শীর্ষ ধনীর তালিকায় শীর্ষে আদানি

ভারতের শীর্ষ ধনী ব্যক্তিদের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ এখন প্রায় ১ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ কোটি মার্কিন ডলার। দেশীয় মুদ্রার বিনিময় হার ও শেয়ারবাজারে অস্থিরতা থাকা সত্ত্বেও দেশটির বিলিয়নিয়ার বা শতকোটিপতিদের মোট সম্পদের পরিমাণে বড় কোনো হেরফের হয়নি। বিশ্বখ্যাত ফোর্বস ম্যাগাজিনের বার্ষিক তালিকায় এবার বেশ কিছু বড় পরিবর্তন এসেছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো তিন বছর পর আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানির পুনরায় প্রথম স্থানে ফিরে আসা। এতে তাঁর পারিবারিক সম্পদও যুক্ত হয়েছে।

ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, গৌতম আদানির সম্পদ এ বছর ২ হাজার ৭০ কোটি ডলার বেড়ে ১১ হাজার ২৭০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। ডলারের হিসেবে ভারতের ধনকুবেরদের মধ্যে তাঁর সম্পদই সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। তবে এটি তাঁর ২০২২ সালের সর্বোচ্চ সম্পদের চেয়ে প্রায় ৩ হাজার ৭০০ কোটি ডলার কম, যখন তাঁর পরিবারের সম্পদের পরিমাণ ১৫ হাজার কোটি ডলার ছুঁয়েছিল। আদানি গ্রুপ এখন বড় ধরনের সম্প্রসারণ পরিকল্পনায় কাজ করছে, যার অংশ হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবকাঠামো তৈরিতে ১০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। আগের হিসাবের চেয়ে তাঁদের সম্পদ বাড়েনি বা কমেনি, অর্থাৎ অপরিবর্তিত রয়েছে।

তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন ভারতের শীর্ষ ধনী নারী সাবিত্রী জিন্দাল। ইস্পাত ও বিদ্যুৎ খাতের ও পি জিন্দাল গ্রুপের এই পরিবারের বর্তমান সম্পদের পরিমাণ ৩ হাজার ৯৮০ কোটি ডলার, যা গতবারের চেয়ে কিছুটা কম। অন্যদিকে, ইস্পাত ব্যবসায়ী লক্ষ্মী মিত্তাল প্রায় ৭৪ শতাংশ সম্পদ বাড়িয়ে তালিকায় আট ধাপ এগিয়ে চতুর্থ অবস্থানে উঠে এসেছেন। তাঁর বর্তমান সম্পদের পরিমাণ ৩ হাজার ৪৭০ কোটি ডলার। বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও তিনি বেশ সক্রিয়; টিকা ব্যবসায়ী সাইরাস পুনাওয়ালার পুত্র আদরের সাথে যৌথভাবে মে মাসে তিনি ১৬৫ কোটি ডলারে আইপিএলের দল রাজস্থান রয়্যালস কিনেছেন। খেলাধুলার জগতেও মিত্তাল এবার বড় বিনিয়োগ করেছেন। চুক্তিতে দলটির মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১৬৫ কোটি ডলার।

তালিকায় পঞ্চম থেকে দশম স্থানে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সুনীল মিত্তাল ও তাঁর পরিবার, সাইরাস পুনাওয়ালা, শিব নাদার, দিলীপ সাংভি ও তাঁর পরিবার, কুমার বিরলা এবং হিন্দুজা পরিবার। তবে সামগ্রিকভাবে তালিকার অর্ধেকেরও বেশি ধনীর সম্পদ কমেছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসারে তথ্যপ্রযুক্তি ও সফটওয়্যার সেবা খাত যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে, তার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এই খাতের ব্যবসায়ীদের আয়ের ওপর।

তালিকায় স্থান পাওয়ার লড়াইয়ে এবার কঠিন মানদণ্ড দেখা গেছে। এবার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য ন্যূনতম সম্পদের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০০ কোটি ডলার, যা গত বছর ছিল ৩২০ কোটি ডলার। এইচসিএল টেকনোলজিসের চেয়ারম্যান ইমেরিটাস শিব নাদার, উইপ্রোর আজিম প্রেমজি ও ইনফোসিসের সহপ্রতিষ্ঠাতা এন আর নারায়ণ মূর্তির মতো বড় শিল্পপতিদের সম্পদ এবার হ্রাস পেয়েছে। এমনকি ইনফোসিসের নন্দন নিলেকানি ও গোপালকৃষ্ণন এবারের তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন।

তালিকায় নতুন করে ফিরে আসা সাতজনের একজন হলেন অনিল আগরওয়াল। খনি ও ধাতু ব্যবসার জায়ান্ট বেদান্তকে জুন মাসে পাঁচটি পৃথক তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানে বিভক্ত করার পর থেকেই তাঁর সম্পদের নতুন মূল্যায়ন প্রকাশ পায়। সামগ্রিকভাবে, প্রতিকূল অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও ভারতীয় ধনকুবেররা তাঁদের প্রভাব ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাঘাটায় অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, ড্রেজার মেশিন ও সরঞ্জাম জব্দ

