
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষে রূপসা প্রেসক্লাবের আয়োজনে রূপসা উপজেলার নৈহাটি ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোল্লা সাইফুর রহমানের সঙ্গে চায়ের আড্ডায় নির্বাচনী আলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১০ অক্টোবর বিকালে রূপসা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত রূপসা প্রেসক্লাবের সদস্যরা নৈহাটি ইউনিয়নের উন্নয়ন, রূপসা ঘাটের পারাপার সমস্যা, নাগরিক সেবা, সরকারি বিভিন্ন কার্ডের সুবিধা বণ্টনসহ স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে প্রশ্ন করেন। প্রশ্নোত্তর পর্বটি পরিচালনা করেন রূপসা প্রেসক্লাবের সহ-সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার হোসেন মানিক।
এ সময় বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী মোল্লা সাইফুর রহমান সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হলে নৈহাটি ইউনিয়নের উন্নয়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন এবং ইউনিয়ন পরিষদের নাগরিক সেবা সহজীকরণে তাঁর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেন। নির্বাচনী আলাপে রূপসা ঘাটের দীর্ঘদিনের পারাপার সমস্যা বিশেষ গুরুত্ব পায়। রূপসা নদী পারাপারে ব্যবহৃত গ্যাংয়ের সমস্যা, যাত্রীদের ভোগান্তি এবং ঘাটের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন। এ সময় খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলালের উদ্যোগে রূপসা ঘাটে নতুন গ্যাং নির্মাণাধীন থাকার বিষয়টি আলোচনায় আসে। নতুন গ্যাংয়ের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে পারাপার ব্যবস্থায় কী ধরনের সুবিধা সৃষ্টি হবে, তা নিয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি রূপসা ঘাটে ফেরি চালুর বিষয়টি উঠে আসে। ফেরি চালু হলে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার সহজ করা এবং দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে। রূপসা ঘাটের পারাপার সমস্যা নিরসনে নতুন গ্যাং নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করা, ফেরি চালুর উদ্যোগ এবং ঘাটের ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের বিষয়ে মোল্লা সাইফুর রহমানের কাছে জানতে চান সাংবাদিকরা। তিনি নির্বাচিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা ও জনদুর্ভোগ নিরসনে কাজ করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে সরকারি বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বিতরণ করা কার্ড ও সুবিধা নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা এবং অন্যান্য সরকারি সহায়তা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া, যোগ্য ব্যক্তিদের তালিকাভুক্তি এবং সুবিধা বণ্টনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো আলোচনায় আসে।
এছাড়া ফ্যামিলি কার্ড চালু হলে নৈহাটি ইউনিয়নের যোগ্য পরিবারগুলো যাতে এ সুবিধার আওতায় আসতে পারে, সে বিষয়ে তাঁর পরিকল্পনা জানতে চান সাংবাদিকরা। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী উপকারভোগী নির্বাচন, সঠিক তথ্য যাচাই এবং সুবিধাপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে সহযোগিতা করার বিষয়েও আলোচনা হয়। নৈহাটি ইউনিয়ন পরিষদের নাগরিক সেবা নিয়েও সাংবাদিকরা বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। জন্মনিবন্ধন, মৃত্যুনিবন্ধন, নাগরিক সনদসহ বিভিন্ন সেবা গ্রহণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানো, দ্রুত সেবা প্রদান এবং ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম আরও সহজ ও জনবান্ধব করার বিষয়ে আলোচনা হয়। এসময় এলাকার রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থার সংস্কার, জলাবদ্ধতা নিরসন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বিভিন্ন ওয়ার্ডের প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। মোল্লা সাইফুর রহমান নির্বাচিত হলে এলাকার সমস্যা চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান।
এ ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সেবা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বজায় রাখা, সাধারণ মানুষের অভিযোগ শোনা এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তিতে যোগ্য ব্যক্তিদের সহযোগিতা করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক এসএম মাহবুবুর রহমান, তরুণ চক্রবর্তী বিষ্ণু, কৃষ্ণ গোপাল সেন, খান মিজানুর রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান, আখতার খান, হামিদুল হক, রেজাউল ইসলাম তুরান, আবু হারুন অর রশিদ, আল মাহমুদ প্রিন্স, গোলাম মোস্তফা, তৌহিদুল ইসলাম কোচি, হোসাইন আহমেদ, চিত্তরঞ্জন সেন, আশিকুর রহমান বাবু।
স্টাফ রিপোর্টার 



















