সৌদিতে হুতিদের হামলা অব্যাহত, আতঙ্কে যুবরাজ সালমানের নিরাপত্তা

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলায় সৌদি আরব এখন এক চরম অস্থির পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সৌদি আরামকোর সদর দপ্তরে ভয়াবহ হামলার পর হুতিরা এখন দেশটির বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনাগুলোতে আরও বড় ধরনের আঘাত হানার হুমকি দিয়েছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন মহলে শোনা যাচ্ছে যে, তাকে নিরাপত্তার খাতিরে নিয়মিতভাবে এক প্রাসাদ থেকে অন্য প্রাসাদে স্থানান্তর করা হচ্ছে। এই সময়ে তাকে জনসমক্ষে দেখা না যাওয়ায় তার অবস্থান নিয়ে নানা কানকথা ছড়িয়ে পড়েছে এবং কর্তৃপক্ষের মধ্যেও এক ধরনের ভীতি কাজ করছে।

ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের হামলার পাল্টা জবাব হিসেবেই এই আক্রমণগুলো চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেছে হুতিরা। তারা স্পষ্ট জানিয়েছে, যেসব স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দেয়া হয়েছে, সেগুলো তাদের কাছে বৈধ সামরিক লক্ষ্য। এর আগে শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক হামলায় ১৩ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এদিকে, মঙ্গলবার রাতে ধাহরান শহরে অবস্থিত সৌদি আরামকোর স্থাপনায় হামলার ঘটনায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। তিনটি বিশ্বস্ত সূত্র রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছে যে, আগুন আরামকোর স্থাপনার বেশ কয়েকটি তলায় ছড়িয়ে পড়েছিল। যদিও সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় এটিকে সীমিত পরিসরের অগ্নিকাণ্ড হিসেবে দাবি করেছে এবং সূত্রগুলো বলছে যে, আরামকোর কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতেই সচল ছিল এবং কর্মীরা বাড়ি থেকে কাজ করছিলেন।

বুধবার রিয়াদ লক্ষ্য করে হুতিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। একই দিন সৌদি রাজধানীতে বেশ কয়েকটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ওই সময় রিয়াদে আকাশপথের সম্ভাব্য হুমকি নিয়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছিল, যা পরে তুলে নেয়া হয়। তবে বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ বা উৎস সম্পর্কে সরকারিভাবে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এই অস্থিরতা সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের উচ্চাভিলাষী অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বহুমুখী অর্থনীতি গঠন ও তেলের ওপর নির্ভরতা কমানোর যে লক্ষ্য তিনি নিয়েছিলেন, তা এখন এই সংঘাতের জেরে বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই সংঘাত আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাঘাটায় অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, ড্রেজার মেশিন ও সরঞ্জাম জব্দ

Verified by MonsterInsights

সৌদিতে হুতিদের হামলা অব্যাহত, আতঙ্কে যুবরাজ সালমানের নিরাপত্তা

আপলোডের সময় : 11:11:22 am, Thursday, 15 October 2026

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলায় সৌদি আরব এখন এক চরম অস্থির পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সৌদি আরামকোর সদর দপ্তরে ভয়াবহ হামলার পর হুতিরা এখন দেশটির বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনাগুলোতে আরও বড় ধরনের আঘাত হানার হুমকি দিয়েছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন মহলে শোনা যাচ্ছে যে, তাকে নিরাপত্তার খাতিরে নিয়মিতভাবে এক প্রাসাদ থেকে অন্য প্রাসাদে স্থানান্তর করা হচ্ছে। এই সময়ে তাকে জনসমক্ষে দেখা না যাওয়ায় তার অবস্থান নিয়ে নানা কানকথা ছড়িয়ে পড়েছে এবং কর্তৃপক্ষের মধ্যেও এক ধরনের ভীতি কাজ করছে।

ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের হামলার পাল্টা জবাব হিসেবেই এই আক্রমণগুলো চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেছে হুতিরা। তারা স্পষ্ট জানিয়েছে, যেসব স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দেয়া হয়েছে, সেগুলো তাদের কাছে বৈধ সামরিক লক্ষ্য। এর আগে শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক হামলায় ১৩ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এদিকে, মঙ্গলবার রাতে ধাহরান শহরে অবস্থিত সৌদি আরামকোর স্থাপনায় হামলার ঘটনায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। তিনটি বিশ্বস্ত সূত্র রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছে যে, আগুন আরামকোর স্থাপনার বেশ কয়েকটি তলায় ছড়িয়ে পড়েছিল। যদিও সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় এটিকে সীমিত পরিসরের অগ্নিকাণ্ড হিসেবে দাবি করেছে এবং সূত্রগুলো বলছে যে, আরামকোর কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতেই সচল ছিল এবং কর্মীরা বাড়ি থেকে কাজ করছিলেন।

বুধবার রিয়াদ লক্ষ্য করে হুতিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। একই দিন সৌদি রাজধানীতে বেশ কয়েকটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ওই সময় রিয়াদে আকাশপথের সম্ভাব্য হুমকি নিয়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছিল, যা পরে তুলে নেয়া হয়। তবে বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ বা উৎস সম্পর্কে সরকারিভাবে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এই অস্থিরতা সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের উচ্চাভিলাষী অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বহুমুখী অর্থনীতি গঠন ও তেলের ওপর নির্ভরতা কমানোর যে লক্ষ্য তিনি নিয়েছিলেন, তা এখন এই সংঘাতের জেরে বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই সংঘাত আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।