
ফুটবলপ্রেমীদের জন্য দারুণ সুখবর। বল পায়ে মাঠ কাঁপানো সেই চিরচেনা হাসিটা আবারও প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে দেখা যাবে। ৪৬ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদিনহো দীর্ঘ ১১ বছরের বিরতি ভেঙে পেশাদার ফুটবলে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। ২০১৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ফুটবল থেকে অবসর নিলেও বিভিন্ন প্রদর্শনী ম্যাচে নিয়মিত দেখা গেছে তাকে। তবে এবার পুরোপুরি প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলেই ফিরছেন ব্যালন ডি’অর জয়ী এই তারকা। দুনিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে প্রীতি ম্যাচ খেলেছেন রোনালদিনিও। হ্যাঁ, ৪৬ বছর বয়সে ব্রাজিল কিংবদন্তি ফিরছেন প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে। পুরো ফুটবল–বিশ্ব ভেবেছিল এটা সত্যি তো। পিএসজি থেকে ২০০৩ সালে বার্সেলোনায় যোগ দেন রোনালদিনিও।
ইতালিয়ান সিরি সি-এর ক্লাব রাভেন্নার জার্সিতে মাঠে নামবেন ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী এই মিডফিল্ডার। আগামী ১৫ নভেম্বর স্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বী দল ফোরলির বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তার এই প্রত্যাবর্তন ঘটবে। গত জুনে সবাইকে অবাক করে রাভেন্নার সাথে চুক্তিবদ্ধ হলেও এতদিন মাঠের লড়াইয়ে নামেননি তিনি। ২০০৫ সালে ব্যালন ডি’অর জেতা এই মহাতারকা সর্বশেষ প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে খেলেছিলেন ২০১৫ সালে ফ্লুমিনেন্সের হয়ে। এরপর ২০১৮ সালে তিনি ফুটবল থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায় নেন। সবাইকে চমকে দিয়ে গত জুনে রাভেনায় সই করেন রোনালদিনিও। সেই সময় বিশ্বসেরা হয়ে ওঠার পথে ২০০৫ সালে জেতেন ব্যালন ডি’অর।
গত আগস্ট মাসে ইতালি সফরে গিয়ে ক্যারিয়ারে ৩০০ গোল পূর্ণ করার সম্ভাবনা জিইয়ে রেখেছিলেন রোনালদিনহো। রাভেন্না কর্তৃপক্ষ তার ফেরার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছে। ক্লাবটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, এটি এমন এক আয়োজন যা পুরো ফুটবল বিশ্বের দৃষ্টি কেড়ে নেবে স্তাদিও ব্রুনো বেনেলির দিকে। রোনালদিনহো কেবল একজন খেলোয়াড় নন, তিনি ফুটবলের ছন্দ এবং আনন্দের প্রতীক। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে সমর্থকদের মুগ্ধ করে আসা এই তারকাকে আবারো মাঠে পাওয়াটা তাদের জন্য স্বপ্নের মতো। তবে ক্যারিয়ারে ৩০০তম গোল করার সম্ভাবনা জিইয়ে রেখে রাভেন্নাকে বলেছিলেন, ‘আমি সাহায্য করতে এসেছি।’। তবে আমরা এখন আনুষ্ঠানিকভাবে একটি দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা দিতে পারি: সেই জাদুকরি মুহূর্ত, সেই হাসি এবং এমন এক প্রতিভার প্রত্যাবর্তন, যা দলীয় আনুগত্য বা ক্লাবপ্রীতির সীমানা ছাড়িয়ে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরের সমর্থকদের বিমোহিত করেছে।’। তখন ক্লাবটির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মায়ামির ঘোষণা থেকে মারিনা দি রাভেন্নার সৈকতে সমর্থকদের উষ্ণ অভ্যর্থনা পর্যন্ত—উত্তেজনা, কৌতূহলের মিশ্রণে মানুষের প্রত্যাশা বেড়েই চলেছে।’। সে কথাই স্মরণ করে রাভেন্নার বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘কিছু ফুটবলারকে স্মরণ করা হয় তাঁরা কী জয় করেছেন সে জন্য, আর কিছু খেলোয়াড়কে স্মরণ করা হয় তাঁরা মানুষকে কেমন অনুভূতি দিয়েছেন তার জন্য। রোনালদিনিও সেই বিরল চ্যাম্পিয়নদের একজন, যিনি ফুটবলকে নিখাদ আনন্দে রূপ দিতে সক্ষম।
ইতালিয়ান ফুটবলে এটি রোনালদিনহোর দ্বিতীয় অধ্যায়। এর আগে ২০০৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি এসি মিলানের হয়ে সিরি আ মাতিয়েছিলেন। বার্সেলোনার হয়ে লা লিগা ও চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের পাশাপাশি পিএসজিতেও উজ্জ্বল ছিলেন তিনি। সর্বকালের সেরা অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারদের তালিকায় থাকা রোনালদিনহোর সৃজনশীল খেলার ধরন এবং মাঠের জাদুকরী মুহূর্তগুলো আজও সমর্থকদের হৃদয়ে গেঁথে আছে। ক্লাবটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রোনালদিনহো কেবল একজন দক্ষ খেলোয়াড় হিসেবে নন, বরং ফুটবলের আনন্দময় রূপের প্রতিনিধি হিসেবেই ফিরে আসছেন। গত আগস্টে ইতালিতে পৌঁছে রোনালদিনিও নিশ্চিত করেননি ক্লাবটির হয়ে খেলবেন কি না। রোনালদিনিও এই দলের হয়ে ক্যারিয়ারের শেষ গোলটি করবেন, সেটা তাঁর কাছে স্বপ্নের মতো ব্যাপার। অবিশ্বাস্য সব কারিকুরি এবং চোখজুড়ানো খেলার জন্য রোনালদিনিওর আলাদা আবেদন ছিল সমর্থকদের কাছে।
উল্লেখ্য যে, ইতালিয়ান সিরি সি লিগটি তিনটি গ্রুপে বিভক্ত, যেখানে মোট ৬০টি ক্লাব অংশগ্রহণ করে। সিপ্রিয়ানি রেস্তোরাঁ ব্র্যান্ডের ইগনাজিও চিপ্রিয়ানি ক্লাবটি পরিচালনা করেন।
প্রতিটি গ্রুপে থাকে ২০টি করে দল। রাভেন্না বর্তমানে ‘বি’ গ্রুপে ১০ ম্যাচে ২০ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে। লিগের শীর্ষে থাকা স্পেৎজিয়ার চেয়ে তারা ৮ পয়েন্ট পিছিয়ে আছে। ফোরলির বিপক্ষে আসন্ন ডার্বি ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে রাভেন্নার ঘরের মাঠ ব্রুনো বেনেলিতে। সমুদ্রসৈকতে জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সমর্থকদের সামনে হাজির হওয়া রোনালদিনহো এখন আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের জাদুকরী পারফরম্যান্স দেখানোর অপেক্ষায়।
প্রতিনিধির নাম 

























