রাজশাহীতে কাটা ডাল থেকে নতুন কুঁড়ি

রাজশাহী নগরের দায়রাপাক মোড় থেকে নাদের হাজীর মোড় পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে কৃষ্ণচূড়াগাছের সারি যেন এক সবুজ করিডর। কয়েক মাস আগেও সড়কটির এই পরিবেশ ছিল অনেকটাই বিবর্ণ ও বিধ্বস্ত। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে রাজশাহী ওয়াসার পানি শোধনাগার প্রকল্পের পাইপলাইন স্থাপনের কাজ চলাকালীন ভারী ক্রেন চলাচলে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় সড়কের এক পাশের প্রায় ১০০টি কৃষ্ণচূড়াগাছের ডালপালা কেটে ফেলা হয়েছিল। ২০১৯ সালে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে রোপণ করা এই গাছগুলো নগরের এই অংশে একটি ছায়াঘেরা পরিবেশ তৈরি করেছিল, যা ডাল কাটার পর হারিয়ে গিয়েছিল। কয়েক মাসের ব্যবধানে গাছগুলো যেন আবার সবুজ হয়ে ওঠার চেষ্টা করছে।

তবে গত সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, সেই কাটা ডালপালা থেকেই এখন নতুন কুঁড়ি ও কচি পাতা গজাচ্ছে। গাছের কাণ্ড বা কাটা অংশ থেকে বের হওয়া নতুন শাখাগুলো ধীরে ধীরে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে, যা গাছগুলোর টিকে থাকার স্পষ্ট সংকেত দিচ্ছে। যদিও ডাল কাটার প্রভাবে একটি গাছ মারা গেছে এবং বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরাও মাঝেমধ্যে বিভিন্ন গাছের ডালপালা কেটে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে, তবুও পুরো সড়কটি এখন নতুন করে সবুজের আভা ফিরে পাচ্ছে। গত সোমবার দুপুরে সড়কের পশ্চিম দিক দিয়ে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে পরিবর্তন। এ কারণে ডাল কাটা হয়েছিল বলে তখন প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছিলেন। এরই মধ্যে বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন কয়েকটি গাছের ডালও কেটেছেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের পরিবেশ শাখার ব্যবস্থাপক ফরহাদ হোসেন বলেন, সিটি করপোরেশনের পূর্বানুমতি ছাড়া গাছের ডাল কাটার কোনো সুযোগ নেই। তিনি জানান, বিদ্যুৎ বিভাগসহ বিভিন্ন সংস্থা প্রায়ই গাছের ডাল কাটার সময় পুরো ডালপালা কেটে ফেলে, যা কাম্য নয়। এ ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের সাথে সমন্বয় করা জরুরি। চিঠি দিয়ে জানালে সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধি উপস্থিত থেকে গাছের ক্ষতি না করে কতটুকু ডাল কাটা প্রয়োজন, তা দেখিয়ে দিতে পারেন।

সড়কটির পরিবেশ ও সৌন্দর্যের ওপর স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা ও ব্যবসাও নির্ভরশীল। স্থানীয় চা বিক্রেতা তাইজুল ইসলাম জানান, গাছের ছায়া না থাকায় মানুষের আনাগোনা কিছুটা কমে গিয়েছিল, তবে এখন পরিস্থিতি আবার স্বাভাবিক হচ্ছে। সড়কের পাশে পাঁচটি টার্ফ মাঠ ও বেশ কিছু খাবারের দোকান রয়েছে, যেখানে প্রতিদিন প্রচুর মানুষ বিশ্রাম নিতে আসেন। বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি আতিকুর রহমান বলেন, গাছগুলোর নিচে মানুষ নিয়মিত বিশ্রাম নেন, তাই নগর কর্তৃপক্ষের আরও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন। একসময় সড়কের ওপর ছায়া ফেলবে, মানুষও আবার এসে বসবে। রয়েছে পাঁচটি টার্ফ মাঠও (কৃত্রিম ঘাস বা সিন্থেটিক ফাইবার বিছানো খেলার মাঠ)।

গাছগুলো পুরোপুরি আগের অবস্থায় ফিরে আসতে আরও সময়ের প্রয়োজন। নতুন ডালপালা এখনো আগের মতো বিস্তৃত ছায়া তৈরি করতে পারেনি। তবে কাটা ডালের স্থান থেকে বের হওয়া কচি পাতাগুলো নগরবাসী ও পরিবেশকর্মীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তারা প্রত্যাশা করছেন, ভবিষ্যতে যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্পের সময় গাছের সুরক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব দূর হবে, যাতে নগরের এই সবুজ সৌন্দর্য চিরস্থায়ী হয়। বিষয়টি নিয়ে পরিবেশকর্মী ও নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাঘাটায় অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, ড্রেজার মেশিন ও সরঞ্জাম জব্দ

