
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য গত ১৯ সেপ্টেম্বর নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এই নতুন কাঠামোর আওতায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রায় তিন মাসের বকেয়া বেতন একসঙ্গে পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে বকেয়ার পরিমাণ নির্ভর করবে নতুন বেতন নির্ধারণ বা ‘পে ফিক্সেশন’ প্রক্রিয়ার ওপর। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ এই কাজ শুরু করার জন্য আগামী ৫ অক্টোবর থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করে দিয়েছে। কাজটি ২০ অক্টোবরের মধ্যে শেষ করতে বলেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। ১১ বছরের মাথায় সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য গত ১৯ সেপ্টেম্বর নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার।
বেতন নির্ধারণের জন্য সরকারি কর্মচারীদের আইবাস প্লাস প্লাস (iBAS++) পোর্টালে লগইন করে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য ও চাকরিসংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য হালনাগাদ করতে হবে। এর মধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, জন্মতারিখ, বর্তমান পদ ও গ্রেড, চাকরিতে যোগদানের তারিখ এবং বর্তমান মূল বেতনের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এছাড়া আগের বেতন নির্ধারণের তথ্যের সঙ্গে নতুন তথ্যের মিল থাকা জরুরি। অনলাইনে তথ্য পূরণের পর সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয় সেগুলো যাচাই করবে। কোনো অসংগতি পাওয়া গেলে সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে, তাই তথ্য দেওয়ার সময় সতর্ক থাকতে হবে। প্রয়োজনে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার সহায়তা নেওয়া যাবে। চাকরিজীবীরা এই পোর্টালে প্রবেশ করে নিজেদের চাকরিসংক্রান্ত তথ্য দেবেন। বেতন নির্ধারণের বিষয়টি সরকারি চাকরিজীবীদের কাছে পে ফিক্সেশন হিসেবে পরিচিত। এসব তথ্যের পক্ষে থাকা অফিস আদেশ ও প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রাখতে হবে। বিশেষ করে নাম, এনআইডি, জন্মতারিখ, পদবি, গ্রেড ও বেতনসংক্রান্ত তথ্য ভালোভাবে মিলিয়ে দেখা জরুরি।
বকেয়া বেতনের পরিমাণ সবার ক্ষেত্রে সমান হবে না। এটি মূলত গ্রেড, বর্তমান মূল বেতন, নতুন কাঠামো অনুযায়ী নির্ধারিত বেতন এবং কার্যকর হওয়ার তারিখের ওপর নির্ভর করবে। নতুন বেতন নির্ধারণ চূড়ান্ত হওয়ার পরেই বেতন বিল তৈরি ও বকেয়া পাওনার চূড়ান্ত হিসাব করা হবে। অর্থ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে মূল বেতনের ৭০ শতাংশ দেওয়ার জন্য সরকার ৩৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে।
নতুন এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের কাজ ২০২৬–২৭ ও ২০২৭–২৮—এই দুই অর্থবছরে ধাপে ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রথম ধাপ, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত দ্বিতীয় ধাপ এবং ১ জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তৃতীয় ধাপে মূল বেতন দেওয়া হবে। এছাড়া ভাতা কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে। বর্তমানে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতনের ভিত্তিতে নতুন বেতন নির্ধারণ করা হচ্ছে। নতুন ও পুরাতন বেতনের পার্থক্যের ৪০ শতাংশ চলতি বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এবং ৭০ শতাংশ ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এরপর ১ জুলাই ২০২৭ থেকে পুরো নতুন মূল বেতন কার্যকর হবে।
নতুন বেতন কাঠামোতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বেতন নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় আগের পদোন্নতি, টাইম স্কেল ও উচ্চতর গ্রেডের ইতিহাসও সঠিকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। অর্থ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, আগের কাঠামোতে একই পদে দুই বা ততোধিক সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেড পেয়ে থাকলে নতুন কাঠামোতে আর বাড়তি কোনো গ্রেড পাওয়ার সুযোগ থাকবে না। তবে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত যদি একটিমাত্র উচ্চতর গ্রেড পাওয়া থাকে, তবে ছয় বছর পূর্তির পর দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার বিধান কার্যকর থাকবে।
এই পুরো প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এসপিএফএমএস কর্মসূচির আওতায় প্রধান হিসাব ও অর্থ কর্মকর্তা (সিএএফও), বিভাগীয় হিসাব নিয়ন্ত্রক (ডিসিএ), জেলা হিসাব ও অর্থ কর্মকর্তা (ডিএএফও) এবং উপজেলা হিসাব কর্মকর্তা (ইউএও) কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন।
প্রতিনিধির নাম 

























