মধ্যপ্রাচ্যে আরও ৯ হাজার সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে তৃতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন। ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্টের নেতৃত্বাধীন এই নৌবহরের সাথে প্রায় ৯ হাজার মার্কিন সেনা ও নৌসদস্য ওই অঞ্চলে মোতায়েন করা হবে। মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের শেষ থেকে নভেম্বরের মধ্যে এই নৌবহরটি মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বর্তমানে অঞ্চলটিতে ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ এবং ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন অবস্থান করছে। জর্জ ওয়াশিংটনকে সম্প্রতি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে সরিয়ে দীর্ঘমেয়াদী মোতায়েনের জন্য এখানে আনা হয়েছে। সব মিলিয়ে থিওডোর রুজভেল্ট রণতরীটি পৌঁছালে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নৌসদস্য ও মেরিনের সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়ে যাবে, পাশাপাশি সেখানে মোতায়েন থাকবে শত শত যুদ্ধবিমান। থিওডোর রুজভেল্টের নেতৃত্বাধীন নৌবহর যুক্ত হলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ২০ হাজারের বেশি নৌসদস্য ও মেরিন এবং শত শত যুদ্ধবিমান অবস্থান করতে পারে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এর আগে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে দীর্ঘ সময়ের মোতায়েন শেষে সরিয়ে নেওয়ার পর তার জায়গায় জর্জ ওয়াশিংটনকে পাঠানো হয়।

ইরানের সাথে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটিতে নতুন করে সামরিক হামলার সম্ভাবনার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন চলাকালে কাতারের মধ্যস্থতায় ইরান একটি প্রস্তাব দিয়েছিল, যেখানে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে শান্তি আলোচনার কথা বলা হয়েছিল। তবে ট্রাম্প সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছেন, সামগ্রিক প্রস্তাবটি তার কাছে যথেষ্ট মনে হয়নি। ইরান ইস্যুতে কঠোর অবস্থানে থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ভবিষ্যতে আরও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছেন। প্রস্তাবটিতে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং পরবর্তী সময়ে বৃহত্তর শান্তি আলোচনার বিষয় ছিল। একই সময়ে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে আরও সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি।

এরই মধ্যে ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ইসরাইলগামী বিমানে হামলার ঘটনায় ইরানের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। গত বুধবারের সেই ঘটনায় কো-পাইলট হঠাৎ ককপিটে ক্যাপ্টেনকে ছুরিকাঘাত করলে বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারাতে শুরু করে। পরবর্তীতে যাত্রী ও ক্রুদের হস্তক্ষেপে কো-পাইলটকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় এবং বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক এলাকায় জরুরি অবতরণ করে। ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তার কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী এই ঘটনায় ইরানের সংশ্লিষ্টতার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত দেশটির সরাসরি জড়িত থাকার আনুষ্ঠানিক কোনো প্রমাণ বা হামলাকারীর সাথে কোনো সংগঠনের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে, আর ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ঘটনার সাথে ইরানের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাঘাটায় অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, ড্রেজার মেশিন ও সরঞ্জাম জব্দ

Verified by MonsterInsights

মধ্যপ্রাচ্যে আরও ৯ হাজার সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আপলোডের সময় : 09:41:53 am, Saturday, 3 October 2026

মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে তৃতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন। ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্টের নেতৃত্বাধীন এই নৌবহরের সাথে প্রায় ৯ হাজার মার্কিন সেনা ও নৌসদস্য ওই অঞ্চলে মোতায়েন করা হবে। মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের শেষ থেকে নভেম্বরের মধ্যে এই নৌবহরটি মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বর্তমানে অঞ্চলটিতে ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ এবং ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন অবস্থান করছে। জর্জ ওয়াশিংটনকে সম্প্রতি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে সরিয়ে দীর্ঘমেয়াদী মোতায়েনের জন্য এখানে আনা হয়েছে। সব মিলিয়ে থিওডোর রুজভেল্ট রণতরীটি পৌঁছালে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নৌসদস্য ও মেরিনের সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়ে যাবে, পাশাপাশি সেখানে মোতায়েন থাকবে শত শত যুদ্ধবিমান। থিওডোর রুজভেল্টের নেতৃত্বাধীন নৌবহর যুক্ত হলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ২০ হাজারের বেশি নৌসদস্য ও মেরিন এবং শত শত যুদ্ধবিমান অবস্থান করতে পারে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এর আগে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে দীর্ঘ সময়ের মোতায়েন শেষে সরিয়ে নেওয়ার পর তার জায়গায় জর্জ ওয়াশিংটনকে পাঠানো হয়।

ইরানের সাথে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটিতে নতুন করে সামরিক হামলার সম্ভাবনার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন চলাকালে কাতারের মধ্যস্থতায় ইরান একটি প্রস্তাব দিয়েছিল, যেখানে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে শান্তি আলোচনার কথা বলা হয়েছিল। তবে ট্রাম্প সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছেন, সামগ্রিক প্রস্তাবটি তার কাছে যথেষ্ট মনে হয়নি। ইরান ইস্যুতে কঠোর অবস্থানে থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ভবিষ্যতে আরও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছেন। প্রস্তাবটিতে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং পরবর্তী সময়ে বৃহত্তর শান্তি আলোচনার বিষয় ছিল। একই সময়ে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে আরও সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি।

এরই মধ্যে ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ইসরাইলগামী বিমানে হামলার ঘটনায় ইরানের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। গত বুধবারের সেই ঘটনায় কো-পাইলট হঠাৎ ককপিটে ক্যাপ্টেনকে ছুরিকাঘাত করলে বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারাতে শুরু করে। পরবর্তীতে যাত্রী ও ক্রুদের হস্তক্ষেপে কো-পাইলটকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় এবং বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক এলাকায় জরুরি অবতরণ করে। ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তার কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী এই ঘটনায় ইরানের সংশ্লিষ্টতার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত দেশটির সরাসরি জড়িত থাকার আনুষ্ঠানিক কোনো প্রমাণ বা হামলাকারীর সাথে কোনো সংগঠনের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে, আর ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ঘটনার সাথে ইরানের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।