সিরাজগঞ্জের স্কুলে সততা স্টোর: তদারকি ছাড়াই চলছে নৈতিকতার পাঠ

সিরাজগঞ্জ শহরের বিএল উচ্চ বিদ্যালয় এবং হৈমবালা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে দেখা মিলছে এক ভিন্নধর্মী উদ্যোগ। বিদ্যালয়ের একটি নির্দিষ্ট কক্ষে টেবিলের ওপর সাজিয়ে রাখা হয়েছে চকলেট, বিস্কুট, খাতা, কলমসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ। পাশে চিপস ও চানাচুরের প্যাকেটও ঝুলছে। তবে এসব কেনাকাটার জন্য সেখানে কোনো বিক্রেতা বা তদারকি করার মতো কেউ নেই। শিক্ষার্থীরা নিজের প্রয়োজনমতো পণ্য নিয়ে পাশে রাখা নিবন্ধন খাতায় হিসাব লিখে রাখছে এবং নির্ধারিত বাক্সে পণ্যের মূল্য জমা দিচ্ছে। এভাবেই সিরাজগঞ্জের প্রতিটি উপজেলায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে ‘সততা স্টোর’। কেবল সদর উপজেলাতেই বর্তমানে ১৮টি বিদ্যালয়ে এই স্টোরগুলো চালু রয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিন পরিদর্শনে এসে এই কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন দুদকের রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক মো. ফজলুল বারী এবং রাজশাহী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাধন চন্দ্র সূত্রধর। পরিদর্শনের সময় মো. ফজলুল বারী বলেন, সততা স্টোর মূলত শিক্ষার্থীদের সততা ও নৈতিকতার একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র। প্রথম শ্রেণি থেকে এসএসসি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা এখান থেকে পণ্য কিনে যে শিক্ষা পাবে, তা তাদের মনের গভীরে সততার বীজ বপন করবে। এই শিক্ষা তাদের পরবর্তী কর্মজীবনেও আলো ছড়িয়ে দেবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা চর্চায় এই উদ্যোগ দারুণ প্রভাব ফেলছে। হৈমবালা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা সারিবদ্ধভাবে স্টোরে এসে কেনাকাটা করছে। স্থানীয়ভাবে পরিচিত এই স্টোরগুলোতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় এক হাজার টাকার পণ্য বিক্রি হয়। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, শুরুতে বিষয়টি তাদের কাছে অবাক করার মতো মনে হলেও, শিক্ষকদের বোঝানোর পর তারা এখন আনন্দের সঙ্গেই এই সততার চর্চায় অংশ নিচ্ছে।

হৈমবালা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সততা স্টোরের দায়িত্বে থাকা শিক্ষক মোছা. শামীম আরা জানান, ২০১৯ সাল থেকে দুদকের সহায়তায় এই কার্যক্রম চলমান। এটি মুনাফার জন্য নয়, বরং শিক্ষার্থীদের সৎ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতেই কাজ করছে। বিশেষ করে, বাইরের দোকানের তুলনায় এখানে প্রতিটি পণ্যের দাম এক থেকে দুই টাকা কম রাখা হয়। জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মাসুদ রানা বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সততার মনোভাব বিকশিত করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতে সিরাজগঞ্জে আরও বেশি বিদ্যালয়ে সততা স্টোর সম্প্রসারণের আশ্বাস দিয়েছেন দুদকের বিভাগীয় পরিচালক।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাঘাটায় অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, ড্রেজার মেশিন ও সরঞ্জাম জব্দ

Verified by MonsterInsights

সিরাজগঞ্জের স্কুলে সততা স্টোর: তদারকি ছাড়াই চলছে নৈতিকতার পাঠ

আপলোডের সময় : 10:51:00 am, Friday, 9 October 2026

সিরাজগঞ্জ শহরের বিএল উচ্চ বিদ্যালয় এবং হৈমবালা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে দেখা মিলছে এক ভিন্নধর্মী উদ্যোগ। বিদ্যালয়ের একটি নির্দিষ্ট কক্ষে টেবিলের ওপর সাজিয়ে রাখা হয়েছে চকলেট, বিস্কুট, খাতা, কলমসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ। পাশে চিপস ও চানাচুরের প্যাকেটও ঝুলছে। তবে এসব কেনাকাটার জন্য সেখানে কোনো বিক্রেতা বা তদারকি করার মতো কেউ নেই। শিক্ষার্থীরা নিজের প্রয়োজনমতো পণ্য নিয়ে পাশে রাখা নিবন্ধন খাতায় হিসাব লিখে রাখছে এবং নির্ধারিত বাক্সে পণ্যের মূল্য জমা দিচ্ছে। এভাবেই সিরাজগঞ্জের প্রতিটি উপজেলায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে ‘সততা স্টোর’। কেবল সদর উপজেলাতেই বর্তমানে ১৮টি বিদ্যালয়ে এই স্টোরগুলো চালু রয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিন পরিদর্শনে এসে এই কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন দুদকের রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক মো. ফজলুল বারী এবং রাজশাহী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাধন চন্দ্র সূত্রধর। পরিদর্শনের সময় মো. ফজলুল বারী বলেন, সততা স্টোর মূলত শিক্ষার্থীদের সততা ও নৈতিকতার একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র। প্রথম শ্রেণি থেকে এসএসসি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা এখান থেকে পণ্য কিনে যে শিক্ষা পাবে, তা তাদের মনের গভীরে সততার বীজ বপন করবে। এই শিক্ষা তাদের পরবর্তী কর্মজীবনেও আলো ছড়িয়ে দেবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা চর্চায় এই উদ্যোগ দারুণ প্রভাব ফেলছে। হৈমবালা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা সারিবদ্ধভাবে স্টোরে এসে কেনাকাটা করছে। স্থানীয়ভাবে পরিচিত এই স্টোরগুলোতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় এক হাজার টাকার পণ্য বিক্রি হয়। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, শুরুতে বিষয়টি তাদের কাছে অবাক করার মতো মনে হলেও, শিক্ষকদের বোঝানোর পর তারা এখন আনন্দের সঙ্গেই এই সততার চর্চায় অংশ নিচ্ছে।

হৈমবালা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সততা স্টোরের দায়িত্বে থাকা শিক্ষক মোছা. শামীম আরা জানান, ২০১৯ সাল থেকে দুদকের সহায়তায় এই কার্যক্রম চলমান। এটি মুনাফার জন্য নয়, বরং শিক্ষার্থীদের সৎ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতেই কাজ করছে। বিশেষ করে, বাইরের দোকানের তুলনায় এখানে প্রতিটি পণ্যের দাম এক থেকে দুই টাকা কম রাখা হয়। জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মাসুদ রানা বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সততার মনোভাব বিকশিত করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতে সিরাজগঞ্জে আরও বেশি বিদ্যালয়ে সততা স্টোর সম্প্রসারণের আশ্বাস দিয়েছেন দুদকের বিভাগীয় পরিচালক।