
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর সম্প্রসারণের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানি থেকে আরও উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এর আগে গত ৩০ এপ্রিল বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে বিমান। এই চুক্তির আওতায় ১০টি ৭৮৭ ড্রিমলাইনার এবং ৪টি ৭৩৭ ম্যাক্স মডেলের উড়োজাহাজ আসার কথা রয়েছে, যার মোট বাজারমূল্য প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৪৫ হাজার কোটি টাকা। এই চুক্তির বাইরে আরও নতুন উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনার কথা সামনে আসায় নানামুখী আলোচনা চলছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশ কর্তৃক বোয়িং থেকে আরও বিমান কেনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠলেও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির স্পষ্ট করেছেন যে, কোনো বাহ্যিক চাপের কারণে নয়, বরং দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও প্রয়োজনীয়তা বিশ্লেষণ করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ইউরোপীয় নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসও বাংলাদেশকে ১০টি উড়োজাহাজ—যার মধ্যে ৬টি এ৩৫০-৯০০ এবং ৪টি এ৩২১ নিও—সরবরাহের প্রস্তাব দিয়ে রেখেছে।
দেশের অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের মতো সংস্থার সহায়তার প্রয়োজনীয়তার সময় এমন বিশাল বিনিয়োগের যৌক্তিকতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে এভিয়েশন খাতের বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশে বর্তমানে বছরে প্রায় এক কোটি যাত্রী চলাচল করে এবং আগামী এক দশকে এই সংখ্যা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম উল্লেখ করেন, অগ্রিম অর্ডারে উড়োজাহাজ সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়া সম্ভব। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ সক্ষমতা, পর্যাপ্ত পাইলট, প্রকৌশলী এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা না গেলে নতুন উড়োজাহাজগুলো উপকারের চেয়ে আর্থিক বোঝা হয়ে ওঠার ঝুঁকি রয়েছে।
এটিএম নজরুল ইসলামসহ অন্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাজারের ক্রমবর্ধমান চাহিদার সাথে তাল মেলাতে সক্ষমতা বৃদ্ধি জরুরি, তবে এর সাথে একটি সুচিন্তিত বাণিজ্যিক ও বিপণন কৌশল থাকা আবশ্যক। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতে ৭০ থেকে ৮০টি বা তার বেশি বড় উড়োজাহাজের প্রয়োজন হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদী এই চাহিদাকে সামনে রেখেই সরকার বর্তমান বিনিয়োগ পরিকল্পনা সাজাচ্ছে, যেখানে সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও জনবল নিশ্চিত করতে পারলে তা লাভজনক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রতিনিধির নাম 

























