সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রবাসীদের মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি ফেরত না

সৌদি আরবে মাদক চোরাচালানের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত একাধিক প্রবাসীর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর না করার ঘটনাটি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে ইথিওপিয়ার একাধিক পরিবার তাদের প্রিয়জনের মরদেহ ফেরত পাওয়ার অপেক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে প্রহর গুনছে। শোকাহত স্বজনরা কেবল ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে না পারার যন্ত্রণায় ব্যথিত নন, বরং প্রিয়জনকে শেষ বিদায় জানানোর ন্যূনতম মানবিক অধিকারটুকু থেকেও তারা বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

চলতি বছরের জুন মাসে সৌদি আরবে গাঁজা পাচারের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ ইথিওপিয়ান নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। নিহতদের মধ্যে ২৫ বছর বয়সী কিব্রম কিনফে আরেগাউই অন্যতম। কিব্রমের বাবা কিনফে আরেগাউই জানান, তাদের ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী কফিনে প্রিয়জনকে সমাহিত করার প্রথা রয়েছে, যা দীর্ঘদিনের এই প্রক্রিয়ার কারণে সম্ভব হচ্ছে না। তার মতে, সন্তানকে শেষবারের মতো দেখা ও ধর্মীয় রীতিতে বিদায় জানাতে না পারা তার জীবনের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী এবং গভীর কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৭ জুলাই পর্যন্ত বিগত এক বছরে সৌদি আরবে মোট ১১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। বিশ্বের মৃত্যুদণ্ড প্রদানকারী দেশগুলোর তালিকার শীর্ষ অবস্থানে থাকা চীন ও ইরানের পরেই সৌদি আরবের অবস্থান। ইউরোপিয়ান সৌদি অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটসের জ্যেষ্ঠ গবেষক এবং রিপ্রিভ মেনার কেসওয়ার্ক কনসালট্যান্ট দুয়া ধাইনির মতে, মরদেহ হস্তান্তর করতে অস্বীকার করাকে নিছক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির স্বজনদের ওপর এক ধরনের মানসিক নির্যাতন ও অতিরিক্ত শাস্তির শামিল।

মাদক সংক্রান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের কঠোর আইন এবং এর প্রেক্ষিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো নিয়মিত সমালোচনা করে আসছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মরদেহের স্বাভাবিক সৎকার বা শেষকৃত্য পালনের সুযোগ না দেওয়ার বিষয়টি বিতর্কের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। শোকার্ত পরিবারগুলোর দাবি, অপরাধ বা শাস্তি যাই হোক না কেন, প্রিয়জনের মৃত্যুর পর ধর্মীয় ও পারিবারিক মর্যাদা অনুযায়ী শেষকৃত্য পালনের অধিকারটুকু তাদের থাকা উচিত। বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো শুধু মরদেহ ফেরত পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে, যাতে তারা তাদের ধর্মীয় প্রথা পালন করে শোকের সমাপ্তি টানতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাঘাটায় অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, ড্রেজার মেশিন ও সরঞ্জাম জব্দ

Verified by MonsterInsights

সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রবাসীদের মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি ফেরত না

আপলোডের সময় : 11:15:14 am, Wednesday, 16 September 2026

সৌদি আরবে মাদক চোরাচালানের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত একাধিক প্রবাসীর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর না করার ঘটনাটি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে ইথিওপিয়ার একাধিক পরিবার তাদের প্রিয়জনের মরদেহ ফেরত পাওয়ার অপেক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে প্রহর গুনছে। শোকাহত স্বজনরা কেবল ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে না পারার যন্ত্রণায় ব্যথিত নন, বরং প্রিয়জনকে শেষ বিদায় জানানোর ন্যূনতম মানবিক অধিকারটুকু থেকেও তারা বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

চলতি বছরের জুন মাসে সৌদি আরবে গাঁজা পাচারের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ ইথিওপিয়ান নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। নিহতদের মধ্যে ২৫ বছর বয়সী কিব্রম কিনফে আরেগাউই অন্যতম। কিব্রমের বাবা কিনফে আরেগাউই জানান, তাদের ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী কফিনে প্রিয়জনকে সমাহিত করার প্রথা রয়েছে, যা দীর্ঘদিনের এই প্রক্রিয়ার কারণে সম্ভব হচ্ছে না। তার মতে, সন্তানকে শেষবারের মতো দেখা ও ধর্মীয় রীতিতে বিদায় জানাতে না পারা তার জীবনের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী এবং গভীর কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৭ জুলাই পর্যন্ত বিগত এক বছরে সৌদি আরবে মোট ১১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। বিশ্বের মৃত্যুদণ্ড প্রদানকারী দেশগুলোর তালিকার শীর্ষ অবস্থানে থাকা চীন ও ইরানের পরেই সৌদি আরবের অবস্থান। ইউরোপিয়ান সৌদি অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটসের জ্যেষ্ঠ গবেষক এবং রিপ্রিভ মেনার কেসওয়ার্ক কনসালট্যান্ট দুয়া ধাইনির মতে, মরদেহ হস্তান্তর করতে অস্বীকার করাকে নিছক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির স্বজনদের ওপর এক ধরনের মানসিক নির্যাতন ও অতিরিক্ত শাস্তির শামিল।

মাদক সংক্রান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের কঠোর আইন এবং এর প্রেক্ষিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো নিয়মিত সমালোচনা করে আসছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মরদেহের স্বাভাবিক সৎকার বা শেষকৃত্য পালনের সুযোগ না দেওয়ার বিষয়টি বিতর্কের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। শোকার্ত পরিবারগুলোর দাবি, অপরাধ বা শাস্তি যাই হোক না কেন, প্রিয়জনের মৃত্যুর পর ধর্মীয় ও পারিবারিক মর্যাদা অনুযায়ী শেষকৃত্য পালনের অধিকারটুকু তাদের থাকা উচিত। বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো শুধু মরদেহ ফেরত পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে, যাতে তারা তাদের ধর্মীয় প্রথা পালন করে শোকের সমাপ্তি টানতে পারে।