গোপন নথি পাচার: জার্মানির সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান হ্যানিং গ্রেপ্তার

বিদেশি শক্তির কাছে প্রায় ২ হাজার সংবেদনশীল ও অত্যন্ত গোপনীয় নথি পাচার, গুপ্তচরবৃত্তি এবং রাষ্ট্রদ্রোহের গুরুতর অভিযোগে জার্মানির সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান অগাস্ট হ্যানিংকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দেশটির ফেডারেল প্রসিকিউটর অফিস এক বিবৃতিতে এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হ্যানিং ১৯৯৮ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত জার্মানির ফেডারেল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (বিএনডি)-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এই গোয়েন্দা সংস্থা থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পরামর্শক হিসেবে কাজ করছিলেন।

তদন্তকারীদের মতে, এই বিশাল তথ্য পাচারের ঘটনায় হ্যানিংয়ের সঙ্গে তার সাবেক ব্যুরোপ্রধান ম্যানফ্রেড ডি-ও জড়িত ছিলেন। অর্থের বিনিময়ে তথ্য হাতবদলের অভিযোগে বাভারিয়া থেকে ম্যানফ্রেড ডি-কে এবং মুনস্টারের কাছাকাছি নর্ডওয়াল্ডে হ্যানিংয়ের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে জার্মান পুলিশ। ম্যানফ্রেড ডি ২০১২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিএনডি প্রধানদের চিফ অব স্টাফের দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগ উঠেছে, নিজের পদের প্রভাব খাটিয়ে তিনি অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের অত্যন্ত গোপনীয় নথি সংগ্রহ করেন এবং অর্থের বিনিময়ে তা হ্যানিংয়ের কাছে হস্তান্তর করেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ম্যানফ্রেডের দেওয়া এসব অতি সংবেদনশীল গোপন নথি ব্যবহার করে হ্যানিং একটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার জন্য বিশেষ বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন তৈরি করেছিলেন। এ ছাড়া আরেকটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধির সঙ্গে দীর্ঘ সময় যোগাযোগ রক্ষা করে রাজনৈতিক তথ্য সরবরাহের অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে চলমান তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট বিদেশি রাষ্ট্র বা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নাম এখনই প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। গ্রেপ্তার হওয়া এই দুই সাবেক কর্মকর্তাকে আদালতে হাজির করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

আশ্চর্যজনকভাবে, একটি ভিন্ন মামলার তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ আকস্মিকভাবে হ্যানিংয়ের কাছে থাকা এই গোপন নথির সন্ধান পায়। জার্মান স্টেকহাউস ব্যবসায়ী ক্রিস্টিনা ব্লকের সন্তানদের অপহরণের ঘটনা তদন্তের সময় পুলিশ একটি ইলেকট্রনিক ডেটা স্টোরেজ ডিভাইস উদ্ধার করে। সেটি পরীক্ষা করতে গিয়েই মূলত বিএনডির বেশ কিছু অতি সাম্প্রতিক ও সংবেদনশীল নথির সন্ধান মেলে, যা শেষ পর্যন্ত এই দুই হাই-প্রোফাইল সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তার দিকে নির্দেশ করে।

জার্মানির গোয়েন্দা বিভাগে গোপন নথি পাচারের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে ২০২৩ সালেও কার্স্টেন এল নামের এক শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ইউক্রেন যুদ্ধ ও ওয়াগনার গ্রুপ সম্পর্কিত স্পর্শকাতর তথ্য রাশিয়ার কাছে পাচারের অভিযোগ ওঠে। এর বিনিময়ে তিনি প্রায় ৪ লাখ ইউরো নিয়েছিলেন বলে জানা যায়। সেই বহুল আলোচিত মামলার বিচার প্রক্রিয়া এখনো আদালতে চলমান রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাঘাটায় অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, ড্রেজার মেশিন ও সরঞ্জাম জব্দ

