ইরান ঘিরে উত্তেজনায় সৌদি ও কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন

ইরানকে ঘিরে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দুই মিত্র দেশ সৌদি আরব ও কাতারে অতিরিক্ত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা এবং কাতারে প্রাকৃতিক গ্যাস স্থাপনার সুরক্ষার জন্য ওয়াশিংটন পৃথকভাবে দুটি প্যাট্রিয়ট ব্যাটারি মোতায়েন করেছে। বিশ্বজুড়ে এ ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সীমিত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও এমন পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা থাকলেও ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলার আশঙ্কায় তারা যুক্তরাষ্ট্রের এই অতিরিক্ত সহায়তার ওপর নির্ভর করছে। অতীতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিরোধী বিভিন্ন সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছিল। এছাড়া রিয়াদ ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধা ও ইরাকভিত্তিক শিয়া মিলিশিয়াদের কাছ থেকেও নিয়মিত নিরাপত্তা হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে, যা তাদের জ্বালানি অবকাঠামোকে ঝুঁকিতে ফেলেছে।

এদিকে ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বৃহস্পতিবার তিনি সতর্ক করে বলেন, তেহরানকে অবশ্যই একটি ‘ন্যায্য চুক্তি’ করতে হবে, অন্যথায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তার এই কঠোর বক্তব্যের পরই ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত এল।

এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত রোববার ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো থেকে রওয়ানা হয়েছে ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট বিমানবাহী রণতরী। এছাড়া প্রায় ১০ হাজার মেরিন সেনাসদস্যের সমন্বয়ে গঠিত ইউএসএস মাকিন আইল্যান্ড অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপও সোমবার যাত্রা শুরু করেছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ ও ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন অবস্থান করছে। থিওডোর রুজভেল্ট ওই অঞ্চলে পৌঁছালে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর সংখ্যা দাঁড়াবে তিনটিতে, যা ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের পর সর্বোচ্চ।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাঘাটায় অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, ড্রেজার মেশিন ও সরঞ্জাম জব্দ

Verified by MonsterInsights

ইরান ঘিরে উত্তেজনায় সৌদি ও কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন

আপলোডের সময় : 10:14:59 am, Monday, 5 October 2026

ইরানকে ঘিরে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দুই মিত্র দেশ সৌদি আরব ও কাতারে অতিরিক্ত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা এবং কাতারে প্রাকৃতিক গ্যাস স্থাপনার সুরক্ষার জন্য ওয়াশিংটন পৃথকভাবে দুটি প্যাট্রিয়ট ব্যাটারি মোতায়েন করেছে। বিশ্বজুড়ে এ ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সীমিত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও এমন পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা থাকলেও ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলার আশঙ্কায় তারা যুক্তরাষ্ট্রের এই অতিরিক্ত সহায়তার ওপর নির্ভর করছে। অতীতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিরোধী বিভিন্ন সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছিল। এছাড়া রিয়াদ ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধা ও ইরাকভিত্তিক শিয়া মিলিশিয়াদের কাছ থেকেও নিয়মিত নিরাপত্তা হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে, যা তাদের জ্বালানি অবকাঠামোকে ঝুঁকিতে ফেলেছে।

এদিকে ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বৃহস্পতিবার তিনি সতর্ক করে বলেন, তেহরানকে অবশ্যই একটি ‘ন্যায্য চুক্তি’ করতে হবে, অন্যথায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তার এই কঠোর বক্তব্যের পরই ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত এল।

এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত রোববার ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো থেকে রওয়ানা হয়েছে ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট বিমানবাহী রণতরী। এছাড়া প্রায় ১০ হাজার মেরিন সেনাসদস্যের সমন্বয়ে গঠিত ইউএসএস মাকিন আইল্যান্ড অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপও সোমবার যাত্রা শুরু করেছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ ও ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন অবস্থান করছে। থিওডোর রুজভেল্ট ওই অঞ্চলে পৌঁছালে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর সংখ্যা দাঁড়াবে তিনটিতে, যা ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের পর সর্বোচ্চ।