
বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নতুন উড়োজাহাজ কেনার প্রক্রিয়ায় এয়ারবাসের জন্য সমান সুযোগ প্রত্যাশা করেছেন। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত ‘ডিক্যাব টক’ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত এ কথা জানান। তিনি বলেন, বিমানের সঙ্গে এয়ারবাসের উড়োজাহাজ কেনা নিয়ে আলোচনা বর্তমানেও চলমান রয়েছে।
ফরাসি রাষ্ট্রদূত জানান, কয়েক বছর আগে কারিগরি ও বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনার পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এয়ারবাস থেকে উড়োজাহাজ কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। বিশ্বের অনেক বড় এয়ারলাইনসের বহরেই বোয়িং এবং এয়ারবাস—দুই ধরনের উড়োজাহাজ থাকে, যা কোনো একটি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীলতা কমায়। এতে করে কারিগরি ও বাণিজ্যিক সুবিধা তুলনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়।
এয়ারবাসের কারিগরি উৎকর্ষের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানটির এমন উড়োজাহাজ রয়েছে যা কোনো বিরতি ছাড়া ঢাকা থেকে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে পৌঁছাতে সক্ষম। তার মতে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এই আগ্রহ কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং সম্পূর্ণ কারিগরি সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে নেওয়া। বিশ্বজুড়ে শত শত এয়ারলাইনস এয়ারবাসের উড়োজাহাজ ব্যবহার করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বোয়িংয়ের সঙ্গে বিমানের চুক্তি এবং সরবরাহ সময়সূচি প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত জানান, বোয়িং ২০৩১ বা ২০৩৫ সালের দিকে সরবরাহের শর্তে উড়োজাহাজ বিক্রির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। এটি তাদের বাণিজ্যিক বিষয়। তবে এয়ারবাসের প্রতি বিমানের আগ্রহ এখনো অটুট এবং বিষয়টি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তিনি এই উদ্যোগকে কোনো সরকারি চুক্তি হিসেবে নয়, বরং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও এয়ারবাসের মধ্যকার বাণিজ্যিক বিষয় হিসেবে দেখছেন।
রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে আশা প্রকাশ করেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বিমান ও এয়ারবাসের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। বিমানের বহর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে কারিগরি সক্ষমতা, মূল্য এবং সরবরাহ সময়সূচির মতো বাণিজ্যিক বিষয়গুলোই মূল বিবেচ্য হবে বলে তিনি মনে করেন।
প্রতিনিধির নাম 
























