
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার ওপর আরোপিত নতুন নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কের বিষয়ে নিজের অবস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন। গত মাসে স্বাক্ষরিত একটি আইনের আওতায় রোববার থেকে রাশিয়ার রপ্তানি পণ্যের ওপর কঠোর শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও, হঠাৎ করেই তিনি তা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন। ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার্থেই তিনি এই বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছেন। শুক্রবার গভীর রাতে এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে তিনি গ্রাহাম আইনে নির্ধারিত নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক প্রয়োগ সাময়িকভাবে স্থগিত করেন। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এই নতুন শুল্ক কার্যকর হলে রাশিয়া থেকে জ্বালানি ক্রয়কারী অন্তত ১০টি দেশ বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়ত। ভারত ও চীনসহ এসব দেশের ওপর পণ্যভেদে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ তৈরি হতো। তবে মার্কিন কংগ্রেসকে দেওয়া এক প্রত্যয়নপত্রে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ওই দেশগুলোকে এই মুহূর্তে শুল্ক থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এটি স্থায়ী কোনো অব্যাহতি নয়; বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় শুল্ক স্থগিত রাখা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজন মনে করলে তিনি পুনরায় এই বিধিনিষেধ কার্যকর করতে পারেন। এ মুহূর্তে এ ধরনের ছাড় দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থে—এ মর্মে আমি কংগ্রেসে একটি প্রত্যয়নপত্র জমা দিয়েছি।’।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের পেছনে আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রভাব রয়েছে। নির্বাচনের আগে মার্কিনিদের জনমতের বিষয়টি মাথায় রেখে তিনি এই কৌশলী অবস্থান নিয়েছেন। এর আগে রাশিয়া থেকে জ্বালানি কেনার ক্ষেত্রে অন্য দেশগুলোকে সতর্ক করে আসলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি নিজেই রাশিয়া থেকে বড় আকারে ডিজেল কেনার ঘোষণা দিয়েছেন। রাশিয়ার ওপর আরোপিত আগের কঠোর অবস্থানের বিপরীতে এটি ট্রাম্পের এক বড় ধরনের ইউ-টার্ন হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও ট্রাম্পের সেই ‘জাতীয় স্বার্থের’ নেপথ্যে আদতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভয় আছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। যদিও এরআগে রাশিয়ার থেকে তেল কেনার জন্য অন্যদের হুঁশিয়ারি দিতেন ট্রাম্প।
প্রতিনিধির নাম 

