Verified by MonsterInsights

রাজশাহীতে কাটা ডাল থেকে নতুন কুঁড়ি

আপলোডের সময় : 09:02:51 am, Wednesday, 30 September 2026

রাজশাহী নগরের দায়রাপাক মোড় থেকে নাদের হাজীর মোড় পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে কৃষ্ণচূড়াগাছের সারি যেন এক সবুজ করিডর। কয়েক মাস আগেও সড়কটির এই পরিবেশ ছিল অনেকটাই বিবর্ণ ও বিধ্বস্ত। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে রাজশাহী ওয়াসার পানি শোধনাগার প্রকল্পের পাইপলাইন স্থাপনের কাজ চলাকালীন ভারী ক্রেন চলাচলে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় সড়কের এক পাশের প্রায় ১০০টি কৃষ্ণচূড়াগাছের ডালপালা কেটে ফেলা হয়েছিল। ২০১৯ সালে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে রোপণ করা এই গাছগুলো নগরের এই অংশে একটি ছায়াঘেরা পরিবেশ তৈরি করেছিল, যা ডাল কাটার পর হারিয়ে গিয়েছিল। কয়েক মাসের ব্যবধানে গাছগুলো যেন আবার সবুজ হয়ে ওঠার চেষ্টা করছে।

তবে গত সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, সেই কাটা ডালপালা থেকেই এখন নতুন কুঁড়ি ও কচি পাতা গজাচ্ছে। গাছের কাণ্ড বা কাটা অংশ থেকে বের হওয়া নতুন শাখাগুলো ধীরে ধীরে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে, যা গাছগুলোর টিকে থাকার স্পষ্ট সংকেত দিচ্ছে। যদিও ডাল কাটার প্রভাবে একটি গাছ মারা গেছে এবং বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরাও মাঝেমধ্যে বিভিন্ন গাছের ডালপালা কেটে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে, তবুও পুরো সড়কটি এখন নতুন করে সবুজের আভা ফিরে পাচ্ছে। গত সোমবার দুপুরে সড়কের পশ্চিম দিক দিয়ে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে পরিবর্তন। এ কারণে ডাল কাটা হয়েছিল বলে তখন প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছিলেন। এরই মধ্যে বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন কয়েকটি গাছের ডালও কেটেছেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের পরিবেশ শাখার ব্যবস্থাপক ফরহাদ হোসেন বলেন, সিটি করপোরেশনের পূর্বানুমতি ছাড়া গাছের ডাল কাটার কোনো সুযোগ নেই। তিনি জানান, বিদ্যুৎ বিভাগসহ বিভিন্ন সংস্থা প্রায়ই গাছের ডাল কাটার সময় পুরো ডালপালা কেটে ফেলে, যা কাম্য নয়। এ ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের সাথে সমন্বয় করা জরুরি। চিঠি দিয়ে জানালে সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধি উপস্থিত থেকে গাছের ক্ষতি না করে কতটুকু ডাল কাটা প্রয়োজন, তা দেখিয়ে দিতে পারেন।

সড়কটির পরিবেশ ও সৌন্দর্যের ওপর স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা ও ব্যবসাও নির্ভরশীল। স্থানীয় চা বিক্রেতা তাইজুল ইসলাম জানান, গাছের ছায়া না থাকায় মানুষের আনাগোনা কিছুটা কমে গিয়েছিল, তবে এখন পরিস্থিতি আবার স্বাভাবিক হচ্ছে। সড়কের পাশে পাঁচটি টার্ফ মাঠ ও বেশ কিছু খাবারের দোকান রয়েছে, যেখানে প্রতিদিন প্রচুর মানুষ বিশ্রাম নিতে আসেন। বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি আতিকুর রহমান বলেন, গাছগুলোর নিচে মানুষ নিয়মিত বিশ্রাম নেন, তাই নগর কর্তৃপক্ষের আরও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন। একসময় সড়কের ওপর ছায়া ফেলবে, মানুষও আবার এসে বসবে। রয়েছে পাঁচটি টার্ফ মাঠও (কৃত্রিম ঘাস বা সিন্থেটিক ফাইবার বিছানো খেলার মাঠ)।

গাছগুলো পুরোপুরি আগের অবস্থায় ফিরে আসতে আরও সময়ের প্রয়োজন। নতুন ডালপালা এখনো আগের মতো বিস্তৃত ছায়া তৈরি করতে পারেনি। তবে কাটা ডালের স্থান থেকে বের হওয়া কচি পাতাগুলো নগরবাসী ও পরিবেশকর্মীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তারা প্রত্যাশা করছেন, ভবিষ্যতে যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্পের সময় গাছের সুরক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব দূর হবে, যাতে নগরের এই সবুজ সৌন্দর্য চিরস্থায়ী হয়। বিষয়টি নিয়ে পরিবেশকর্মী ও নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।