
মরক্কোর রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক তৈরি করে রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ ফাতিমা এজ্জাহরা এল মানসৌরিকে দেশটির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। আরব বিশ্বের ইতিহাসে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া দ্বিতীয় নারী হিসেবে তিনি এই মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে আসীন হলেন। এর আগে তিউনিসিয়ার নাজলা বৌদেন ২০২১ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। মঙ্গলবার রাজপ্রাসাদের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ৫০ বছর বয়সী নগর পরিকল্পনামন্ত্রী ও মারাকেশের মেয়র এল মানসৌরিকে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
ঐতিহাসিক দায়িত্ব ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
নিজের নিয়োগকে ‘সত্যিই ঐতিহাসিক’ হিসেবে বর্ণনা করে ফাতিমা এজ্জাহরা এল মানসৌরি টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে বলেন, মরক্কোর ইতিহাসে এই প্রথম কোনো নারী সরকার পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করছেন। এটি কেবল তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং দেশের সকল নারীর জন্য এক অসামান্য গর্বের বিষয়। গত সপ্তাহের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার চার দিন পর এল মানসৌরিকে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হলো। নির্বাচনে রাজতন্ত্রঘনিষ্ঠ অথেনটিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টি (পিএএম) সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে ৩৯৫ আসনের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে ৯৭টি আসন নিশ্চিত করেছে। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১৯৮টি আসনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে দলটি এখনো পিছিয়ে থাকায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এল মানসৌরির প্রথম ও প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে একটি কার্যকর জোট সরকার গঠন করা। উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ফুয়াদ আলি এল হিম্মা পিএএম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। দলটি সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করলেও, জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (পিজেডি) এবং ফেডারেশন অব ডেমোক্রেটিক লেফটসহ কয়েকটি দল বিরোধী দলে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই নতুন সরকার ২০৩০ সালের ফিফা বিশ্বকাপ সামনে রেখে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ও অবকাঠামোগত অর্থ বরাদ্দ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। মরক্কো, পর্তুগাল ও স্পেন যৌথভাবে এই বিশ্বকাপের প্রধান আয়োজক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। তার দায়িত্ব পালনের সময়ে এই মন্ত্রণালয়ের আওতায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনায় আসে।
ব্যক্তিগত পরিচয় ও কর্মজীবন
- ১৯৭৬ সালে মারাকেশে জন্মগ্রহণ করা এল মানসৌরি আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন।
- তিনি ফ্রান্সের মঁপেলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অ্যাডভান্সড স্টাডিজে ডিপ্লোমা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অ্যাংলো-স্যাক্সন ব্যবসায়িক আইনে ডিপ্লোমা অর্জন করেছেন।
- ২০০৯ সালে তিনি মারাকেশের প্রথম নারী মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়ে স্থানীয় সরকারে ইতিহাস গড়েছিলেন এবং ২০২১ সালের নির্বাচনে পুনরায় পৌর পরিষদের নেতৃত্বে ফিরে আসেন।
- দীর্ঘদিন হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় তার রয়েছে সমৃদ্ধ সংসদীয় অভিজ্ঞতা।
- ২০২১ সালের অক্টোবরে জাতীয় সরকারে যোগ দিয়ে তিনি জাতীয় ভূখণ্ড পরিকল্পনা, নগর উন্নয়ন, আবাসন ও নগর নীতি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন।
- মন্ত্রী থাকাকালীন তিনি সরাসরি আবাসন সহায়তা কর্মসূচি, নগর পরিকল্পনা ও ভূখণ্ড উন্নয়ন সংস্কার এবং আল হাউজ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
প্রতিনিধির নাম 

























