
চীনের প্রত্যন্ত তিব্বত অঞ্চলে আঘাত হেনেছে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে সংঘটিত এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে অন্তত ১৬ জন নিহত ও ৪৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি জানিয়েছে। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল পার্বত্য এলাকায়; নাগচু শহরের প্রায় ১৯০ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তর-পূর্বে এবং লাসা থেকে ৩৯০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিনহুয়া জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে তিব্বতে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। সিসিটিভিতে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা গেছে, ভূমিকম্পের সময় রেস্তোরাঁ থেকে কর্মীরা দৌড়ে বাইরে বেরিয়ে আসছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল পার্বত্য এলাকায়। অন্যদিকে সেনাসদস্যদেরও মোতায়েনের প্রস্তুতি নিয়ে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। ২০১৪ সালের পর সেটিই ছিল চীনের সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্প। সুপার টাইফুনে পরিণত হওয়া ‘চ্যাম্পি’ এ বছর প্রশান্ত মহাসাগরে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড়গুলোর একটি।
ভূমিকম্পের প্রভাবে ৩৩৯টি বাড়িঘর ধসে পড়েছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বাকেন কাউন্টির মারু টাউনশিপে কম্পন তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছে, যেখানে সরকারি কার্যালয়ের দেয়ালে ফাটল ধরেছে।
এ ছাড়া কাউন্টির প্রশাসনিক কেন্দ্রে বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য তিন শতাধিক পুলিশ এবং অগ্নিনির্বাপণ বাহিনীর ৩৪৭ জন সদস্যকে উদ্ধার ও ত্রাণকাজে নিয়োজিত করা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চলছে।
কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোয় তল্লাশি চালাচ্ছে, সিসিটিভির ফুটেজেও উদ্ধারকর্মীদের ধসে পড়া ভবনের ছাদের নিচে তল্লাশি চালাতে দেখা গেছে। সুপারমার্কেটের তাক থেকে বিভিন্ন জিনিসপত্র নিচে পড়ে যাচ্ছে। অন্য ভবনগুলোয় টর্চের আলো দিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
তিব্বতের এই বিপর্যয়ের পাশাপাশি তাইওয়ানের দিকে ধেয়ে আসা শক্তিশালী টাইফুন ‘চ্যাম্পি’ দ্বীপটিতে বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি করেছে। এই ঝড়ের প্রভাবে ইতোমধ্যে একজন নিহত ও ৯৪ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আজ শুক্রবার তাইওয়ানের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে প্রায় ৩২০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থানরত ঝড়টি বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৯১ কিলোমিটারে পৌঁছেছে। ঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় পাহাড়ি অঞ্চল থেকে প্রায় ১ হাজার ৩০০ বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সরাসরি আঘাত হানার আশঙ্কা থাকায় ভারী বৃষ্টি ও প্রবল বাতাসের সতর্কতার মধ্যে প্রায় অচল হয়ে পড়েছে তাইওয়ান। তাইওয়ান সাধারণত টাইফুন মোকাবিলায় ভালো প্রস্তুতি রাখে।
তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসন জানিয়েছে, ঝড়টির বাতাসের বিস্তৃতি প্রায় ৩২০ কিলোমিটার। এ কারণে দেশটির অভ্যন্তরীণ ২৬২টি এবং আন্তর্জাতিক ৬৬৯টি ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া আর্থিক বাজার কার্যক্রমও স্থগিত রাখা হয়েছে। ঝড়ের প্রভাবে ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটারের বেশি বেগে বাতাসের ঝাপটার সতর্কতা জানিয়ে উপকূলীয় শহরগুলোর বাসিন্দাদের জন্য জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তবে উত্তর-দক্ষিণগামী উচ্চগতির রেলসেবা আপাতত স্বাভাবিক রাখা হয়েছে। উপকূলীয় শহরগুলোয় মুঠোফোনে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ কারণে এমন ঝড়ে প্রাণহানি তুলনামূলক কম হয়।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের ধারণা অনুযায়ী, চ্যাম্পির প্রভাব দুই দিন স্থায়ী হতে পারে। ঝড়টি উত্তর-পূর্ব উপকূলের পাশ দিয়ে চীনের মূল ভূখণ্ডের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে, তবে গতিপথ পরিবর্তনের আশঙ্কায় সতর্ক অবস্থান নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিব্বতের তিংরি কাউন্টিতে ভয়াবহ ভূমিকম্পে ১২৬ জন এবং ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে গানসু প্রদেশে ১২৭ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। এবার তিব্বতে পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীদের পাশাপাশি সেনাসদস্যদেরও প্রস্তুতির মধ্যে রাখা হয়েছে যাতে দ্রুত উদ্ধারকাজ সম্পন্ন করা যায়। এ ছাড়া ২০০৮ সালে সিচুয়ান প্রদেশে ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রায় ৯০ হাজার মানুষ নিহত বা নিখোঁজ হন।
প্রতিনিধির নাম 

























