
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট দলীয় কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের ওয়াশিংটন ডিসির ব্যক্তিগত বাসভবনে এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের তদন্তকারী দল। সোমবার (১২ অক্টোবর) ভোরে আদালতের অনুমোদিত পরোয়ানা নিয়ে এই অভিযান সম্পন্ন হয়। সোমালীয় বংশোদ্ভূত এই প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতার অভিবাসন-সংক্রান্ত নথিপত্রে সম্ভাব্য জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যে ফেডারেল তদন্ত চলছে, এই তল্লাশি তারই একটি অংশ বলে বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), রয়টার্স, সিবিএস নিউজ ও ফক্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের (এইচএসআই) কর্মকর্তারা সোমবার সকালে ইলহান ওমরের ওয়াশিংটন এলাকার বাসভবনে তল্লাশি চালান।
মার্কিন বিচার বিভাগের একজন মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন যে, আদালতের বৈধ অনুমোদন সাপেক্ষে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস এই অভিযান পরিচালনা করেছে। তবে অভিযানে নির্দিষ্ট করে কী ধরনের নথি বা আলামত জব্দ করা হয়েছে, কংগ্রেস সদস্যকে বা তাঁর পরিবারের কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে কি না, অথবা তদন্তের পরবর্তী ধাপ কী হতে পারে—সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। ফক্স নিউজের তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, মূলত ইলহান ওমরের যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের সময় জমা দেওয়া কাগজপত্রের সত্যতা নিয়েই এই আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। অভিযানের সময় বাড়ির আশপাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি দেখা যায়। শৈশবে পরিবারের সঙ্গে সোমালিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসার সময় তাঁর প্রয়াত বাবা যেসব অভিবাসন নথি পূরণ করেছিলেন, সেগুলোর সত্যতা ও আইনগত বৈধতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র তিন সপ্তাহ আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত এই কংগ্রেস সদস্যের বাড়িতে এমন অভিযান রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। রিপাবলিকান দলের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা দীর্ঘদিন ধরে ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত অভিবাসন সুবিধা লাভের উদ্দেশ্যে তাঁর ভাইকে বিয়ে করার মতো গুরুতর অভিযোগ তুলে আসছেন। যদিও এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের স্বপক্ষে এখন পর্যন্ত জনসমক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি। ইলহান ওমর বরাবরই এসব দাবিকে ভিত্তিহীন, অপমানজনক এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক হিসেবে প্রত্যাখ্যান করে আসছেন। তিনি এসব অভিযোগকে ডানপন্থী রাজনৈতিক আক্রমণ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। ৪৪ বছর বয়সী ইলহান ওমর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে অন্যতম পরিচিত মুসলিম নারী নেতা।
এর আগে গত সেপ্টেম্বরে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন জনসমক্ষে স্বীকার করেছিলেন যে, ইলহান ওমরের অভিবাসন ইতিহাস নিয়ে একটি ফেডারেল তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে আইনি প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী, আদালতের পরোয়ানা অনুযায়ী তল্লাশি হওয়া মানেই অভিযুক্ত ব্যক্তির অপরাধ নিশ্চিত হওয়া নয়। এদিকে পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর অভিযোগ তুলেছেন যে, প্রেসিডেন্সিয়াল প্রশাসনের এই ধরণের পদক্ষেপের ফলে তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়ছে এবং প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। নিরাপত্তার কারণে সংশ্লিষ্ট সড়কে যান চলাচলও সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এদিকে হোয়াইট হাউসের সীমান্ত নিরাপত্তাবিষয়ক কর্মকর্তা টম হোম্যান গত সেপ্টেম্বরে নিশ্চিত করেছিলেন, ওমরকে ঘিরে একটি ফৌজদারি তদন্ত চলছে।
সোমবার পর্যন্ত প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন কিংবা তাঁকে গ্রেপ্তারের কোনো ঘটনা ঘটেনি। অভিবাসন সংক্রান্ত জালিয়াতির অভিযোগ শেষ পর্যন্ত প্রমাণিত হলে তা তাঁর মতো একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য বড় ধরনের আইনি ও সাংবিধানিক সংকটের কারণ হতে পারে। অন্যদিকে, তদন্তের শেষে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়া গেলে ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বড় ধরনের রাজনৈতিক প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এখন সবার নজর রয়েছে আদালতের পরোয়ানার ভিত্তি, জব্দকৃত আলামত এবং বিচার বিভাগের পরবর্তী আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের দিকে।
প্রতিনিধির নাম 

























