অনিয়ম ও প্রশাসনিক জটিলতায় সংকটে বিমান বাংলাদেশ

তদবির, প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা এবং নানা অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে বিপর্যস্ত রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। সংস্থাটির ওপর পাহাড়সম আর্থিক দায়ের পাশাপাশি সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে বিতর্কিত পদোন্নতির ঘটনাও সামনে এসেছে। যাত্রীসেবার মান নিয়ে নিয়মিত অভিযোগের পাশাপাশি ফ্লাইট শিডিউল বিপর্যয় ও লাগেজ জটিলতা বিমানকে আরও বেকায়দায় ফেলেছে।

বিমান সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কাছে বর্তমানে ৫ হাজার ৮৪২ কোটি ৯১ লাখ টাকার বেশি এবং পদ্মা অয়েলের কাছে ২ হাজার ১০৮ কোটি ১৯ লাখ ৯৭ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে। অর্থাৎ এই দুই সংস্থার কাছে বিমানের পাওনা প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা। যদিও পাওনা পরিশোধের জন্য বারবার তাগাদা দেওয়া হচ্ছে, তবে বিমান কর্তৃপক্ষের দাবি, গত বছরের জানুয়ারি মাস থেকে নিয়মিত কিস্তির অংশ হিসেবে প্রতি মাসে ২৫ কোটি টাকা করে পরিশোধ করা হচ্ছে।

প্রশাসনিক অনিয়মের অন্যতম বড় ঘটনা হিসেবে সামনে এসেছে গত ১০ সেপ্টেম্বর পার্সোনেল শাখা থেকে ১৩ কর্মকর্তার পদোন্নতি প্রদান। অভিযোগ রয়েছে, এই পদোন্নতির ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা ও বিদ্যমান বিধিমালা উপেক্ষা করে প্রভাবশালীদের তদবিরকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এর আগে ৩ আগস্ট বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে ব্যবস্থাপনা পরিচালককে পাঠানো এক চিঠিতে প্রকৌশল শাখার পদোন্নতিতে দুর্নীতির তদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত সব ধরনের পদোন্নতি কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। মন্ত্রণালয়ের সেই স্পষ্ট নির্দেশনা অমান্য করেই এই পদোন্নতি দেওয়া হয়, যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

বিমান বহরের সম্প্রসারণ ও আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আশার কথা শোনালেও বাস্তবে যাত্রীসেবার চিত্র বিপরীত। বর্তমানে বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে, যার মধ্যে চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর এবং ভবিষ্যতে আরও ২১টি উড়োজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনা চলছে। একদিকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যাত্রী পরিবহন থেকে ৭৮৫ কোটি টাকা লাভের দাবি করছে কর্তৃপক্ষ, অন্যদিকে বেবিচকের কর্মকর্তাদের প্রশ্ন, রেকর্ড মুনাফা করলে বিপুল বকেয়া পরিশোধে ঘাটতি কেন থাকছে? যোগ্য ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের বঞ্চিত করে তদবিরের মাধ্যমে পদোন্নতি দেওয়ায় সামগ্রিক প্রশাসনিক কার্যক্রমেও স্থবিরতা নেমে এসেছে। এছাড়া ফ্লাইট বিলম্ব, বাতিল, লাগেজ পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও টিকিট বুকিং সেবায় দুর্বলতা নিয়ে ক্ষুব্ধ যাত্রীরা। মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রীয় এই প্রতিষ্ঠানে কোনো অনিয়ম বরদাশত করা হবে না এবং নির্দেশ অমান্য করে পদোন্নতির বিষয়টি তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিমানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতির ক্ষেত্রে যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও জ্যেষ্ঠতার চেয়ে তদবির ও প্রভাবের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অন্যদিকে বিমান কর্তৃপক্ষ গত কয়েক বছর ধরে লাভজনক অবস্থানে থাকার দাবি করে আসছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পাওনা পরিশোধে একাধিকবার তাগাদা দেওয়া হলেও পুরো অর্থ পরিশোধ করা হয়নি বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ৩ নভেম্বর: ট্রাম্পের ক্ষমতা নির্ধারণে বড় পরীক্ষা

