমতে, পাইকারি মাছ বিক্রির এই বাজারে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট মাছ অবতরণ হয়েছে ২ হাজার ৩৯ মেট্রিক টন।