
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সম্প্রতি এমন ৪০ ব্যক্তির বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যারা জালিয়াতি ও গুরুতর অপরাধের সঙ্গে জড়িত। ২১ আগস্ট থেকে ২ অক্টোবরের মধ্যে বিভিন্ন ফেডারেল আদালতে এই মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে এত অল্প সময়ে একসঙ্গে এত বিপুল সংখ্যক মানুষের নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ এটিই প্রথম। অভিযুক্তদের তালিকায় মেক্সিকো, পাকিস্তান, চীন এবং সিয়েরা লিওনের নাগরিকসহ বিভিন্ন দেশের ব্যক্তিরা রয়েছেন।
মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লঁশ এই পদক্ষেপকে আধুনিক ইতিহাসে নাগরিকত্ব বাতিলের সবচেয়ে বড় উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, জাতীয় নিরাপত্তা অটুট রাখা এবং মার্কিন জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিচার বিভাগ ভবিষ্যতে এই আইনি প্রক্রিয়া আরও জোরদার করবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার, ভিসা জালিয়াতি, কর ফাঁকি, শিশু নিপীড়ন ও গুপ্তচরবৃত্তির মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
বিচার বিভাগের অভিযোগ অনুযায়ী, নাগরিকত্বের আবেদনের সময় এই ৪০ জন জেনেশুনে তাদের অতীত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছিলেন। বিশেষ করে, অভিযুক্তদের মধ্যে দু’জনের বিরুদ্ধে চীনের হয়ে গোয়েন্দাগিরির অভিযোগ রয়েছে, যাদের মধ্যে একজন মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক সদস্য জিনচাও ওয়েই এবং অন্যজন পিং লি। সরকারি কৌঁসুলিদের দাবি, এই অপরাধগুলোর অনেকগুলোই নাগরিকত্ব পাওয়ার আগে সংঘটিত হয়েছিল, যা গোপন করার ফলে তারা ‘সৎ নৈতিক চরিত্র’ প্রমাণের শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে স্বাভাবিকীকরণ বা ন্যাচারালাইজেশন প্রক্রিয়ায় প্রাপ্ত নাগরিকত্ব বাতিলের বিধান কয়েক দশক ধরেই কার্যকর রয়েছে। যখন কেউ আবেদনপত্রে মিথ্যা তথ্য দেন বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লুকান, তখন সরকার আদালতের শরণাপন্ন হতে পারে। তবে এই আইন ব্যাপকভাবে প্রয়োগের সিদ্ধান্তের কারণে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এমন উদ্যোগের ফলে অনেক ব্যক্তি রাষ্ট্রহীন পরিস্থিতির মুখে পড়তে পারেন।
প্রসঙ্গত, এর আগেও ট্রাম্প প্রশাসন জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের নিয়মের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের চেষ্টা করেছে। তবে আইনি বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বাভাবিকীকরণের মাধ্যমে পাওয়া নাগরিকত্বের আইনি সুরক্ষা এবং জন্মসূত্রে প্রাপ্ত নাগরিকত্বের সুরক্ষার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। বিচার বিভাগ এই নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে মার্কিন অভিবাসন ও নাগরিকত্ব নীতিতে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।
প্রতিনিধির নাম 

























