চুয়েটে উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন ১৩তম দিনে

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনরায় দায়িত্ব দেওয়ার দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ১৩তম দিনে গড়িয়েছে। একই দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাদের পূর্ণ কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন। গত রোববারও তারা উপাচার্য ভবনের সামনে দিনভর অবস্থান নিয়ে তাদের দাবি জোরালো করেন।

চলমান এই পরিস্থিতির কারণে গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসনিক ও একাডেমিক সব ভবনে তালা ঝুলছে, যার ফলে দাপ্তরিক ও শিক্ষা কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের কার্যালয়ের দরজায় তালা ঝুলিয়ে সেখানে লিখে রেখেছেন, এই তালা শুধু অধ্যাপক সায়েম স্যারই খুলতে পারবেন। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করলেও গত রোববার শিক্ষার্থীরা কোনো বিক্ষোভ মিছিল করেননি। টানা ১৩ দিন আন্দোলনের কারণে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে নতুন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম এখন পর্যন্ত ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেননি। এরপর ২২ সেপ্টেম্বর থেকে চুয়েটে শিক্ষার্থীদের ‘সর্বাত্মক শাটডাউন’ কর্মসূচি চলছে।

শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সমিতির প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষের গত শনিবার একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। চুয়েটের সহকারী অধ্যাপক সামিউন বাসির জানান, ওই আলোচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংকট এবং অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিটি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সরকার বিষয়টি ধৈর্য ধরে শুনেছে এবং দ্রুত স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে বলে তারা আশাবাদী। তিনি বলেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ধৈর্য নিয়ে শুনেছে। আশা করি উপস্থাপিত বিষয়গুলো যথাযথভাবে বিবেচনা করে চুয়েটের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রীয়তোষ চক্রবর্তী বলেন, দাবি আদায়ে তারা অটল রয়েছেন এবং সরকারের উচ্চমহলে বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে। চুয়েটের অচলাবস্থা নিরসনে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন আন্দোলনকারীরা। উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর ৫৬ দিনের মাথায় অধ্যাপক সায়েমকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং একই সময়ে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই উত্তাল হয়ে ওঠে চুয়েট ক্যাম্পাস।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাঘাটায় অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, ড্রেজার মেশিন ও সরঞ্জাম জব্দ

Verified by MonsterInsights

চুয়েটে উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন ১৩তম দিনে

আপলোডের সময় : 09:51:22 am, Monday, 5 October 2026

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনরায় দায়িত্ব দেওয়ার দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ১৩তম দিনে গড়িয়েছে। একই দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাদের পূর্ণ কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন। গত রোববারও তারা উপাচার্য ভবনের সামনে দিনভর অবস্থান নিয়ে তাদের দাবি জোরালো করেন।

চলমান এই পরিস্থিতির কারণে গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসনিক ও একাডেমিক সব ভবনে তালা ঝুলছে, যার ফলে দাপ্তরিক ও শিক্ষা কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের কার্যালয়ের দরজায় তালা ঝুলিয়ে সেখানে লিখে রেখেছেন, এই তালা শুধু অধ্যাপক সায়েম স্যারই খুলতে পারবেন। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করলেও গত রোববার শিক্ষার্থীরা কোনো বিক্ষোভ মিছিল করেননি। টানা ১৩ দিন আন্দোলনের কারণে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে নতুন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম এখন পর্যন্ত ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেননি। এরপর ২২ সেপ্টেম্বর থেকে চুয়েটে শিক্ষার্থীদের ‘সর্বাত্মক শাটডাউন’ কর্মসূচি চলছে।

শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সমিতির প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষের গত শনিবার একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। চুয়েটের সহকারী অধ্যাপক সামিউন বাসির জানান, ওই আলোচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংকট এবং অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিটি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সরকার বিষয়টি ধৈর্য ধরে শুনেছে এবং দ্রুত স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে বলে তারা আশাবাদী। তিনি বলেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ধৈর্য নিয়ে শুনেছে। আশা করি উপস্থাপিত বিষয়গুলো যথাযথভাবে বিবেচনা করে চুয়েটের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রীয়তোষ চক্রবর্তী বলেন, দাবি আদায়ে তারা অটল রয়েছেন এবং সরকারের উচ্চমহলে বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে। চুয়েটের অচলাবস্থা নিরসনে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন আন্দোলনকারীরা। উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর ৫৬ দিনের মাথায় অধ্যাপক সায়েমকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং একই সময়ে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই উত্তাল হয়ে ওঠে চুয়েট ক্যাম্পাস।