প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় গুলোর স্বীকৃতির দাবীতে গাইবান্ধার ন্যায় সারা দেশে একযোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

 

দেশের সব প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি ও এমপিওভুক্ত করার দাবিতে গাইবান্ধায় মানববন্ধন হয়েছে। এ ছাড়া একই দাবিতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ (বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই) জেলা শহরে এ কর্মসূচি পালন করে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় সমন্বয় পরিষদ। এতে জেলার প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীরা অংশ নেন।

বেলা ১১টার দিকে শহরের গানাসাস মার্কেটের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় সমন্বয় পরিষদের জেলা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ সামাদ আজাদ, সাধারণ সম্পাদক মমিনুল হক হাউলিদার, সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা ময়নুল হক রাজা, শিক্ষক বেলাল হোসেন, জাহেদুল ইসলাম জাহিদ প্রমুখ।

এসময় বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা বিনা বেতনে প্রতিবন্ধী শিশুদের পাঠদান করে যাচ্ছি। কোনো বেতন-ভাতা সরকার থেকে পাই না। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে অত্যন্ত মানবেতর জীবন কাটছে। অনেকেরই অন্য চাকরিতে যাওয়ার মতো বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা নেই। প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে কাজ করার লক্ষ্যে আমরা শিক্ষকতা শুরু করেছিলাম। সরকার স্বীকৃতি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েও দিচ্ছে না। এটা আমাদের জন্য অনেক কষ্টের। তাই আমরা দ্রুত প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি ও এমপিওভুক্তির দাবি জানাই।

মানববন্ধন শেষে মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সমবেত হন শিক্ষক-কর্মচারীরা। পরে সেখান থেকে একটি প্রতিনিধি দল প্রধান উপদেষ্টা বরাবর লেখা স্মারকলিপি জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেন।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, “সরকারের ‘বিশেষ শিক্ষা নীতিমালা ২০০৯ ও ২০১৯’ অনুযায়ী ব্যক্তিগত উদ্যোগে বাংলাদেশে দীর্ঘদিন যাবৎ ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রতিবন্ধী প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য দীর্ঘদিন যাবত বিশেষ বিদ্যালয় সমূহ পরিচালিত হয়ে আসছে। সমাজের পিছিয়ে পরা প্রতিবন্ধী শিশুদের সমাজের মূল স্রোতধারায় অন্তর্ভুক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এই বিদ্যালয়সমূহ। প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় সমূহকে বাংলাদেশ সরকার স্বীকৃতি ও এমপিও প্রদানের জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক ২০১৯ সালে প্রজ্ঞাপন জারি করে এবং ২০২০ সাল পর্যন্ত শর্ত সাপেক্ষে প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়গুলোর কাছ থেকে স্বীকৃতি ও এমপিওর জন্য অনলাইনে আবেদন গ্রহন করে। এতে ২৭৪১টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করে। এর মধ্যে যাচাই-বাছাই করে ১৭৭২ টি আবেদন গ্রহন করে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। কিন্তু তার পর থেকে এ বিষয়ে আর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। তাই অবিলম্বে এসব প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি ও এমপিওভুক্ত করার দাবি উত্থাপন করেন তারা।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

ঠাকুরগাঁওয়ে উপনির্বাচন উপলক্ষে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালকের নির্দেশনা

Verified by MonsterInsights

প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় গুলোর স্বীকৃতির দাবীতে গাইবান্ধার ন্যায় সারা দেশে একযোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

আপলোডের সময় : 10:24:15 pm, Thursday, 17 July 2025

 

দেশের সব প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি ও এমপিওভুক্ত করার দাবিতে গাইবান্ধায় মানববন্ধন হয়েছে। এ ছাড়া একই দাবিতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ (বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই) জেলা শহরে এ কর্মসূচি পালন করে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় সমন্বয় পরিষদ। এতে জেলার প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীরা অংশ নেন।

বেলা ১১টার দিকে শহরের গানাসাস মার্কেটের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় সমন্বয় পরিষদের জেলা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ সামাদ আজাদ, সাধারণ সম্পাদক মমিনুল হক হাউলিদার, সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা ময়নুল হক রাজা, শিক্ষক বেলাল হোসেন, জাহেদুল ইসলাম জাহিদ প্রমুখ।

এসময় বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা বিনা বেতনে প্রতিবন্ধী শিশুদের পাঠদান করে যাচ্ছি। কোনো বেতন-ভাতা সরকার থেকে পাই না। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে অত্যন্ত মানবেতর জীবন কাটছে। অনেকেরই অন্য চাকরিতে যাওয়ার মতো বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা নেই। প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে কাজ করার লক্ষ্যে আমরা শিক্ষকতা শুরু করেছিলাম। সরকার স্বীকৃতি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েও দিচ্ছে না। এটা আমাদের জন্য অনেক কষ্টের। তাই আমরা দ্রুত প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি ও এমপিওভুক্তির দাবি জানাই।

মানববন্ধন শেষে মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সমবেত হন শিক্ষক-কর্মচারীরা। পরে সেখান থেকে একটি প্রতিনিধি দল প্রধান উপদেষ্টা বরাবর লেখা স্মারকলিপি জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেন।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, “সরকারের ‘বিশেষ শিক্ষা নীতিমালা ২০০৯ ও ২০১৯’ অনুযায়ী ব্যক্তিগত উদ্যোগে বাংলাদেশে দীর্ঘদিন যাবৎ ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রতিবন্ধী প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য দীর্ঘদিন যাবত বিশেষ বিদ্যালয় সমূহ পরিচালিত হয়ে আসছে। সমাজের পিছিয়ে পরা প্রতিবন্ধী শিশুদের সমাজের মূল স্রোতধারায় অন্তর্ভুক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এই বিদ্যালয়সমূহ। প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় সমূহকে বাংলাদেশ সরকার স্বীকৃতি ও এমপিও প্রদানের জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক ২০১৯ সালে প্রজ্ঞাপন জারি করে এবং ২০২০ সাল পর্যন্ত শর্ত সাপেক্ষে প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়গুলোর কাছ থেকে স্বীকৃতি ও এমপিওর জন্য অনলাইনে আবেদন গ্রহন করে। এতে ২৭৪১টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করে। এর মধ্যে যাচাই-বাছাই করে ১৭৭২ টি আবেদন গ্রহন করে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। কিন্তু তার পর থেকে এ বিষয়ে আর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। তাই অবিলম্বে এসব প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি ও এমপিওভুক্ত করার দাবি উত্থাপন করেন তারা।