প্রকৌশলী সৌমিকের মৃত্যু: মাইশা ডায়াগনস্টিককে জড়ানোর অভিযোগ, ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ডে ভিন্ন চিত্র

 

বিয়ের আগের দিন তরুণ প্রকৌশলী আরিফ শাহারিয়া সৌমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গাইবান্ধা শহরের মাইশা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ উঠেছে।

তবে মৃতের বড় বোনের সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া অভিযোগের বিপরীতে তাঁর বাবার সঙ্গে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের স্বত্বাধিকারী মো. কাইয়ুমের কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড সামনে এসেছে। এ নিয়ে ঘটনাটি ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা পেতে বিলম্বের অভিযোগও সামনে এসেছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে গাইবান্ধা শহরের দেশী ভোজ নামের একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করে সৌমিকের বড় বোন শারমিন সুলতানা অভিযোগ করেন, গত ১৫ অক্টোবর মাইশা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে সৌমিক ভুল চিকিৎসার শিকার হন। সেখানে তাঁকে কয়েকটি ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে, সৌমিকের বাবার সঙ্গে মাইশা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের স্বত্বাধিকারী মো. কাইয়ুমের কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ওই রেকর্ডের বক্তব্যের সঙ্গে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ইনজেকশন দেওয়া ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগের অসংগতি রয়েছে। ফলে পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য এবং অডিও রেকর্ডের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে অডিওটির সত্যতা ও পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

ঘটনার দিনের বিবরণে জানা যায়, অসুস্থ বোধ করার পর সৌমিক রিকশাযোগে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের সামনে চিকিৎসকের অপেক্ষায় তাঁকে প্রায় দুই ঘণ্টা থাকতে হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দিতে বিলম্ব ও অবহেলার অভিযোগও তোলা হয়েছে। তবে চিকিৎসায় বিলম্বের সঙ্গে সৌমিকের মৃত্যুর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা নথি ও ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন।

মাইশা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের স্বত্বাধিকারী মো. কাইয়ুম ভুল চিকিৎসার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, “সৌমিক আমাদের এখানে সাধারণ কিছু পরীক্ষা ও ডাক্তার দেখানোর জন্য এসে ঘণ্টা দেড়েক অবস্থান করেন। তাঁকে কোনো ইনজেকশন পুশ করা হয়নি। বরং তাঁর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের পর আমরা নিজেরাই তাঁকে দ্রুত সদর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার স্পষ্ট পরামর্শ দিয়েছিলাম।”

তিনি আরও দাবি করেন, একটি অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সৌমিকের বাবার সঙ্গে কথোপকথনের অডিও রেকর্ডের বক্তব্যের সঙ্গে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের অসংগতি রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৫ অক্টোবর রাতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সৌমিককে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন তাঁর বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। বিয়ের আগের দিন তাঁর মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে।

সৌমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে মাইশা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ, তাঁর বাবার কথোপকথনের অডিও রেকর্ড এবং গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা পেতে বিলম্বের দাবি—সবকিছু মিলিয়ে ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। প্রকৃত ঘটনা ও মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য, অডিও রেকর্ড এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

সাঘাটায় অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, ড্রেজার মেশিন ও সরঞ্জাম জব্দ

Verified by MonsterInsights

প্রকৌশলী সৌমিকের মৃত্যু: মাইশা ডায়াগনস্টিককে জড়ানোর অভিযোগ, ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ডে ভিন্ন চিত্র

আপলোডের সময় : 08:50:24 pm, Monday, 19 October 2026

 

বিয়ের আগের দিন তরুণ প্রকৌশলী আরিফ শাহারিয়া সৌমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গাইবান্ধা শহরের মাইশা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ উঠেছে।

তবে মৃতের বড় বোনের সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া অভিযোগের বিপরীতে তাঁর বাবার সঙ্গে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের স্বত্বাধিকারী মো. কাইয়ুমের কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড সামনে এসেছে। এ নিয়ে ঘটনাটি ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা পেতে বিলম্বের অভিযোগও সামনে এসেছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে গাইবান্ধা শহরের দেশী ভোজ নামের একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করে সৌমিকের বড় বোন শারমিন সুলতানা অভিযোগ করেন, গত ১৫ অক্টোবর মাইশা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে সৌমিক ভুল চিকিৎসার শিকার হন। সেখানে তাঁকে কয়েকটি ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে, সৌমিকের বাবার সঙ্গে মাইশা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের স্বত্বাধিকারী মো. কাইয়ুমের কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ওই রেকর্ডের বক্তব্যের সঙ্গে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ইনজেকশন দেওয়া ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগের অসংগতি রয়েছে। ফলে পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য এবং অডিও রেকর্ডের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে অডিওটির সত্যতা ও পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

ঘটনার দিনের বিবরণে জানা যায়, অসুস্থ বোধ করার পর সৌমিক রিকশাযোগে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের সামনে চিকিৎসকের অপেক্ষায় তাঁকে প্রায় দুই ঘণ্টা থাকতে হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দিতে বিলম্ব ও অবহেলার অভিযোগও তোলা হয়েছে। তবে চিকিৎসায় বিলম্বের সঙ্গে সৌমিকের মৃত্যুর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা নথি ও ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন।

মাইশা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের স্বত্বাধিকারী মো. কাইয়ুম ভুল চিকিৎসার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, “সৌমিক আমাদের এখানে সাধারণ কিছু পরীক্ষা ও ডাক্তার দেখানোর জন্য এসে ঘণ্টা দেড়েক অবস্থান করেন। তাঁকে কোনো ইনজেকশন পুশ করা হয়নি। বরং তাঁর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের পর আমরা নিজেরাই তাঁকে দ্রুত সদর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার স্পষ্ট পরামর্শ দিয়েছিলাম।”

তিনি আরও দাবি করেন, একটি অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সৌমিকের বাবার সঙ্গে কথোপকথনের অডিও রেকর্ডের বক্তব্যের সঙ্গে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের অসংগতি রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৫ অক্টোবর রাতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সৌমিককে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন তাঁর বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। বিয়ের আগের দিন তাঁর মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে।

সৌমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে মাইশা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ, তাঁর বাবার কথোপকথনের অডিও রেকর্ড এবং গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা পেতে বিলম্বের দাবি—সবকিছু মিলিয়ে ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। প্রকৃত ঘটনা ও মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য, অডিও রেকর্ড এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।