খুলনায় একই দিনে দুই স্থানে গুলি, আহত যুবদল নেতা ও মুদি দোকানদার

খুলনায় একই দিনে পৃথক দুটি গুলির ঘটনায় এক যুবদল নেতা ও এক মুদি দোকানদার আহত হয়েছেন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে জেলার তেরখাদায় যুবদল নেতা রামীম বিশ্বাসকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। এর কয়েক ঘণ্টা পর সন্ধ্যায় নগরীর দক্ষিণ টুটপাড়ায় গুলিবিদ্ধ হন মুদি দোকানদার আকাশ কুমার কুণ্ডু। দুজনকেই উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
গতকাল সন্ধ্যা ৭টার দিকে খুলনা নগরীর দক্ষিণ টুটপাড়া ক্রস রোডের গাছতলা মন্দিরের সামনে গুলিবিদ্ধ হন আকাশ কুমার কুণ্ডু। দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলি তাঁর পেটে বিদ্ধ হয়।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লোকমান হোসেন জানান, মোটরসাইকেলে করে আসা হেলমেট পরা তিন যুবক আকাশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। তিনি বেঁচে আছেন বলে জানান ওসি।
আকাশ কুমার কুণ্ডু দক্ষিণ টুটপাড়া গাছতলা মন্দিরের পূর্ব পাশের গলির বাসিন্দা। তিনি শিব পদ কুণ্ডুর ছেলে। ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। কারা এবং কী কারণে এ হামলা চালিয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানান ওসি।
এর আগে বেলা ১১টা ১০ মিনিটের দিকে খুলনার তেরখাদা উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের পারহাজীগ্রামে সেনেরবাজার–মধুপুর সড়কে খান ব্রিকসের কাছে গুলিবিদ্ধ হন যুবদল নেতা রামীম বিশ্বাস (৩২)। তিনি মধুপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি এবং পারহাজীগ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমানের ছেলে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় রামীম পারহাজীগ্রামে আয়নাল মোল্লার বাড়ির সামনে একটি ভ্যানে অবস্থান করছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেলে করে আসা অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা পেছন দিক থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে তাঁর পাঁজরে গুলি লাগে। গুলি চালানোর পর দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

গুলির শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে রামীমকে উদ্ধার করেন। পরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। খবর পেয়ে তেরখাদা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং আলামত সংগ্রহ করে।

খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবির সিদ্দিকী শুভ্র ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

একই দিনে তেরখাদা ও খুলনা নগরীতে পৃথক দুটি গুলির ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে দুই ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, হামলার উদ্দেশ্য কী এবং কারা জড়িত, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাগুলো তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

সাঘাটায় অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, ড্রেজার মেশিন ও সরঞ্জাম জব্দ

Verified by MonsterInsights

খুলনায় একই দিনে দুই স্থানে গুলি, আহত যুবদল নেতা ও মুদি দোকানদার

আপলোডের সময় : 09:32:46 pm, Sunday, 25 October 2026

খুলনায় একই দিনে পৃথক দুটি গুলির ঘটনায় এক যুবদল নেতা ও এক মুদি দোকানদার আহত হয়েছেন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে জেলার তেরখাদায় যুবদল নেতা রামীম বিশ্বাসকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। এর কয়েক ঘণ্টা পর সন্ধ্যায় নগরীর দক্ষিণ টুটপাড়ায় গুলিবিদ্ধ হন মুদি দোকানদার আকাশ কুমার কুণ্ডু। দুজনকেই উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
গতকাল সন্ধ্যা ৭টার দিকে খুলনা নগরীর দক্ষিণ টুটপাড়া ক্রস রোডের গাছতলা মন্দিরের সামনে গুলিবিদ্ধ হন আকাশ কুমার কুণ্ডু। দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলি তাঁর পেটে বিদ্ধ হয়।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লোকমান হোসেন জানান, মোটরসাইকেলে করে আসা হেলমেট পরা তিন যুবক আকাশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। তিনি বেঁচে আছেন বলে জানান ওসি।
আকাশ কুমার কুণ্ডু দক্ষিণ টুটপাড়া গাছতলা মন্দিরের পূর্ব পাশের গলির বাসিন্দা। তিনি শিব পদ কুণ্ডুর ছেলে। ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। কারা এবং কী কারণে এ হামলা চালিয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানান ওসি।
এর আগে বেলা ১১টা ১০ মিনিটের দিকে খুলনার তেরখাদা উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের পারহাজীগ্রামে সেনেরবাজার–মধুপুর সড়কে খান ব্রিকসের কাছে গুলিবিদ্ধ হন যুবদল নেতা রামীম বিশ্বাস (৩২)। তিনি মধুপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি এবং পারহাজীগ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমানের ছেলে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় রামীম পারহাজীগ্রামে আয়নাল মোল্লার বাড়ির সামনে একটি ভ্যানে অবস্থান করছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেলে করে আসা অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা পেছন দিক থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে তাঁর পাঁজরে গুলি লাগে। গুলি চালানোর পর দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

গুলির শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে রামীমকে উদ্ধার করেন। পরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। খবর পেয়ে তেরখাদা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং আলামত সংগ্রহ করে।

খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবির সিদ্দিকী শুভ্র ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

একই দিনে তেরখাদা ও খুলনা নগরীতে পৃথক দুটি গুলির ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে দুই ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, হামলার উদ্দেশ্য কী এবং কারা জড়িত, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাগুলো তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।