
পাবনার চাটমোহর উপজেলার কাটেঙ্গা ভাঙ্গা মসজিদের পার্শ্ববর্তী তিন রাস্তার মোড়ে গত কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এসব ঘটনার পর এলাকায় জ্বীন কিংবা ভূতের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ও গ্রামবাসীকে নিরাপদে রাখতে গত শনিবার রাতে সেখানে বিশেষ মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। প্রায় ৬০০ জন নারী, পুরুষ ও শিশু এই মাহফিলে অংশ নেন।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, কয়েক দিন আগে রাতের অন্ধকারে এই তিন রাস্তার মোড়ের পাশেই একটি পুকুরে অজ্ঞাত কোনো বস্তু এক ব্যক্তিকে ছুঁড়ে ফেলে দেয়। ওই ব্যক্তির চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করছেন, ওই রাস্তা দিয়ে চলাচলের সময় সাপ, বিড়ালসহ নানা ধরনের অদ্ভুত সব বস্তু দেখা যায়, যা চোখের পলকেই অদৃশ্য হয়ে যায়। এমন সব ঘটনার কারণে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ভীতির সৃষ্টি হয়েছে।
গ্রামবাসী ইসমাইল জানান, অদ্ভুত সব কর্মকাণ্ডের পর গ্রামের মুরব্বিরা স্থানীয়দের নিয়ে সভা করেন এবং মিলাদ মাহফিলের জন্য চাল-ডাল সংগ্রহ করেন। শনিবার সকাল থেকেই খিচুড়ি রান্না ও অন্যান্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। সন্ধ্যার পর প্রায় ৬০০ মানুষের অংশগ্রহণে মিলাদ শেষে তবারক বিতরণ করা হয়। ইসমাইল বলেন, ভূত না থাকলেও জ্বীনের অস্তিত্ব অস্বীকার করা যায় না, তাই ইসলামী বিধান অনুযায়ী আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা চাওয়া হয়েছে। সন্ধ্যার পর প্রায় ৬০০ মানুষ এতে অংশ নেন এবং পরে তবারক নিয়ে বাড়ি ফেরেন।
ঘটনাটি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে ব্যঙ্গাত্মক ও হাস্যরসাত্মক ভিডিও ছড়িয়ে দিচ্ছেন, যা আলোচনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে মুফতি মোহাম্মদ মফিজ উদ্দিন জানিয়েছেন, ভূতের কোনো অস্তিত্ব নেই। তবে বদজ্বীনের প্রভাব থাকতে পারে এবং তা থেকে সুরক্ষায় পবিত্র কোরআনে বর্ণিত দোয়া ও আমলগুলোই একমাত্র কার্যকর উপায়।
প্রতিনিধির নাম 

























