বিজয়া দশমী: প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হলো শারদীয় দুর্গাপূজা

প্রতিমা বিসর্জনের করুণ সুর আর অশ্রুসজল বিদায়ের মধ্য দিয়ে আজ সমাপ্তি ঘটল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার।

গতকাল মহানবমীর পূজা ও সন্ধ্যার আরতির পরই উৎসবের আমেজ ফিকে হয়ে আসে। আজ বিজয়া দশমীর দিনে মর্ত্যলোক ছেড়ে কৈলাসে পতিগৃহে ফিরে যাচ্ছেন দেবী দুর্গা। যদিও উৎসব শেষ হচ্ছে, তবুও ভক্তদের মনে আগামী বছরের প্রত্যাশা ও নতুন আশার আলো জেগে রয়েছে। ৬ দিনব্যাপী পূজার আনুষ্ঠানিকতা আজ প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হবে। জননিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে পূজা উদযাপন পরিষদ আজ সন্ধ্যার আগেই বিসর্জন সম্পন্ন করার নির্দেশনা দিয়েছে। উদ্দীপ্ত হয়ে ওঠে নৈসর্গিক নির্জনতা।

গত ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল এই বর্ণাঢ্য উৎসব। টানা ছয় দিন দেশের প্রতিটি মন্দির আনন্দ ও উদ্দীপনায় মুখরিত ছিল। ঢাক, ঢোল, কাঁসর, ঘণ্টা আর শঙ্খ ধ্বনিতে সারা দেশে এক প্রাণবন্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল, যেখানে মন্ত্র উচ্চারণ ও প্রার্থনার মাধ্যমে অশুভ শক্তি বিনাশ করে শুভ কামনায় মেতেছিলেন ভক্তরা। উৎসব উপলক্ষে বিএনপি সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে হিন্দু সম্প্রদায়কে বিজয়া দশমীর শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। এছাড়া সরকারি ও বেসরকারি টেলিভিশন এবং রেডিও চ্যানেলগুলো বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করেছে। বছরান্তে দেবী দুর্গার আগমনে এ বছর ৬ দিন দেশের প্রতিটি মন্দিরে বিরাজ করছিল আনন্দ আর উদ্দীপনাময় এক পরিবেশ। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ অন্যান্য বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও রেডিও বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করবে।

এ বছর সরকারের নির্বাহী আদেশে দুর্গাপূজার ছুটি তিন দিন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা ভক্তদের আনন্দ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে এই বর্ধিত ছুটি যুক্ত হওয়ায় ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত মোট পাঁচ দিনের ছুটির আমেজ ছিল। দুর্গাপূজা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং এটি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই উৎসবের মাধ্যমে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের মধ্যকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ঐতিহ্য আবারও সুদৃঢ় হয়েছে। পূজাতে টানা ৫ দিনের এই ছুটি উৎসবের আনন্দ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই উৎসব হিন্দু সম্প্রদায় ও অন্যান্য ধর্মের মানুষকে একত্রিত করে, যা দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ঐতিহ্যকেই তুলে ধরে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাঘাটায় অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, ড্রেজার মেশিন ও সরঞ্জাম জব্দ

Verified by MonsterInsights

বিজয়া দশমী: প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হলো শারদীয় দুর্গাপূজা

আপলোডের সময় : 10:36:24 am, Wednesday, 21 October 2026

প্রতিমা বিসর্জনের করুণ সুর আর অশ্রুসজল বিদায়ের মধ্য দিয়ে আজ সমাপ্তি ঘটল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার।

গতকাল মহানবমীর পূজা ও সন্ধ্যার আরতির পরই উৎসবের আমেজ ফিকে হয়ে আসে। আজ বিজয়া দশমীর দিনে মর্ত্যলোক ছেড়ে কৈলাসে পতিগৃহে ফিরে যাচ্ছেন দেবী দুর্গা। যদিও উৎসব শেষ হচ্ছে, তবুও ভক্তদের মনে আগামী বছরের প্রত্যাশা ও নতুন আশার আলো জেগে রয়েছে। ৬ দিনব্যাপী পূজার আনুষ্ঠানিকতা আজ প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হবে। জননিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে পূজা উদযাপন পরিষদ আজ সন্ধ্যার আগেই বিসর্জন সম্পন্ন করার নির্দেশনা দিয়েছে। উদ্দীপ্ত হয়ে ওঠে নৈসর্গিক নির্জনতা।

গত ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল এই বর্ণাঢ্য উৎসব। টানা ছয় দিন দেশের প্রতিটি মন্দির আনন্দ ও উদ্দীপনায় মুখরিত ছিল। ঢাক, ঢোল, কাঁসর, ঘণ্টা আর শঙ্খ ধ্বনিতে সারা দেশে এক প্রাণবন্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল, যেখানে মন্ত্র উচ্চারণ ও প্রার্থনার মাধ্যমে অশুভ শক্তি বিনাশ করে শুভ কামনায় মেতেছিলেন ভক্তরা। উৎসব উপলক্ষে বিএনপি সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে হিন্দু সম্প্রদায়কে বিজয়া দশমীর শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। এছাড়া সরকারি ও বেসরকারি টেলিভিশন এবং রেডিও চ্যানেলগুলো বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করেছে। বছরান্তে দেবী দুর্গার আগমনে এ বছর ৬ দিন দেশের প্রতিটি মন্দিরে বিরাজ করছিল আনন্দ আর উদ্দীপনাময় এক পরিবেশ। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ অন্যান্য বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও রেডিও বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করবে।

এ বছর সরকারের নির্বাহী আদেশে দুর্গাপূজার ছুটি তিন দিন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা ভক্তদের আনন্দ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে এই বর্ধিত ছুটি যুক্ত হওয়ায় ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত মোট পাঁচ দিনের ছুটির আমেজ ছিল। দুর্গাপূজা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং এটি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই উৎসবের মাধ্যমে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের মধ্যকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ঐতিহ্য আবারও সুদৃঢ় হয়েছে। পূজাতে টানা ৫ দিনের এই ছুটি উৎসবের আনন্দ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই উৎসব হিন্দু সম্প্রদায় ও অন্যান্য ধর্মের মানুষকে একত্রিত করে, যা দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ঐতিহ্যকেই তুলে ধরে।