যশোরের ইজিবাইক হত্যার মৃত্যুদন্ড সাজাপ্রাপ্ত আসামী সাতক্ষীরা হতে আটক

উৎপল ঘোষ,ক্রাইম রিপোর্টার : যশোরের ইজিবাইক চালক মফিজুর হত্যা মামলায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামী ইকতিয়ার বিশ্বাসকে সাতক্ষীরা সদর থানা এলাকা হতে গ্রেফতার করে র‌্যাব-৬, যশোর যশোর কোতয়ালী থানার মামলার সুত্রে জানা যায়,গত ২০১১ সালের ২২ জুন রাত সাড়ে ১১ টার দিকে যশোর জেলার হামিদপুরের ইজিবাইক চালক মফিজুর রহমান তার হেলপার নয়নকে নিয়ে পুরাতন কেন্দ্রীয় বাস স্টান্ড (মনিহার মোড়) থেকে বাড়ির পথে ফিরছিলেন। নয়নকে ভিকটিম মফিজুর সেসময় জানায়, এরপর থেকে তার আর খোঁজ পাওয়া যায়না। ২৪ জুন সকালে হামিদপুর ময়লাখানার পাশের একটি পুকুর থেকে মফিজুর রহমানের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী আয়েশা বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পরপরই আইনশৃংখলা বাহিনী হত্যার ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামত ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আসামী ইকতিয়ার ও অপর একজন আসামীকে আটক করে। একে একে বেরিয়ে আসে রহস্য এবং তারা আদালতে হত্যার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। তাদের জবানবন্দিতে উঠে আসে তাদের আরো তিন সহযোগীদের নাম। মুলত পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় মফিজুরকে এবং লাশ ফেলে দেয়া হয় হামিদপুর ময়লাখানার পেছনের একটি পুকুরে। উক্ত মামলার তদন্ত পূর্বক মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামীদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। বিজ্ঞ আদালত এই হত্যায় আসামীদের প্রমাণ পাওয়ায় গত ইং ২০ মে পাঁচজন আসামীকেই মৃত্যুদন্ডের সাজা প্রদান করেন।

No description available.

এ সময় তিনজন আসামী আদালতে হাজির থাকলেও ইকতিয়ার ও অপর একজন আসামী পলাতক থাকে। বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক সাজা প্রদান পূর্বক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে র‌্যাব-৬,যশোর কোম্পানির অধিনায়ক মেজর মোঃ সাকিব হোসেন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, যশোর মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামীদ্বয়কে গ্রেফতারে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-৬, যশোর ইং ২৩ মে ২০২৪ রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামী ইকতিয়ার নিজেকে আত্মগোপন রাখতে সাতক্ষীরা জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা হয়ে ভারতে পালানোর চেষ্টা করছে এবং বর্তমানে সে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল এলাকায় অবস্থান করছে। তাৎক্ষণিক র‌্যাব-৬, যশোর ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল ২৪ মে ২০২৪ সকাল ছয়টা ত্রিশ মিনিটের সময় সাতক্ষীরা জেলার সদর থানাধীন সদর হাসপাতাল এলাকা হতে আসামীমকছেদ আলী বিশ্বাসের পুত্র ইকতিয়ার বিশ্বাস (৪৩) কে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আসামীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, উক্ত হত্যা মামলায় সে ধারণা করেছিল তার সাজা হবে তাই রায়ের দিন ইচ্ছা করে বিজ্ঞ আদালতে হাজির হননি। তার মৃত্যুদন্ডের সাজা হয়েছে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করে। পরিক্ল্পনা অনুযায়ী সে ইং ২৩ মে ২০২৪ সাতক্ষীরা জেলার সদর থানাধীন সদর হাসপাতাল এলাকায় নিজেকে আত্মগোপন রেখে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। তার বিরুদ্ধে উক্ত হত্যা মামলা ছাড়াও ০১ টি ডাকাতি মামলা ও ০১ টি অন্যান্য ধারায় মামলা বিচারাধীন রয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতারকৃত আসামীকে যশোর জেলার কোতয়ালী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

