
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। নিজের মুখেই তিনি এই আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। অথচ তার শাসনামলে ইরানের সাথে চলমান সংঘাত, ইউক্রেন যুদ্ধের অমীমাংসিত অবস্থা এবং কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার বিতর্কিত পরিকল্পনাসহ নানা বিষয়ে বিশ্বব্যাপী সমালোচনা রয়েছে। এছাড়া গ্রিনল্যান্ড দখল ও গাজায় রিভেরা তৈরির ঘোষণা দিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা অস্বস্তি তৈরি করেছেন। যিনি পুরস্কারটি পেয়েছিলেন, তিনি বলেছেন, ইতিহাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চেয়ে বেশি কেউই এর যোগ্য নন। ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সফল হননি। লেক অব টরন্টোকে নিজের মতো করে লেক অব আমেরিকা নামকরণ করেছেন।
একই সাথে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে রাজধানী থেকে তুলে নেওয়া, কিউবার ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাণিজ্যিক শুল্ক আরোপের মতো পদক্ষেপ নিয়েছেন ট্রাম্প। তার দাবি, গত বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর আটটি আন্তর্জাতিক সংঘাতে তিনি হস্তক্ষেপ করেছেন, যার কারণে শান্তিতে নোবেল তার প্রাপ্য। তবে এই পুরস্কার তিনি আদৌ পাবেন কি না, তা নিয়ে নিজেই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ট্রাম্প যেসব সংঘাতের সমাধান করেছেন বলে দাবি করেন, সেসব সংঘাতে জড়িত পক্ষগুলোর কেউ কেউ তার কূটনৈতিক ভূমিকা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অধিক থেকে অধিক হারে শুল্ক আরোপ করে যাচ্ছেন। ভেনিজুয়েলার তেল কার্যত নিজের দখলে নিয়েছেন।
আগামী শুক্রবার নরওয়ের নোবেল কমিটি ২০২৬ সালের শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করবে। বুধবার ট্রাম্প বলেন, তারা কী সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে তা আমার জানা নেই। তবে তাদের সুনাম রয়েছে। হয়তো আমার মতো মানুষকে তারা পুরস্কার না-ও দিতে পারে। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, দ্বিতীয় মেয়াদে ফেরার পর থেকেই তিনি পুরস্কারের দাবি জানিয়ে আসছেন। ট্রাম্প আরও যোগ করেন, গতবার তিনি পরোক্ষভাবে পদক পেয়ে সম্মানিত বোধ করেছিলেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের নোবেল বিজয়ী ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো তার পদকটি ট্রাম্পকে উৎসর্গ করেছিলেন।
ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, কম্বোডিয়া, ইসরাইল ও পাকিস্তানের নেতারা তাকে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিয়েছেন। তবে এসব মনোনয়নের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করার সুযোগ নেই। ট্রাম্প যেসব সংঘাত সমাধানের দাবি করেন, সেগুলোর অনেক পক্ষ তার কূটনীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এমনকি ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো এবং কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড সীমান্তের মতো এলাকায় আবারও নতুন করে লড়াই শুরু হয়েছে। দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দিনে ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও সেটি আজও অধরা রয়ে গেছে। গ্রিনল্যান্ডকে দখল করে নেয়ার হুমকি দিয়েছেন।
এদিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার ফলে সাত মাস ধরে চলা উত্তেজনায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ও গ্যাসের দামে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, যা নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মার্কিন রাজনীতিতে প্রভাব ফেলছে। উল্লেখ্য, এবারের নোবেল শান্তি পুরস্কারের সম্ভাব্য তালিকায় পোপ লিও, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক বিশেষ র্যাপোর্টিয়ারসহ আরও অনেকের নাম আলোচনায় রয়েছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
প্রতিনিধির নাম 

























