
ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর স্ত্রী ও দেশটির সাবেক ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেস বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে বন্দি অবস্থায় রয়েছেন। কারাবন্দি থাকা অবস্থায় তার হৃদ্যন্ত্রের সমস্যার অবনতি হয়েছে দাবি করে আইনজীবীদের মাধ্যমে তিনি গৃহবন্দিত্বের আবেদন জানিয়েছেন। নিউইয়র্কের একটি আদালতে দাখিল করা এই আবেদনে তাকে কারাগার থেকে সরিয়ে নিউইয়র্কের কোনো ব্যক্তিগত বাসভবনে স্থানান্তরের অনুরোধ করা হয়েছে।
৬৯ বছর বয়সী ফ্লোরেস বর্তমানে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে অবস্থিত মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে আটক আছেন। তার আইনজীবীদের ভাষ্যমতে, কারাগারে যাওয়ার আগে তিনি শারীরিকভাবে সুস্থ ছিলেন এবং হৃদ্যন্ত্রের একটি ভালভজনিত সমস্যার জন্য মাসে একবার মাত্র একটি ইনজেকশন গ্রহণ করতেন। তবে কারাবন্দি হওয়ার পর থেকে তার শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে এবং বর্তমানে তাকে নিয়মিত চারটি ওষুধ সেবন করতে হচ্ছে। গত ২৯ জুলাই হেফাজতে থাকা অবস্থায় তিনি শারীরিক অসুস্থতায় ভোগেন, যা হালকা মাত্রার হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা হতে পারে বলে তার প্রতিরক্ষা দল আশঙ্কা করছে। চিকিৎসকরা তাকে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং সম্ভাব্য অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়েছেন।
আদালতের নথিতে আইনজীবীরা স্বীকার করেছেন যে, কারাগারের চিকিৎসাকর্মীরা তাকে প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান করছেন। তবে উন্নত চিকিৎসা ও সুস্থতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে তারা গৃহবন্দিত্বের প্রস্তাব দিয়েছেন। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, ফ্লোরেসকে ২৪ ঘণ্টা সশস্ত্র নিরাপত্তার অধীনে রাখা হবে। এছাড়া ইলেকট্রনিক অবস্থান শনাক্তকারী যন্ত্রের মাধ্যমে তার ওপর নজরদারি চালানো হবে এবং আদালতের অনুমতি ছাড়া কারো সঙ্গে সাক্ষাৎ বা যোগাযোগ করার সুযোগ থাকবে না। তার ভ্রমণ নথিও আদালতের কাছে জমা রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক অভিযানের মাধ্যমে নিকোলাস মাদুরো ও সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করা হয়। এরপর তাদের নিউইয়র্কে নিয়ে আসা হয়। মাদুরোর বিরুদ্ধে কোকেন পাচারের ষড়যন্ত্রসহ গুরুতর অভিযোগ রয়েছে এবং ফ্লোরেসের বিরুদ্ধেও মাদক পাচারসংক্রান্ত অভিযোগ আনা হয়েছে। মার্কিন প্রসিকিউটরদের দাবি অনুযায়ী, তারা মাদকের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
মাদুরো ও ফ্লোরেসের আইনজীবীরা এই মামলা বাতিলের জন্য আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের অন্যতম প্রধান যুক্তি হলো, প্রেসিডেন্ট হিসেবে মাদুরো কূটনৈতিক ও সার্বভৌম দায়মুক্তির অধিকার ভোগ করেন। ভেনেজুয়েলার রাজনীতিতে ফ্লোরেস দীর্ঘদিন প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেছেন এবং মাদুরো প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে তিনি দেশটির ক্ষমতাসীন ইউনাইটেড সোশ্যালিস্ট পার্টির শীর্ষস্থানীয় নেতা ছিলেন।
মাদুরো সরকারের বিরুদ্ধে মাদক পাচার ছাড়াও রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে, যা সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামল থেকেই চলমান। বর্তমানে নিউইয়র্কের ফেডারেল বিচারক আলভিন কে. হেলারস্টেইন ফ্লোরেসের গৃহবন্দিত্বের আবেদনটি পর্যালোচনা করছেন। আদালত তার বর্তমান স্বাস্থ্যগত অবস্থা, পালিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি এবং প্রস্তাবিত কঠোর নজরদারির শর্তগুলো বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। মাদুরো ও ফ্লোরেসের মূল বিচার ২০২৭ সালের ১ জুন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে, তবে তার আগে আগামী ১৭ নভেম্বর মামলা বাতিলের আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তার ফোনকলও পর্যবেক্ষণের আওতায় থাকবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বুকে ব্যথা হলে ব্যবহারের জন্য তার কাছে নাইট্রোগ্লিসারিনও রাখা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে এটি চিকিৎসাগতভাবে নিশ্চিত হয়েছে এমন তথ্য নেই। চাকরির আরও তথ্য: আবেদনে বুকে ব্যথা, হৃদ্স্পন্দনে অস্বাভাবিকতা, শ্বাসকষ্ট এবং আটক হওয়ার পর উল্লেখযোগ্য ওজন কমার কথাও বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রস্তাবিত গৃহবন্দিত্বে ফ্লোরেস পুরোপুরি স্বাধীন থাকবেন না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দুজনই অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে মামলাটি এখনো বিচার শুরুর পর্যায়ে রয়েছে এবং আদালতে অভিযোগগুলোর সত্যতা চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়নি।
প্রতিনিধির নাম 

























