ইয়েমেনে তীব্র লড়াই: মারিবের কাছে ৮০ হুথি যোদ্ধা নিহত

ইয়েমেনের মারিব প্রদেশের রাজধানী মারিব সিটির উপকণ্ঠে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়েছে। গত শনিবার রাত থেকে রোববার রাত পর্যন্ত টানা ২৪ ঘণ্টা চলা এই সংঘাতের পর ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর মিডিয়া বিভাগের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া আল-হাতেমি আরব নিউজকে জানান, এতে অন্তত ৮০ জন হুথি যোদ্ধা প্রাণ হারিয়েছেন এবং বিদ্রোহীদের ৯টি সামরিক যান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।

আল-হাতেমির ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষের তীব্রতায় হুথি যোদ্ধারা পিছু হটতে বাধ্য হয়। অভিযানের এক পর্যায়ে সরকারি বাহিনী মারিব শহরের পশ্চিমে অবস্থিত কৌশলগত নোমান পাহাড়ের নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া সরকারি বাহিনী মারিবের বিভিন্ন ফ্রন্টে হুথিদের সমাবেশস্থল, সামরিক সরঞ্জাম এবং সুরক্ষিত অবস্থানে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় বিদ্রোহীদের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

হুথিদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলোতেও এর প্রভাব স্পষ্ট হয়েছে। গত শনিবার সানা, আমরান ও হোদেইদাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত ৫০ জন যোদ্ধার জানাজা সম্পন্ন হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাও ছিলেন। তবে জেনারেল আল-হাতেমির দাবি, হুথিরা প্রকাশ্যে যে সংখ্যা স্বীকার করছে তা প্রকৃত হতাহতের ১০ শতাংশেরও কম। তার তথ্যমতে, যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৫০০ হুথি যোদ্ধা নিহত হচ্ছেন, কিন্তু নিজেদের বাহিনীর মনোবল অটুট রাখতে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি প্রকৃত সংখ্যা গোপন করে আসছে।

মারিব শহরটি অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত ২০ লাখের বেশি মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল এবং এখানে গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাসক্ষেত্রসহ একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে শহরটি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে হুথিরা। যদিও ২০২২ সালের এপ্রিলে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর বড় ধরনের অভিযান থমকে ছিল, তবে সাম্প্রতিক এই লড়াই নতুন করে উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সংঘর্ষের একপর্যায়ে আরও অনেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গত ২৪ ঘণ্টায় ব্যাপক হামলার মুখে শহরের বাইরের বিভিন্ন অবস্থান থেকে হুথি যোদ্ধারা পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে বলে দাবি করেছেন আল-হাতেমি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গত এক দশকে সংঘাত ও হুথিদের দমন-পীড়ন থেকে পালিয়ে ২০ লাখের বেশি মানুষ সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অঞ্চলটিতে গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাসক্ষেত্রের পাশাপাশি একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রও রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এসব সংঘাতে বহু বেসামরিক নাগরিক ও যোদ্ধা নিহত বা আহত হলেও শহরটি দখলে হুথিরা সফল হয়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাঘাটায় অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, ড্রেজার মেশিন ও সরঞ্জাম জব্দ

Verified by MonsterInsights

ইয়েমেনে তীব্র লড়াই: মারিবের কাছে ৮০ হুথি যোদ্ধা নিহত

আপলোডের সময় : 10:40:11 am, Monday, 21 September 2026

ইয়েমেনের মারিব প্রদেশের রাজধানী মারিব সিটির উপকণ্ঠে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়েছে। গত শনিবার রাত থেকে রোববার রাত পর্যন্ত টানা ২৪ ঘণ্টা চলা এই সংঘাতের পর ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর মিডিয়া বিভাগের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া আল-হাতেমি আরব নিউজকে জানান, এতে অন্তত ৮০ জন হুথি যোদ্ধা প্রাণ হারিয়েছেন এবং বিদ্রোহীদের ৯টি সামরিক যান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।

আল-হাতেমির ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষের তীব্রতায় হুথি যোদ্ধারা পিছু হটতে বাধ্য হয়। অভিযানের এক পর্যায়ে সরকারি বাহিনী মারিব শহরের পশ্চিমে অবস্থিত কৌশলগত নোমান পাহাড়ের নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া সরকারি বাহিনী মারিবের বিভিন্ন ফ্রন্টে হুথিদের সমাবেশস্থল, সামরিক সরঞ্জাম এবং সুরক্ষিত অবস্থানে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় বিদ্রোহীদের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

হুথিদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলোতেও এর প্রভাব স্পষ্ট হয়েছে। গত শনিবার সানা, আমরান ও হোদেইদাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত ৫০ জন যোদ্ধার জানাজা সম্পন্ন হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাও ছিলেন। তবে জেনারেল আল-হাতেমির দাবি, হুথিরা প্রকাশ্যে যে সংখ্যা স্বীকার করছে তা প্রকৃত হতাহতের ১০ শতাংশেরও কম। তার তথ্যমতে, যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৫০০ হুথি যোদ্ধা নিহত হচ্ছেন, কিন্তু নিজেদের বাহিনীর মনোবল অটুট রাখতে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি প্রকৃত সংখ্যা গোপন করে আসছে।

মারিব শহরটি অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত ২০ লাখের বেশি মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল এবং এখানে গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাসক্ষেত্রসহ একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে শহরটি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে হুথিরা। যদিও ২০২২ সালের এপ্রিলে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর বড় ধরনের অভিযান থমকে ছিল, তবে সাম্প্রতিক এই লড়াই নতুন করে উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সংঘর্ষের একপর্যায়ে আরও অনেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গত ২৪ ঘণ্টায় ব্যাপক হামলার মুখে শহরের বাইরের বিভিন্ন অবস্থান থেকে হুথি যোদ্ধারা পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে বলে দাবি করেছেন আল-হাতেমি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গত এক দশকে সংঘাত ও হুথিদের দমন-পীড়ন থেকে পালিয়ে ২০ লাখের বেশি মানুষ সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অঞ্চলটিতে গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাসক্ষেত্রের পাশাপাশি একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রও রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এসব সংঘাতে বহু বেসামরিক নাগরিক ও যোদ্ধা নিহত বা আহত হলেও শহরটি দখলে হুথিরা সফল হয়নি।