দেশের বিভিন্ন স্থানে তীব্র পানির সংকট

দেশের বিভিন্ন স্থানে তীব্র পানির সংকট দেখা দেওয়ায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। এই তীব্র গরমের মধ্যে প্রয়োজনীয় পানির চাহিদা মেটাতে না পেরে বিভিন্ন জায়গায় সাধারণ মানুষ সড়ক অবরোধসহ আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছেন।

সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার লোকমানপুর গ্রামে ৩০টি পরিবার গত ২০ বছর ধরে সুপেয় পানির সংকটে ভুগছে। গ্রামের বাসিন্দা লোকমান মিয়া জানান, সুপেয় পানির জন্য গ্রামবাসীকে এক কিলোমিটার দূরে যেতে হয়। বর্ষায় নৌকায় এবং হেমন্তে হাওরের কাদামাটি মাড়িয়ে পানি সংগ্রহ করতে হয়, যা নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। এই গ্রামে দ্রুত নলকূপ স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সকিনা আক্তার জানান, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে ওই এলাকার সংকট সরেজমিনে যাচাই করে বরাদ্দ সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পানি না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন পৌরবাসী।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌরসভায় সাপ্লাই পানির তীব্র সংকট চলছে। ১৯৯৭ সালের ১ মার্চ প্রতিষ্ঠিত এই পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের বাসিন্দারা দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ থাকলেই কেবল পানি পাওয়ার মতো পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছেন। বিদ্যুৎ গেলেই পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্রাহকদের ভোগান্তি বাড়ছে। এছাড়া কয়েকটি পাম্প থেকে পানির সাথে বালু ওঠার অভিযোগও রয়েছে। কলাপাড়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসক আরিফুজ্জামান জানান, বিষয়টি সমাধানের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে এবং অচিরেই এ সংকট নিরসন হবে। জানা গেছে, কলাপাড়া পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৭ সালের ১ মার্চ। ৩ দশমিক ৭৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের পৌরসভাটিতে রয়েছে ৯টি ওয়ার্ড। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, তখনকার জনসংখ্যা ছিল ১৯ হাজার ৭৮২ জন। অচিরেই পানির সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।

এদিকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে পানির সংকট নিরসনের দাবিতে এলাকাবাসী গত রোববার দীর্ঘ সময় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। শিমরাইল ও চাষাড়ামুখী সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তীব্র জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, চৌধুরী বাড়ি এলাকার পানির পাম্পটি প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বিকল হয়ে পড়ে আছে। পাম্পটি সচল করার জন্য বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও কোনো কাজ হয়নি। পানির দাবিতে গত কয়েকদিন ধরে স্থানীয়রা বিভিন্নভাবে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। এ সময় শিমরাইল ও চাষাড়ামুখী সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় বিক্ষোভকারীরা।

গাজীপুরের শ্রীপুরে জাহাঙ্গীরপুর পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভয়াবহ অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। প্রিপেইড মিটারে টাকা না থাকায় প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় বিদ্যালয়টিতে পাঠদান চলছে। প্রধান শিক্ষকের অবহেলার কারণে শিক্ষার্থীরা তীব্র গরমে ফ্যানের বাতাস থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এছাড়া বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা না থাকায় খাবার পানির জন্য শিক্ষার্থীদের পাশের বাড়িতে ছুটতে হচ্ছে। এ বিষয়ে গাজীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তসলিম হোসেন জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং অবিলম্বে এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দীর্ঘদিন ধরে এই অবস্থা চললেও প্রতিকারে নেওয়া হচ্ছে না উদ্যোগ।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাঘাটায় অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, ড্রেজার মেশিন ও সরঞ্জাম জব্দ

Verified by MonsterInsights

দেশের বিভিন্ন স্থানে তীব্র পানির সংকট

আপলোডের সময় : 09:46:04 am, Thursday, 8 October 2026

দেশের বিভিন্ন স্থানে তীব্র পানির সংকট দেখা দেওয়ায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। এই তীব্র গরমের মধ্যে প্রয়োজনীয় পানির চাহিদা মেটাতে না পেরে বিভিন্ন জায়গায় সাধারণ মানুষ সড়ক অবরোধসহ আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছেন।

সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার লোকমানপুর গ্রামে ৩০টি পরিবার গত ২০ বছর ধরে সুপেয় পানির সংকটে ভুগছে। গ্রামের বাসিন্দা লোকমান মিয়া জানান, সুপেয় পানির জন্য গ্রামবাসীকে এক কিলোমিটার দূরে যেতে হয়। বর্ষায় নৌকায় এবং হেমন্তে হাওরের কাদামাটি মাড়িয়ে পানি সংগ্রহ করতে হয়, যা নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। এই গ্রামে দ্রুত নলকূপ স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সকিনা আক্তার জানান, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে ওই এলাকার সংকট সরেজমিনে যাচাই করে বরাদ্দ সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পানি না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন পৌরবাসী।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌরসভায় সাপ্লাই পানির তীব্র সংকট চলছে। ১৯৯৭ সালের ১ মার্চ প্রতিষ্ঠিত এই পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের বাসিন্দারা দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ থাকলেই কেবল পানি পাওয়ার মতো পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছেন। বিদ্যুৎ গেলেই পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্রাহকদের ভোগান্তি বাড়ছে। এছাড়া কয়েকটি পাম্প থেকে পানির সাথে বালু ওঠার অভিযোগও রয়েছে। কলাপাড়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসক আরিফুজ্জামান জানান, বিষয়টি সমাধানের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে এবং অচিরেই এ সংকট নিরসন হবে। জানা গেছে, কলাপাড়া পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৭ সালের ১ মার্চ। ৩ দশমিক ৭৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের পৌরসভাটিতে রয়েছে ৯টি ওয়ার্ড। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, তখনকার জনসংখ্যা ছিল ১৯ হাজার ৭৮২ জন। অচিরেই পানির সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।

এদিকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে পানির সংকট নিরসনের দাবিতে এলাকাবাসী গত রোববার দীর্ঘ সময় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। শিমরাইল ও চাষাড়ামুখী সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তীব্র জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, চৌধুরী বাড়ি এলাকার পানির পাম্পটি প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বিকল হয়ে পড়ে আছে। পাম্পটি সচল করার জন্য বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও কোনো কাজ হয়নি। পানির দাবিতে গত কয়েকদিন ধরে স্থানীয়রা বিভিন্নভাবে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। এ সময় শিমরাইল ও চাষাড়ামুখী সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় বিক্ষোভকারীরা।

গাজীপুরের শ্রীপুরে জাহাঙ্গীরপুর পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভয়াবহ অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। প্রিপেইড মিটারে টাকা না থাকায় প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় বিদ্যালয়টিতে পাঠদান চলছে। প্রধান শিক্ষকের অবহেলার কারণে শিক্ষার্থীরা তীব্র গরমে ফ্যানের বাতাস থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এছাড়া বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা না থাকায় খাবার পানির জন্য শিক্ষার্থীদের পাশের বাড়িতে ছুটতে হচ্ছে। এ বিষয়ে গাজীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তসলিম হোসেন জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং অবিলম্বে এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দীর্ঘদিন ধরে এই অবস্থা চললেও প্রতিকারে নেওয়া হচ্ছে না উদ্যোগ।