
মিয়ানমারের কারাগারগুলোতে আটক নারী বন্দিদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন, যৌন নিপীড়ন এবং চরম অবহেলার চিত্র উঠে এসেছে। নিউইয়র্ক-ভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডাব্লিউ) ২৪ সেপ্টেম্বর বুধবার প্রকাশিত তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের পর থেকে দেশটিতে চলমান সংঘাতময় পরিস্থিতির প্রভাব কারাবন্দিদের ওপরও ভয়াবহভাবে পড়ছে বলে সংস্থাটি উল্লেখ করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্দি নারীরা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে তাদের যৌন সহিংসতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। চিকিৎসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে তাদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদের চরম লঙ্ঘন। মিয়ানমারের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গৃহযুদ্ধ ও অস্থিরতার মধ্যে কারাগারে নারী বন্দিদের নিরাপত্তা ও মানবিক মর্যাদা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ ব্যর্থ হচ্ছে বলে মনে করছেন মানবাধিকার কর্মীরা।
এইচআরডাব্লিউ-এর তথ্যমতে, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটি দীর্ঘস্থায়ী সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে ক্ষমতা দখল ও পরবর্তী দমন-পীড়নের অভিযোগ ওঠার পর থেকেই গৃহযুদ্ধসহ নানা সহিংসতায় জর্জরিত মিয়ানমার। দীর্ঘ পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে কারাগারের ভেতরে বন্দিদের ওপর যে ধরনের অমানবিক কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে, তা বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
প্রতিবেদনটিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কারাবন্দি নারীদের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত না করায় অনেকের মৃত্যুঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। সঠিক চিকিৎসাসুবিধার অভাব এবং অবহেলার কারণে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটার তথ্য পাওয়া গেছে। রাজনৈতিক অস্থিরতার এই সময়ে কারাগারে বন্দিদের জীবনের নিরাপত্তার দায়ভার কারাকর্তৃপক্ষের ওপরই বর্তায়, অথচ সেখানে মানবাধিকারের কোনো তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। এই পরিস্থিতি মিয়ানমারের সামরিক শাসনের অধীনে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারীদের নাজুক অবস্থানের একটি প্রতিফলন।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই মিয়ানমারের কারাগারগুলোতে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়ে আসছে। তবে বর্তমান প্রতিবেদনে যে নির্যাতনের ভয়াবহতার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করার মতো। বন্দিদের ওপর এই ধরনের নির্যাতন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক মহলের চাপ জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। মিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি, তবে এই প্রতিবেদনটি দেশটির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নিউইয়র্ক-ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরডাব্লিউ ২৪ সেপ্টেম্বর (বুধবার) এক প্রতিবেদনে এমন অভিযোগ তুলেছে৷ ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারে ক্ষমতা দখল করে সামরিক বাহিনী৷ তারপর থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ চলছে৷ পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে। 24, 2021, 35. প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কারণে৷ এক প্রতিবেদনে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডাব্লিউ) জানিয়েছে, ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষকে রাজনৈতিক কারণে আটক করা হয়েছে৷ রাজনৈতিক বন্দিদের মধ্যে নোবেলজয়ী সাবেক নেত্রী অং সান সু চি-সহ ছয় হাজার ৬০০ জনেরও বেশি। 2021, 30, 600, 640. প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রাজনৈতিক বন্দি হিসেবে আটক নারীরা সেখানকার কারাগার ব্যবস্থার খুব উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছেন৷ বন্দিদের ভোগান্তি ও অবহেলা সেখানে ইচ্ছাকৃত এবং নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা৷” আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাটি জানিয়েছে, মিয়ানমারে কারা কর্তৃপক্ষ কিছু বন্দিকে লাঠি, শিকল, ধাতব। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শিকার হতে হয়েছে বলেও এইচআরডাব্লিউর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে৷ ১৭ জন সাবেক নারী বন্দিরসাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে এইচআরডাব্লিউ৷ ১৭ জনের মধ্যে আন্দোলনকারী, সাংবাদিক, ত্রাণ ও স্বাস্থ্যকর্মী, তাদের পরিবারের সদস্য এবং আইনজীবীসহ নানা শ্রেণি। 17, 2025, 2026. প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আইনের একাধিক ধারায় মামলা করা হয়েছিল৷ যেসব আইনে মামলাগুলো করা হয়েছিল তার মধ্যে অভ্যুত্থানের পরে কার্যকর হওয়া এমন একটি আইনও ছিল যা দিয়ে বিরোধী মত ও ভিন্নমত দমন করা হতো৷ এছাড়া সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী কঠোর ও ব্যাপক পরিসরের একটি আইনেও তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
প্রতিনিধির নাম 

























