
সৌদি আরবে চলমান অস্থিরতা ও হুতিদের ধারাবাহিক আক্রমণের প্রেক্ষিতে দেশটিকে বিশেষ প্রতিরক্ষা সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। সৌদি সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুরোধের প্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এই সহায়তার অংশ হিসেবে সৌদি আরবের আকাশসীমায় হুতিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করার অভিযানে বৃটিশ আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান ব্যবহৃত হতে পারে। এক্ষেত্রে সাইপ্রাসের রয়েল এয়ার ফোর্স আক্রোতিরি ঘাঁটি থেকে বৃটেনের একটি আরএএফ ভয়েজার বিমান সৌদি অপারেশনে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই সহায়তা প্রক্রিয়াটি শুরু হতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে এবং এর মেয়াদও সীমিত হবে, যা সম্ভবত কয়েক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হবে না।
প্রধানমন্ত্রী বার্নহ্যাম জানিয়েছেন, তিনি পুরো বিষয়টি নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শ করবেন। বর্তমানে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সমর্থনে সৌদি আরব হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। সাম্প্রতিক সময়ে রিয়াদের বিভিন্ন স্থাপনা ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হুতিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা বেড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সামরিক সাহায্য চাইলেও সাড়া পাননি। এর আগে পাকিস্তান ও তুরস্ক ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোট’ চুক্তির আওতায় সৌদি আরবকে নিঃশর্ত সামরিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছিল। এখন বৃটেনের এই পদক্ষেপে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কারিগরি দিক থেকে বৃটেন যে ভয়েজার বিমানটি সৌদিকে সরবরাহের পরিকল্পনা করেছে, তা তাদের ৯টি বিমানের বহরের একটি অংশ। এই ৯টির মধ্যে ৮টি বিমান সামরিকভাবে নিবন্ধিত এবং বাকি একটি বেসামরিক ব্যবহারের জন্য তালিকাভুক্ত। তবে প্রয়োজনে রয়েল এয়ার ফোর্স আরও ৫টি বিমানকে সামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রাখতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। পুরো বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করেই এর ব্যাপ্তি নির্ধারিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিনিধির নাম 

