জাপানে এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

Verified by MonsterInsights

যশোরের ইজিবাইক হত্যার মৃত্যুদন্ড সাজাপ্রাপ্ত আসামী সাতক্ষীরা হতে আটক

আপলোডের সময় : 09:02:25 am, Friday, 24 May 2024

উৎপল ঘোষ,ক্রাইম রিপোর্টার : যশোরের ইজিবাইক চালক মফিজুর হত্যা মামলায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামী ইকতিয়ার বিশ্বাসকে সাতক্ষীরা সদর থানা এলাকা হতে গ্রেফতার করে র‌্যাব-৬, যশোর যশোর কোতয়ালী থানার মামলার সুত্রে জানা যায়,গত ২০১১ সালের ২২ জুন রাত সাড়ে ১১ টার দিকে যশোর জেলার হামিদপুরের ইজিবাইক চালক মফিজুর রহমান তার হেলপার নয়নকে নিয়ে পুরাতন কেন্দ্রীয় বাস স্টান্ড (মনিহার মোড়) থেকে বাড়ির পথে ফিরছিলেন। নয়নকে ভিকটিম মফিজুর সেসময় জানায়, এরপর থেকে তার আর খোঁজ পাওয়া যায়না। ২৪ জুন সকালে হামিদপুর ময়লাখানার পাশের একটি পুকুর থেকে মফিজুর রহমানের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী আয়েশা বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পরপরই আইনশৃংখলা বাহিনী হত্যার ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামত ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আসামী ইকতিয়ার ও অপর একজন আসামীকে আটক করে। একে একে বেরিয়ে আসে রহস্য এবং তারা আদালতে হত্যার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। তাদের জবানবন্দিতে উঠে আসে তাদের আরো তিন সহযোগীদের নাম। মুলত পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় মফিজুরকে এবং লাশ ফেলে দেয়া হয় হামিদপুর ময়লাখানার পেছনের একটি পুকুরে। উক্ত মামলার তদন্ত পূর্বক মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামীদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। বিজ্ঞ আদালত এই হত্যায় আসামীদের প্রমাণ পাওয়ায় গত ইং ২০ মে পাঁচজন আসামীকেই মৃত্যুদন্ডের সাজা প্রদান করেন।

No description available.

এ সময় তিনজন আসামী আদালতে হাজির থাকলেও ইকতিয়ার ও অপর একজন আসামী পলাতক থাকে। বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক সাজা প্রদান পূর্বক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে র‌্যাব-৬,যশোর কোম্পানির অধিনায়ক মেজর মোঃ সাকিব হোসেন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, যশোর মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামীদ্বয়কে গ্রেফতারে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-৬, যশোর ইং ২৩ মে ২০২৪ রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামী ইকতিয়ার নিজেকে আত্মগোপন রাখতে সাতক্ষীরা জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা হয়ে ভারতে পালানোর চেষ্টা করছে এবং বর্তমানে সে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল এলাকায় অবস্থান করছে। তাৎক্ষণিক র‌্যাব-৬, যশোর ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল ২৪ মে ২০২৪ সকাল ছয়টা ত্রিশ মিনিটের সময় সাতক্ষীরা জেলার সদর থানাধীন সদর হাসপাতাল এলাকা হতে আসামীমকছেদ আলী বিশ্বাসের পুত্র ইকতিয়ার বিশ্বাস (৪৩) কে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আসামীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, উক্ত হত্যা মামলায় সে ধারণা করেছিল তার সাজা হবে তাই রায়ের দিন ইচ্ছা করে বিজ্ঞ আদালতে হাজির হননি। তার মৃত্যুদন্ডের সাজা হয়েছে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করে। পরিক্ল্পনা অনুযায়ী সে ইং ২৩ মে ২০২৪ সাতক্ষীরা জেলার সদর থানাধীন সদর হাসপাতাল এলাকায় নিজেকে আত্মগোপন রেখে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। তার বিরুদ্ধে উক্ত হত্যা মামলা ছাড়াও ০১ টি ডাকাতি মামলা ও ০১ টি অন্যান্য ধারায় মামলা বিচারাধীন রয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতারকৃত আসামীকে যশোর জেলার কোতয়ালী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।