Verified by MonsterInsights

অনিয়ম ও প্রশাসনিক জটিলতায় সংকটে বিমান বাংলাদেশ

আপলোডের সময় : 10:54:40 am, Friday, 25 September 2026

তদবির, প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা এবং নানা অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে বিপর্যস্ত রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। সংস্থাটির ওপর পাহাড়সম আর্থিক দায়ের পাশাপাশি সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে বিতর্কিত পদোন্নতির ঘটনাও সামনে এসেছে। যাত্রীসেবার মান নিয়ে নিয়মিত অভিযোগের পাশাপাশি ফ্লাইট শিডিউল বিপর্যয় ও লাগেজ জটিলতা বিমানকে আরও বেকায়দায় ফেলেছে।

বিমান সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কাছে বর্তমানে ৫ হাজার ৮৪২ কোটি ৯১ লাখ টাকার বেশি এবং পদ্মা অয়েলের কাছে ২ হাজার ১০৮ কোটি ১৯ লাখ ৯৭ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে। অর্থাৎ এই দুই সংস্থার কাছে বিমানের পাওনা প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা। যদিও পাওনা পরিশোধের জন্য বারবার তাগাদা দেওয়া হচ্ছে, তবে বিমান কর্তৃপক্ষের দাবি, গত বছরের জানুয়ারি মাস থেকে নিয়মিত কিস্তির অংশ হিসেবে প্রতি মাসে ২৫ কোটি টাকা করে পরিশোধ করা হচ্ছে।

প্রশাসনিক অনিয়মের অন্যতম বড় ঘটনা হিসেবে সামনে এসেছে গত ১০ সেপ্টেম্বর পার্সোনেল শাখা থেকে ১৩ কর্মকর্তার পদোন্নতি প্রদান। অভিযোগ রয়েছে, এই পদোন্নতির ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা ও বিদ্যমান বিধিমালা উপেক্ষা করে প্রভাবশালীদের তদবিরকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এর আগে ৩ আগস্ট বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে ব্যবস্থাপনা পরিচালককে পাঠানো এক চিঠিতে প্রকৌশল শাখার পদোন্নতিতে দুর্নীতির তদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত সব ধরনের পদোন্নতি কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। মন্ত্রণালয়ের সেই স্পষ্ট নির্দেশনা অমান্য করেই এই পদোন্নতি দেওয়া হয়, যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

বিমান বহরের সম্প্রসারণ ও আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আশার কথা শোনালেও বাস্তবে যাত্রীসেবার চিত্র বিপরীত। বর্তমানে বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে, যার মধ্যে চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর এবং ভবিষ্যতে আরও ২১টি উড়োজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনা চলছে। একদিকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যাত্রী পরিবহন থেকে ৭৮৫ কোটি টাকা লাভের দাবি করছে কর্তৃপক্ষ, অন্যদিকে বেবিচকের কর্মকর্তাদের প্রশ্ন, রেকর্ড মুনাফা করলে বিপুল বকেয়া পরিশোধে ঘাটতি কেন থাকছে? যোগ্য ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের বঞ্চিত করে তদবিরের মাধ্যমে পদোন্নতি দেওয়ায় সামগ্রিক প্রশাসনিক কার্যক্রমেও স্থবিরতা নেমে এসেছে। এছাড়া ফ্লাইট বিলম্ব, বাতিল, লাগেজ পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও টিকিট বুকিং সেবায় দুর্বলতা নিয়ে ক্ষুব্ধ যাত্রীরা। মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রীয় এই প্রতিষ্ঠানে কোনো অনিয়ম বরদাশত করা হবে না এবং নির্দেশ অমান্য করে পদোন্নতির বিষয়টি তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিমানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতির ক্ষেত্রে যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও জ্যেষ্ঠতার চেয়ে তদবির ও প্রভাবের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অন্যদিকে বিমান কর্তৃপক্ষ গত কয়েক বছর ধরে লাভজনক অবস্থানে থাকার দাবি করে আসছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পাওনা পরিশোধে একাধিকবার তাগাদা দেওয়া হলেও পুরো অর্থ পরিশোধ করা হয়নি বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।