ট্রাম্পের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির ফোনালাপ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বুধবার টেলিফোনে কথা বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই ফোনালাপে দুই দেশের বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে উভয় নেতা তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এছাড়া দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষায় নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে সহযোগিতার সম্পর্ক গভীর করার বিষয়ে তারা ঐকমত্যে পৌঁছেছেন। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময়ের পাশাপাশি বিশ্বে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় চলমান বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা করেছেন তারা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টের মাধ্যমে নরেন্দ্র মোদি এই ফোনালাপকে অত্যন্ত ‘ফলপ্রসূ’ বলে উল্লেখ করেছেন। আলোচনায় বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির মতো কৌশলগত খাতে সহযোগিতার অগ্রগতির বিষয়টি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। এছাড়া পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়েও দুই নেতা নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন।

বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি লাভজনক চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা চলছে। সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র সফরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছিলেন, দুই দেশ চুক্তির বিষয়ে মোটামুটি একটি সমঝোতায় পৌঁছালেও জটিল কিছু বাস্তব পরিস্থিতির কারণে চূড়ান্ত রূপ দেওয়া কিছুটা কঠিন হচ্ছে। জয়শঙ্করের মতে, মার্কিন শুল্কনীতির পরিবর্তন এবং ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ নম্বর ধারার অধীনে চলমান প্রক্রিয়াগুলো এই চুক্তির ক্ষেত্রে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই আইনের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র কোনো দেশের বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডকে অন্যায্য মনে করলে কঠোর তদন্ত কিংবা অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে।

জ্বালানি নিরাপত্তা এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব নিয়েও নয়াদিল্লির উদ্বেগ রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ‘লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ নামক নতুন একটি আইনে স্বাক্ষর করেছেন। এর মাধ্যমে রুশ জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করার আইনি ক্ষমতা পেয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট, যা ভারত ও চীনের মতো দেশগুলোর জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠকে উদ্বেগ তুলে ধরেছেন। Graham Sanctioning Russia and Iran Act of 2026’ আইনে স্বাক্ষর করেন।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করার মাধ্যমে ভারত তার অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বাণিজ্য ও শিল্প খাতের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় কৌশল নির্ধারণে সরকার কাজ করছে। এরই অংশ হিসেবে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীউষ গোয়েল ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন, যেখানে তিনি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি এবং একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করছেন। ভারতীয় কর্মকর্তারা মনে করছেন, এসব পদক্ষেপের প্রভাব শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কেই নয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও পড়তে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাঘাটায় অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, ড্রেজার মেশিন ও সরঞ্জাম জব্দ

Verified by MonsterInsights

ট্রাম্পের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির ফোনালাপ

আপলোডের সময় : 10:44:53 am, Thursday, 1 October 2026

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বুধবার টেলিফোনে কথা বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই ফোনালাপে দুই দেশের বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে উভয় নেতা তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এছাড়া দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষায় নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে সহযোগিতার সম্পর্ক গভীর করার বিষয়ে তারা ঐকমত্যে পৌঁছেছেন। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময়ের পাশাপাশি বিশ্বে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় চলমান বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা করেছেন তারা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টের মাধ্যমে নরেন্দ্র মোদি এই ফোনালাপকে অত্যন্ত ‘ফলপ্রসূ’ বলে উল্লেখ করেছেন। আলোচনায় বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির মতো কৌশলগত খাতে সহযোগিতার অগ্রগতির বিষয়টি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। এছাড়া পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়েও দুই নেতা নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন।

বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি লাভজনক চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা চলছে। সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র সফরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছিলেন, দুই দেশ চুক্তির বিষয়ে মোটামুটি একটি সমঝোতায় পৌঁছালেও জটিল কিছু বাস্তব পরিস্থিতির কারণে চূড়ান্ত রূপ দেওয়া কিছুটা কঠিন হচ্ছে। জয়শঙ্করের মতে, মার্কিন শুল্কনীতির পরিবর্তন এবং ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ নম্বর ধারার অধীনে চলমান প্রক্রিয়াগুলো এই চুক্তির ক্ষেত্রে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই আইনের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র কোনো দেশের বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডকে অন্যায্য মনে করলে কঠোর তদন্ত কিংবা অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে।

জ্বালানি নিরাপত্তা এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব নিয়েও নয়াদিল্লির উদ্বেগ রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ‘লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ নামক নতুন একটি আইনে স্বাক্ষর করেছেন। এর মাধ্যমে রুশ জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করার আইনি ক্ষমতা পেয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট, যা ভারত ও চীনের মতো দেশগুলোর জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠকে উদ্বেগ তুলে ধরেছেন। Graham Sanctioning Russia and Iran Act of 2026’ আইনে স্বাক্ষর করেন।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করার মাধ্যমে ভারত তার অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বাণিজ্য ও শিল্প খাতের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় কৌশল নির্ধারণে সরকার কাজ করছে। এরই অংশ হিসেবে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীউষ গোয়েল ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন, যেখানে তিনি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি এবং একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করছেন। ভারতীয় কর্মকর্তারা মনে করছেন, এসব পদক্ষেপের প্রভাব শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কেই নয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও পড়তে পারে।