
যুক্তরাষ্ট্রে গত সেপ্টেম্বরে ডিজেলের দাম গ্যালনপ্রতি প্রায় ৬ দশমিক ৫০ ডলারে পৌঁছে রেকর্ড গড়েছে। জ্বালানির এই চড়া দামের ফলে ভোক্তা ও ব্যবসায়ী—উভয় ক্ষেত্রেই ব্যয় বহুগুণ বেড়ে গেছে। আগামী ৩ নভেম্বরের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগে এই অর্থনৈতিক চাপ কমাতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডিজেলের দাম সহজলভ্য করার একটি বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন। সূত্রের খবর, এ লক্ষ্যে একটি নির্বাহী আদেশ জারির কাজ চলছে যা সোমবার নাগাদ ঘোষণা করা হতে পারে।
প্রস্তাবিত এই পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ‘রেড-ডাইড ডিজেল’ সাধারণের জন্য সহজলভ্য করা। সাধারণত কৃষিকাজসহ বিশেষ কিছু অফ-রোড যানবাহনে ব্যবহৃত এই জ্বালানির ওপর করের হার তুলনামূলক কম থাকে। এছাড়া, সড়কে পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত ডিজেলের ওপর কর মওকুফ বা ছাড়ের বিষয়ে রাজ্যগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করার জন্য পরিবহন বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে। এতে ট্রাক পরিবহনসহ জ্বালানি-নির্ভর খাতগুলোতে ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য পরিবহন ব্যবস্থার মেরুদণ্ড হলো ডিজেল। ফলে এর মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার দামে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান এই সংকটের পেছনে ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ চেইনে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা ও অস্থিতিশীলতাকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি, রাশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন তেল শোধনাগারে হামলার ঘটনাও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।
এই সংকট মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। দেশটির চাপের মুখে গত সপ্তাহে জি৭ ভুক্ত দেশগুলো বিশ্বের বাজারে ১০ কোটি ব্যারেল ডিজেল ছাড়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। যদিও এর মধ্যে কতটুকু নতুন সরবরাহ আর কতটুকু মার্চে করা পূর্বের বৈশ্বিক চুক্তির অংশ, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। তবে দেশের ভেতর ও বাইরে এই সমন্বিত উদ্যোগগুলো ডিজেলের আকাশচুম্বী দাম নিয়ন্ত্রণে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, তা এখন দেখার বিষয়।
প্রতিনিধির নাম 

























