
পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাওয়ালপিন্ডি জেলায় আগামী ৮ নভেম্বর পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্থানীয় ডেপুটি কমিশনার নাদিম নাসির গত শনিবার এই আদেশ দেন। এই বিধিনিষেধ অনুযায়ী, যে কোনো স্থানে পাঁচজনের বেশি মানুষের জমায়েত কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাওয়ালপিন্ডি জেলায় ৩০ দিনের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা এড়ানোর সুযোগ খুব কম: পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনশান্তি বজায় রাখতে প্রকাশ্যে অস্ত্র, বিস্ফোরক, ভারী লাঠি, গুলতি, পেট্রলবোমা কিংবা শারীরিক আঘাত হানতে পারে এমন কোনো সরঞ্জাম বহন ও প্রদর্শন করা যাবে না। এছাড়া ড্রোন ব্যবহার এবং আইনশৃঙ্খলার কাজে নিয়োজিত পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙার যেকোনো প্রচেষ্টাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
জেলা গোয়েন্দা কমিটির (ডিআইসি) দেওয়া সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের আশঙ্কা, কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী বিপুল জনসমাগম ও বিক্ষোভের মাধ্যমে জেলার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও জনজীবনে গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করতে পারে। এসব হুমকি সরকারি-বেসরকারি সম্পদের নিরাপত্তা ও সামগ্রিক শান্তি বিঘ্নিত করার আশঙ্কা রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে জেলা গোয়েন্দা কমিটি। এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গতকাল জেলা গোয়েন্দা কমিটির (ডিআইসি) এক বৈঠকে ডেপুটি কমিশনারকে জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামোর ওপর ‘আসন্ন হুমকি’ সম্পর্কে সতর্ক করা হয়।
বর্তমানে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) ইসলামাবাদ অভিমুখে লংমার্চ চলমান রয়েছে। যদিও এই লংমার্চ এখনো খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের বাইরে পৌঁছাতে পারেনি, তবুও দলটির পক্ষ থেকে লংমার্চ এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটেই রাওয়ালপিন্ডিতে বিধিনিষেধ আরোপ করা হলো। খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী গতকালও বলেছেন, তাঁর নেতৃত্বে লংমার্চ ইসলামাবাদের দিকে অগ্রসর হবে। খাইবার পাখতুনখাওয়া নিয়ে শাহবাজ-জারদারির বৈঠকে কী আলোচনা হলো।
এর আগেও পাকিস্তানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় জননিরাপত্তার খাতিরে একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। রাজধানী ইসলামাবাদে ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে দুই মাসের জন্য ১৪৪ ধারা কার্যকর করা হয়েছে। পাশাপাশি লাহোরেও ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত একই বিধিনিষেধ বলবৎ রয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও লংমার্চ কেন্দ্রিক উত্তেজনার মধ্যেই দেশটির প্রধান শহরগুলোতে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনিক কড়াকড়ি অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিনিধির নাম 

























