যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যেকোনো ধ্বংসাত্মক যুদ্ধে প্রস্তুত ইরান: আরাগচি

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যেকোনো ধরনের ভয়াবহ বা ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ মোকাবিলার জন্য ইরান প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। রোববার মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। একই সাথে তিনি শান্তির সুযোগ হাতছাড়া না করার পক্ষেও মত দিয়েছেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সফর করেন আরাগচি।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই উপসাগরীয় অঞ্চলে তীব্র অস্থিরতা বিরাজ করছে। এর ফলে যুদ্ধের পাশাপাশি বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি বড় সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আরাগচি জানান, যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরান দৃঢ় অবস্থান নেবে, এমনকি তা পৃথিবী ধ্বংসকারী যুদ্ধে রূপ নিলেও তেহরান পিছু হটবে না। ইরানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল। পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে যুদ্ধের দামামা। এমনকি সেই সংঘাত যদি দুনিয়া ধ্বংস হয়ে যাওয়ার মতো যুদ্ধেও গড়ায়,’ বলেন আরাগচি।

কূটনৈতিক আলোচনার বিষয়ে আরাগচি বলেন, ‘কূটনীতিতে ফেরার কোনো কারণ আছে বলে আমরা মনে করি না। তবে শান্তির সুযোগ কোনোভাবেই হাতছাড়া করা ঠিক হবে না।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান অচলাবস্থা নিরসনের বিকল্প নেই।

গত শুক্রবার আরাগচি একটি বিশেষ প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এতে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি শর্ত মেনে নেন, তবে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া হবে এবং ওয়াশিংটনের সাথে পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনায় বসবে ইরান। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে পুনরায় হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন। আরাগচি জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীরা এখনো ট্রাম্পের কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব তেহরানের কাছে পৌঁছাতে পারেননি। গ্রহণ করা হবে না জেনেও দেশটি এমন একটি প্রস্তাব সামনে এনেছে।

অন্যদিকে, জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইকেল ওয়াল্টজ ইরানের প্রস্তাবকে ‘নিছক কৌশলী চেষ্টা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ওয়াল্টজ আরও বলেন, পারমাণবিক অস্ত্রের কারণে বিশ্ব জিম্মি হতে পারে না, তাই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের ক্ষেত্রে সব বিকল্প পথ খোলা রাখছেন।

এদিকে উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্বয়ংক্রিয় সাবমেরিন জব্দ করার দাবি করেছে। সব মিলিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান এই সংঘাত সমাধানে আলোচনার টেবিলে ফেরার ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও পরিস্থিতি এখনো বেশ ঘোলাটে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে ইরানের ৭ দিনের রূপরেখা।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাঘাটায় অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, ড্রেজার মেশিন ও সরঞ্জাম জব্দ

Verified by MonsterInsights

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যেকোনো ধ্বংসাত্মক যুদ্ধে প্রস্তুত ইরান: আরাগচি

আপলোডের সময় : 10:18:50 am, Monday, 28 September 2026

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যেকোনো ধরনের ভয়াবহ বা ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ মোকাবিলার জন্য ইরান প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। রোববার মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। একই সাথে তিনি শান্তির সুযোগ হাতছাড়া না করার পক্ষেও মত দিয়েছেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সফর করেন আরাগচি।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই উপসাগরীয় অঞ্চলে তীব্র অস্থিরতা বিরাজ করছে। এর ফলে যুদ্ধের পাশাপাশি বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি বড় সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আরাগচি জানান, যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরান দৃঢ় অবস্থান নেবে, এমনকি তা পৃথিবী ধ্বংসকারী যুদ্ধে রূপ নিলেও তেহরান পিছু হটবে না। ইরানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল। পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে যুদ্ধের দামামা। এমনকি সেই সংঘাত যদি দুনিয়া ধ্বংস হয়ে যাওয়ার মতো যুদ্ধেও গড়ায়,’ বলেন আরাগচি।

কূটনৈতিক আলোচনার বিষয়ে আরাগচি বলেন, ‘কূটনীতিতে ফেরার কোনো কারণ আছে বলে আমরা মনে করি না। তবে শান্তির সুযোগ কোনোভাবেই হাতছাড়া করা ঠিক হবে না।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান অচলাবস্থা নিরসনের বিকল্প নেই।

গত শুক্রবার আরাগচি একটি বিশেষ প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এতে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি শর্ত মেনে নেন, তবে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া হবে এবং ওয়াশিংটনের সাথে পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনায় বসবে ইরান। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে পুনরায় হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন। আরাগচি জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীরা এখনো ট্রাম্পের কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব তেহরানের কাছে পৌঁছাতে পারেননি। গ্রহণ করা হবে না জেনেও দেশটি এমন একটি প্রস্তাব সামনে এনেছে।

অন্যদিকে, জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইকেল ওয়াল্টজ ইরানের প্রস্তাবকে ‘নিছক কৌশলী চেষ্টা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ওয়াল্টজ আরও বলেন, পারমাণবিক অস্ত্রের কারণে বিশ্ব জিম্মি হতে পারে না, তাই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের ক্ষেত্রে সব বিকল্প পথ খোলা রাখছেন।

এদিকে উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্বয়ংক্রিয় সাবমেরিন জব্দ করার দাবি করেছে। সব মিলিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান এই সংঘাত সমাধানে আলোচনার টেবিলে ফেরার ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও পরিস্থিতি এখনো বেশ ঘোলাটে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে ইরানের ৭ দিনের রূপরেখা।