Verified by MonsterInsights

গোপন নথি পাচার: জার্মানির সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান হ্যানিং গ্রেপ্তার

আপলোডের সময় : 11:29:22 am, Wednesday, 7 October 2026

বিদেশি শক্তির কাছে প্রায় ২ হাজার সংবেদনশীল ও অত্যন্ত গোপনীয় নথি পাচার, গুপ্তচরবৃত্তি এবং রাষ্ট্রদ্রোহের গুরুতর অভিযোগে জার্মানির সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান অগাস্ট হ্যানিংকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দেশটির ফেডারেল প্রসিকিউটর অফিস এক বিবৃতিতে এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হ্যানিং ১৯৯৮ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত জার্মানির ফেডারেল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (বিএনডি)-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এই গোয়েন্দা সংস্থা থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পরামর্শক হিসেবে কাজ করছিলেন।

তদন্তকারীদের মতে, এই বিশাল তথ্য পাচারের ঘটনায় হ্যানিংয়ের সঙ্গে তার সাবেক ব্যুরোপ্রধান ম্যানফ্রেড ডি-ও জড়িত ছিলেন। অর্থের বিনিময়ে তথ্য হাতবদলের অভিযোগে বাভারিয়া থেকে ম্যানফ্রেড ডি-কে এবং মুনস্টারের কাছাকাছি নর্ডওয়াল্ডে হ্যানিংয়ের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে জার্মান পুলিশ। ম্যানফ্রেড ডি ২০১২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিএনডি প্রধানদের চিফ অব স্টাফের দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগ উঠেছে, নিজের পদের প্রভাব খাটিয়ে তিনি অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের অত্যন্ত গোপনীয় নথি সংগ্রহ করেন এবং অর্থের বিনিময়ে তা হ্যানিংয়ের কাছে হস্তান্তর করেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ম্যানফ্রেডের দেওয়া এসব অতি সংবেদনশীল গোপন নথি ব্যবহার করে হ্যানিং একটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার জন্য বিশেষ বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন তৈরি করেছিলেন। এ ছাড়া আরেকটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধির সঙ্গে দীর্ঘ সময় যোগাযোগ রক্ষা করে রাজনৈতিক তথ্য সরবরাহের অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে চলমান তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট বিদেশি রাষ্ট্র বা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নাম এখনই প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। গ্রেপ্তার হওয়া এই দুই সাবেক কর্মকর্তাকে আদালতে হাজির করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

আশ্চর্যজনকভাবে, একটি ভিন্ন মামলার তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ আকস্মিকভাবে হ্যানিংয়ের কাছে থাকা এই গোপন নথির সন্ধান পায়। জার্মান স্টেকহাউস ব্যবসায়ী ক্রিস্টিনা ব্লকের সন্তানদের অপহরণের ঘটনা তদন্তের সময় পুলিশ একটি ইলেকট্রনিক ডেটা স্টোরেজ ডিভাইস উদ্ধার করে। সেটি পরীক্ষা করতে গিয়েই মূলত বিএনডির বেশ কিছু অতি সাম্প্রতিক ও সংবেদনশীল নথির সন্ধান মেলে, যা শেষ পর্যন্ত এই দুই হাই-প্রোফাইল সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তার দিকে নির্দেশ করে।

জার্মানির গোয়েন্দা বিভাগে গোপন নথি পাচারের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে ২০২৩ সালেও কার্স্টেন এল নামের এক শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ইউক্রেন যুদ্ধ ও ওয়াগনার গ্রুপ সম্পর্কিত স্পর্শকাতর তথ্য রাশিয়ার কাছে পাচারের অভিযোগ ওঠে। এর বিনিময়ে তিনি প্রায় ৪ লাখ ইউরো নিয়েছিলেন বলে জানা যায়। সেই বহুল আলোচিত মামলার বিচার প্রক্রিয়া এখনো আদালতে চলমান রয়েছে।