
যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৪ সেপ্টেম্বর সোমবার দেশটিতে প্রতি গ্যালন ডিজেলের গড় মূল্য ৬ দশমিক ২৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। জ্বালানি তেলের এমন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার প্রভাব পড়েছে সাধারণ পেট্রোলের বাজারেও, যেখানে সোমবার প্রতি গ্যালনের গড় দাম ৪ দশমিক ৩১ ডলারে উন্নীত হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে হিসাব করলে সাধারণ জ্বালানির দাম ৪৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং একই সময়ে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে ৫০ শতাংশেরও বেশি।
জ্বালানি বাজারের এই অস্থিরতার মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে সৌদি আরবের একটি পাইপলাইন বন্ধ হওয়াকে। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় গত শুক্রবার ঘোষণা দেয় যে, সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে পাইপলাইনটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি সর্বোচ্চ ১০৮ ডলার এবং মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম ১০৩ ডলার পর্যন্ত স্পর্শ করেছে।
এই পরিস্থিতি সামাল দিতে কূটনৈতিক পর্যায়ে তৎপরতা চললেও তা ধীর গতির। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের স্বার্থে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও তেহরানের দাবি, রিয়াদের বিশেষ অনুরোধেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে পাইপলাইন বন্ধের প্রভাব পড়েছে সমুদ্রপথের চলাচলেও। দেখা গেছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। রবিবার মাত্র ১৪টি, শনিবার ১২টি, শুক্রবার ১১টি এবং বৃহস্পতিবার মাত্র ৯টি জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করেছে।
জ্বালানি তেলের দামের এই রেকর্ড বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। কেপিএমজির প্রধান অর্থনীতিবিদ ডায়ান সোয়াঙ্ক এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সতর্ক করে বলেছেন, ডিজেলের এই বাড়তি উৎপাদন খরচ বাজারের প্রায় সব ধরনের পণ্য ও সেবামূল্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, যা জনজীবনে বাড়তি চাপের সৃষ্টি করতে পারে।
প্রতিনিধির নাম 

