Verified by MonsterInsights

শীর্ষ ধনীর তালিকায় শীর্ষে আদানি

আপলোডের সময় : 10:27:31 am, Friday, 2 October 2026

ভারতের শীর্ষ ধনী ব্যক্তিদের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ এখন প্রায় ১ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ কোটি মার্কিন ডলার। দেশীয় মুদ্রার বিনিময় হার ও শেয়ারবাজারে অস্থিরতা থাকা সত্ত্বেও দেশটির বিলিয়নিয়ার বা শতকোটিপতিদের মোট সম্পদের পরিমাণে বড় কোনো হেরফের হয়নি। বিশ্বখ্যাত ফোর্বস ম্যাগাজিনের বার্ষিক তালিকায় এবার বেশ কিছু বড় পরিবর্তন এসেছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো তিন বছর পর আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানির পুনরায় প্রথম স্থানে ফিরে আসা। এতে তাঁর পারিবারিক সম্পদও যুক্ত হয়েছে।

ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, গৌতম আদানির সম্পদ এ বছর ২ হাজার ৭০ কোটি ডলার বেড়ে ১১ হাজার ২৭০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। ডলারের হিসেবে ভারতের ধনকুবেরদের মধ্যে তাঁর সম্পদই সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। তবে এটি তাঁর ২০২২ সালের সর্বোচ্চ সম্পদের চেয়ে প্রায় ৩ হাজার ৭০০ কোটি ডলার কম, যখন তাঁর পরিবারের সম্পদের পরিমাণ ১৫ হাজার কোটি ডলার ছুঁয়েছিল। আদানি গ্রুপ এখন বড় ধরনের সম্প্রসারণ পরিকল্পনায় কাজ করছে, যার অংশ হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবকাঠামো তৈরিতে ১০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। আগের হিসাবের চেয়ে তাঁদের সম্পদ বাড়েনি বা কমেনি, অর্থাৎ অপরিবর্তিত রয়েছে।

তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন ভারতের শীর্ষ ধনী নারী সাবিত্রী জিন্দাল। ইস্পাত ও বিদ্যুৎ খাতের ও পি জিন্দাল গ্রুপের এই পরিবারের বর্তমান সম্পদের পরিমাণ ৩ হাজার ৯৮০ কোটি ডলার, যা গতবারের চেয়ে কিছুটা কম। অন্যদিকে, ইস্পাত ব্যবসায়ী লক্ষ্মী মিত্তাল প্রায় ৭৪ শতাংশ সম্পদ বাড়িয়ে তালিকায় আট ধাপ এগিয়ে চতুর্থ অবস্থানে উঠে এসেছেন। তাঁর বর্তমান সম্পদের পরিমাণ ৩ হাজার ৪৭০ কোটি ডলার। বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও তিনি বেশ সক্রিয়; টিকা ব্যবসায়ী সাইরাস পুনাওয়ালার পুত্র আদরের সাথে যৌথভাবে মে মাসে তিনি ১৬৫ কোটি ডলারে আইপিএলের দল রাজস্থান রয়্যালস কিনেছেন। খেলাধুলার জগতেও মিত্তাল এবার বড় বিনিয়োগ করেছেন। চুক্তিতে দলটির মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১৬৫ কোটি ডলার।

তালিকায় পঞ্চম থেকে দশম স্থানে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সুনীল মিত্তাল ও তাঁর পরিবার, সাইরাস পুনাওয়ালা, শিব নাদার, দিলীপ সাংভি ও তাঁর পরিবার, কুমার বিরলা এবং হিন্দুজা পরিবার। তবে সামগ্রিকভাবে তালিকার অর্ধেকেরও বেশি ধনীর সম্পদ কমেছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসারে তথ্যপ্রযুক্তি ও সফটওয়্যার সেবা খাত যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে, তার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এই খাতের ব্যবসায়ীদের আয়ের ওপর।

তালিকায় স্থান পাওয়ার লড়াইয়ে এবার কঠিন মানদণ্ড দেখা গেছে। এবার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য ন্যূনতম সম্পদের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০০ কোটি ডলার, যা গত বছর ছিল ৩২০ কোটি ডলার। এইচসিএল টেকনোলজিসের চেয়ারম্যান ইমেরিটাস শিব নাদার, উইপ্রোর আজিম প্রেমজি ও ইনফোসিসের সহপ্রতিষ্ঠাতা এন আর নারায়ণ মূর্তির মতো বড় শিল্পপতিদের সম্পদ এবার হ্রাস পেয়েছে। এমনকি ইনফোসিসের নন্দন নিলেকানি ও গোপালকৃষ্ণন এবারের তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন।

তালিকায় নতুন করে ফিরে আসা সাতজনের একজন হলেন অনিল আগরওয়াল। খনি ও ধাতু ব্যবসার জায়ান্ট বেদান্তকে জুন মাসে পাঁচটি পৃথক তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানে বিভক্ত করার পর থেকেই তাঁর সম্পদের নতুন মূল্যায়ন প্রকাশ পায়। সামগ্রিকভাবে, প্রতিকূল অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও ভারতীয় ধনকুবেররা তাঁদের প্রভাব ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।