
গাইবান্ধা সদর উপজেলার কুপতলা ইউনিয়নের পশ্চিম দুর্গাপুর গ্রামে কয়েন বদল পার্টির আবির্ভাব ঘটেছে! কয়েন বদল পার্টির সক্রিয় সদস্য মনজু মিয়া মাত্র ৫/৭ বছরের ব্যবধানে দিন মজুর থেকে কোটিপতি হওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এলাকার সচেতন জনমনে এখন ওপেন সিক্রেট।
প্রকাশ, গাইবান্ধা সদর উপজেলার কুপতলা ইউনিয়নের পশ্চিম দুর্গাপুর গ্রামের কৃষি কাজ/দিন মজুরী করে জীবিকা নির্বাহ করা জনৈক আঃ মজিদ ২০/২৫ বছর আগে ৪ পুত্র সন্তান রেখে মৃত্যু বরণ করেন। মৃত্যুর সময় বাড়ি ভিটার জন্য মাত্র ১৩ শতাংশ জমি রেখে যান। দিন আনা দিন খাওয়া অভাবের এই সংসারে হাল ধরেন আঃ মজিদের স্ত্রী। সে মানুষের জমিতে দিন মজুরী ও বাড়িতে ঝি’এর করে ৪ পুত্রকে নিয়ে বসবাস করতে থাকেন। অভাবের কারণে ৪ পুত্রের কেউ লেখা পড়া করতে পারেনি। আঃ মজিদের এই ৪ পুত্রের মধ্যে জাহাঙ্গীর মানুষের বাড়িতে এখনও দিনমজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছে। রেজাউল বাড়ি ভিটায় পাওয়া তার ভাগের ৩ শতাংশ জমি বিক্রি করে তুলশিঘাট এলাকায় শ্বশুড় বাড়িতে চলে গেছে। সেখানেই সে দিনমজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছে। কিন্তু আরেক ভাই মনজু মিয়া মাত্র ৫/৭ বছর আগেও অভাবের তাড়নায় দিন মজুরের কাজ ও মানুষের কাছে হাত পেতে চেয়ে খেয়েছিল।
সুত্র জানায়, এই মনজু মিয়া বর্তমানে কমপক্ষে ১০ কোটি টাকার মালিক! কিভাবে এত টাকা আয় করা সম্ভব! নির্ভরশীল সুত্র জানায়, এই মনজু মিয়া সাদুল্যাপুরের জামালপুর ইউনিয়নের বহুল পরিচিত কয়েন বদল পার্টির সক্রিয় সদস্য। ইতোমধ্যে সে দুই বিয়া করেছে। প্রথম বউ পশ্চিম দুর্গাপুরে এবং আরেক বউ সাদুল্যাপুরের দামোদরপুর ইউনিয়নের জামুডাঙ্গায় শ্বশুড় বাড়িতে থাকে। পশ্চিম দুর্গাপুর এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েক জন লোক জানায়, মনজু মিয়া মাত্র ৫/৭ বছর আগেও মানুষের কাছে হাত পেতে খেয়েছে। অথচ- এই বছরের শুরুতেই এলাকার জাহেদুল নামের জনৈক ব্যক্তির কাছ থেকে ১৩ ও ৭ শতাংশ করে দু দফায় ২০ শতাংশ জমি, আঃ মাজেদ ও আমিনুল মেম্বারের কাছ থেকে দেড় বছর আগে ৩৫ শতাংশ জমি ও মাত্র ১ মাস আগে আমিনুল মেম্বার ও মাজেদের কাছ থেকে একবারেই তিন বিঘা জমি কিনে নেয়। বাড়িতে কমপক্ষে ৫০ লক্ষ টাকা খরচ করে করেছে গরুর খামার। সেই খামারে রয়েছে ৮/১০ টা গরু। সে এলাকায় আরো ১০/১২ বিঘা জমি কমপক্ষে ২৫/৩০ লক্ষ টাকা দিয়ে বন্ধক নিয়েছে। এছাড়াও পশ্চিম দুর্গাপুরের নিজ বাড়িতে ও সাদুল্যাপুর উপজেলার জামুডাঙ্গায় তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার বাড়ি এলাকায় জমি কিনে কোটি টাকা খরচ করে দুই স্থানেই বিলাস বহুল বাড়ি তৈরি করেছে। দুই বাড়িতে আসবাবপত্র, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মুল্য কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে এলাকার লোকজন ধারণা করছেন।
এ ব্যাপারে মনজু মিয়ার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বার ০১৩২৮-৫৮১৭৯৩ এ তার মতামত জানার জন্য বেশ কয়েক দফা ফোন করেও পাওয়া যায়নি। এলাকার একটি সুত্র জানায়, মনজু মিয়া দিনের বেলায় পশ্চিম দুর্গাপুরের বাড়িতে থাকেন না। তবে প্রায় প্রায় তাকে বাড়িতে দেখা যায়। তার সাদুল্যাপুরের ওই বাড়িতেও সে নাকি দিনের বেলায় গা ঢাকা দিয়ে থাকেন।
মোঃ আল আমিন, গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি 

























