এক সপ্তাহে সৌদির ৬ বিমানবন্দরে হুতিদের ৭ দফা হামলা

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত আনসারুল্লাহ হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী গত এক সপ্তাহে সৌদি আরবের বিভিন্ন বেসামরিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে অন্তত সাতবার প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে। রিয়াদ, দাম্মাম, আবহা, জাজান ও নাজরান শহরের বিমানবন্দরগুলোতে চালানো এই ধারাবাহিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন সাড়ে তিনশ’র বেশি মানুষ। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা ও রয়টার্স এবং এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই নজিরবিহীন আক্রমণে সাধারণ যাত্রী ও বিমান চলাচলের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে। পরপর রিয়াদ ও দাম্মামের মতো আন্তর্জাতিক ট্রানজিট হাবগুলোতে নজিরবিহীন আক্রমণ চালিয়ে সাধারণ যাত্রী ও বিমান চলাচলের ওপর চরম হুমকি তৈরি করেছে হুথি গোষ্ঠী।

সর্বশেষ গত রবিবার (১১ অক্টোবর) রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৪ নম্বর টার্মিনালে হামলা চালানো হয়। এতে অগ্নিকাণ্ডের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। একই দিনে পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। এর আগের দিন শনিবার (১০ অক্টোবর) রিয়াদ বিমানবন্দরে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় হামলাটি ঘটে, যেখানে ২ জন বাংলাদেশি নাগরিক ও ৪ জন সৌদি নাগরিকসহ মোট ১২ জন নিহত হন এবং ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন।

হামলার ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রিয়াদ বিমানবন্দরে চালানো হামলায় এক জন পাইলটসহ ৩ জন সৌদি নাগরিক নিহত হন। এর আগের দিন বুধবার (৭ অক্টোবর) রিয়াদের একই স্থানে চালানো অন্য একটি হামলায় ১ জন সুদানীয় নাগরিক নিহত ও ৮ জন আহত হন। সপ্তাহের শুরুতে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালানো হামলায় মরক্কো ও আলজেরিয়ার ২ জন নারী বাসিন্দা প্রাণ হারান এবং অন্তত ২৮ জন আহত হন। এছাড়াও সোমবার (৫ অক্টোবর) সৌদি-ইয়েমেন সীমান্তবর্তী জাজানের কিং আব্দুল আজিজ ও নাজরান বিমানবন্দরে একযোগে ড্রোন হামলা চালানো হয়, যাতে ৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হন।

এই ধারাবাহিক হামলার তীব্রতায় সৌদি আরবে শতাধিক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত রাখতে হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এভিয়েশন সেফটি এজেন্সিসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা সৌদির আকাশসীমা ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। অন্যদিকে, সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট হুতিদের এই আক্রমণকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে এবং এর জবাবে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় বিমান হামলা জোরদার করেছে। এদিকে, রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ, আর সৌদিতে নিহতদের মধ্যে কুমিল্লার এক মওলানাও রয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। সৌদির রিয়াদ বিমানবন্দরে আবারও হুথি হামলা: প্রাণহানি বেড়ে ১৩, তাইজ শহরের সুরক্ষায় তুমুল যুদ্ধ।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাঘাটায় অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, ড্রেজার মেশিন ও সরঞ্জাম জব্দ

Verified by MonsterInsights

এক সপ্তাহে সৌদির ৬ বিমানবন্দরে হুতিদের ৭ দফা হামলা

আপলোডের সময় : 08:54:49 am, Monday, 12 October 2026

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত আনসারুল্লাহ হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী গত এক সপ্তাহে সৌদি আরবের বিভিন্ন বেসামরিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে অন্তত সাতবার প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে। রিয়াদ, দাম্মাম, আবহা, জাজান ও নাজরান শহরের বিমানবন্দরগুলোতে চালানো এই ধারাবাহিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন সাড়ে তিনশ’র বেশি মানুষ। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা ও রয়টার্স এবং এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই নজিরবিহীন আক্রমণে সাধারণ যাত্রী ও বিমান চলাচলের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে। পরপর রিয়াদ ও দাম্মামের মতো আন্তর্জাতিক ট্রানজিট হাবগুলোতে নজিরবিহীন আক্রমণ চালিয়ে সাধারণ যাত্রী ও বিমান চলাচলের ওপর চরম হুমকি তৈরি করেছে হুথি গোষ্ঠী।

সর্বশেষ গত রবিবার (১১ অক্টোবর) রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৪ নম্বর টার্মিনালে হামলা চালানো হয়। এতে অগ্নিকাণ্ডের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। একই দিনে পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। এর আগের দিন শনিবার (১০ অক্টোবর) রিয়াদ বিমানবন্দরে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় হামলাটি ঘটে, যেখানে ২ জন বাংলাদেশি নাগরিক ও ৪ জন সৌদি নাগরিকসহ মোট ১২ জন নিহত হন এবং ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন।

হামলার ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রিয়াদ বিমানবন্দরে চালানো হামলায় এক জন পাইলটসহ ৩ জন সৌদি নাগরিক নিহত হন। এর আগের দিন বুধবার (৭ অক্টোবর) রিয়াদের একই স্থানে চালানো অন্য একটি হামলায় ১ জন সুদানীয় নাগরিক নিহত ও ৮ জন আহত হন। সপ্তাহের শুরুতে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালানো হামলায় মরক্কো ও আলজেরিয়ার ২ জন নারী বাসিন্দা প্রাণ হারান এবং অন্তত ২৮ জন আহত হন। এছাড়াও সোমবার (৫ অক্টোবর) সৌদি-ইয়েমেন সীমান্তবর্তী জাজানের কিং আব্দুল আজিজ ও নাজরান বিমানবন্দরে একযোগে ড্রোন হামলা চালানো হয়, যাতে ৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হন।

এই ধারাবাহিক হামলার তীব্রতায় সৌদি আরবে শতাধিক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত রাখতে হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এভিয়েশন সেফটি এজেন্সিসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা সৌদির আকাশসীমা ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। অন্যদিকে, সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট হুতিদের এই আক্রমণকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে এবং এর জবাবে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় বিমান হামলা জোরদার করেছে। এদিকে, রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ, আর সৌদিতে নিহতদের মধ্যে কুমিল্লার এক মওলানাও রয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। সৌদির রিয়াদ বিমানবন্দরে আবারও হুথি হামলা: প্রাণহানি বেড়ে ১৩, তাইজ শহরের সুরক্ষায় তুমুল যুদ্ধ।