পলাশবাড়ী-গাইবান্ধা বিদ্যুৎ প্রকল্প: ক্ষতিপূরণের টাকা তুলে দিতে ইঞ্জিনিয়ারের বিরুদ্ধে ৬০ হাজার টাকা ঘুষ

বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য অধিগ্রহণ করা জমির ক্ষতিপূরণের টাকা ঝুলিয়ে রেখে ভুক্তভোগী কৃষকের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে পাওয়ারগ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের (পিজিসিবি) ঠিকাদারের এক ইঞ্জিনিয়ারের বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত কর্মকর্তা ‘পাওয়ারগ্রীড নেটওয়ার্ক মেইনটেইনিং প্রজেক্ট আন্ডার পিজিসিবি’-এর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের একজন সহকারি ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল ইসলাম বলে জানা গেছে। পলাশবাড়ী থেকে গাইবান্ধা ১৩২ কেভি বিদ্যুৎ কেন্দ্র লাইন স্থাপন প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ক্ষতিপূরণ বাবদ বরাদ্দের অর্থ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠে এসেছে তার বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগীদের তথ্যমতে, পিজিসিবির পলাশবাড়ী-গাইবান্ধা ১৩২ কেভি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আওতায় ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রাপ্তির জন্য নিয়মমাফিক আবেদন করেও সময়মতো টাকা পাচ্ছিলেন না ডলার ইসলাম নামের এক স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি। অভিযোগ রয়েছে, এই পরিস্থিতিতে ক্ষতিপূরণের টাকা দ্রুত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বা এলএ শাখায় ছাড় করানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ডলার ইসলামের কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা দাবি করেন ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল ইসলাম।

চুক্তিমোতাবেক, গত ১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রথম দফায় ২০ হাজার টাকা এবং পরবর্তীতে ১৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে দ্বিতীয় দফায় বাকি ৪০ হাজার টাকা নগদ প্রদান করা হয় অভিযুক্ত ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুলকে। ঘুষের টাকা লেনদেনের মাত্র কয়েকদিনের মাথায় গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখা থেকে ডলার ইসলামের অনুকূলে ক্ষতিপূরণের ৫ লক্ষ টাকা ছাড় করা হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত ডলার ইসলাম আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “আমি যথানিয়মে আবেদন করা সত্ত্বেও অহেতুক ফাইল আটকে রাখা হয়েছিল। বাধ্য হয়ে টাকা ছাড় করাতে ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুলের কথামতো দুই দফায় মোট ৬০ হাজার টাকা তুলে দিই। এরপরই আমার পাওনা ৫ লক্ষ টাকা ছাড় হয়।”

প্রকল্পের নামে ক্ষতিপূরণের অর্থ আটকে রেখে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের এমন অর্থ আদায়ের ঘটনায় স্থানীয় অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত জমি ও ফসলের মালিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের সুফল পাওয়ার আগেই এমন ঘুষবাণিজ্যের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে অভিযুক্ত ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের করা হলে তিনি জানান, “এই ধরনের লেনদেনের সাথে তিনি জড়িত নন।” এর বেশি কিছু বলতে পারবেন না বলেও তিনি জানান।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

সাঘাটায় অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, ড্রেজার মেশিন ও সরঞ্জাম জব্দ

Verified by MonsterInsights

পলাশবাড়ী-গাইবান্ধা বিদ্যুৎ প্রকল্প: ক্ষতিপূরণের টাকা তুলে দিতে ইঞ্জিনিয়ারের বিরুদ্ধে ৬০ হাজার টাকা ঘুষ

আপলোডের সময় : 08:53:23 am, Wednesday, 21 October 2026

বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য অধিগ্রহণ করা জমির ক্ষতিপূরণের টাকা ঝুলিয়ে রেখে ভুক্তভোগী কৃষকের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে পাওয়ারগ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের (পিজিসিবি) ঠিকাদারের এক ইঞ্জিনিয়ারের বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত কর্মকর্তা ‘পাওয়ারগ্রীড নেটওয়ার্ক মেইনটেইনিং প্রজেক্ট আন্ডার পিজিসিবি’-এর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের একজন সহকারি ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল ইসলাম বলে জানা গেছে। পলাশবাড়ী থেকে গাইবান্ধা ১৩২ কেভি বিদ্যুৎ কেন্দ্র লাইন স্থাপন প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ক্ষতিপূরণ বাবদ বরাদ্দের অর্থ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠে এসেছে তার বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগীদের তথ্যমতে, পিজিসিবির পলাশবাড়ী-গাইবান্ধা ১৩২ কেভি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আওতায় ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রাপ্তির জন্য নিয়মমাফিক আবেদন করেও সময়মতো টাকা পাচ্ছিলেন না ডলার ইসলাম নামের এক স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি। অভিযোগ রয়েছে, এই পরিস্থিতিতে ক্ষতিপূরণের টাকা দ্রুত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বা এলএ শাখায় ছাড় করানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ডলার ইসলামের কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা দাবি করেন ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল ইসলাম।

চুক্তিমোতাবেক, গত ১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রথম দফায় ২০ হাজার টাকা এবং পরবর্তীতে ১৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে দ্বিতীয় দফায় বাকি ৪০ হাজার টাকা নগদ প্রদান করা হয় অভিযুক্ত ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুলকে। ঘুষের টাকা লেনদেনের মাত্র কয়েকদিনের মাথায় গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখা থেকে ডলার ইসলামের অনুকূলে ক্ষতিপূরণের ৫ লক্ষ টাকা ছাড় করা হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত ডলার ইসলাম আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “আমি যথানিয়মে আবেদন করা সত্ত্বেও অহেতুক ফাইল আটকে রাখা হয়েছিল। বাধ্য হয়ে টাকা ছাড় করাতে ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুলের কথামতো দুই দফায় মোট ৬০ হাজার টাকা তুলে দিই। এরপরই আমার পাওনা ৫ লক্ষ টাকা ছাড় হয়।”

প্রকল্পের নামে ক্ষতিপূরণের অর্থ আটকে রেখে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের এমন অর্থ আদায়ের ঘটনায় স্থানীয় অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত জমি ও ফসলের মালিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের সুফল পাওয়ার আগেই এমন ঘুষবাণিজ্যের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে অভিযুক্ত ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের করা হলে তিনি জানান, “এই ধরনের লেনদেনের সাথে তিনি জড়িত নন।” এর বেশি কিছু বলতে পারবেন না বলেও তিনি জানান।