দক্ষিণখানে রাজউককে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে উঁচিয়ে উঠছে অবৈধ অট্টালিকা

রাজধানীর দক্ষিণখান থানার গাওয়াইর (মোল্লারটেক) এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী হাজী মোমতাজ উদ্দিন মোল্লা অবৈধভাবে বিশাল অট্টালিকা নির্মাণ করলেও প্রশাসন রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করছে। প্রায় ১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও ভবনটি এখনও রাজউক বা সিটি কর্পোরেশনের কোনো অনুমোদন ছাড়াই দাপটের সঙ্গে টিকে আছে।

 

বিস্তারিত অনুসন্ধানে জানা যায়, মোমতাজ মোল্লা দক্ষিণখানের মোল্লারটেক এলাকার তাজ গার্মেন্টস সংলগ্ন মেইন রোডের পাশে অবস্থিত জমিতে ভবনটি নির্মাণ করেন কোনো অনুমোদন ছাড়াই। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তৎকালীন সরকারের রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি পরে কৌশলে কিছু কাগজপত্র তৈরি করে ভবনটিকে ‘বৈধ’ দেখানোর চেষ্টা করেন।

বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, ভবনের পেছনের অংশে নতুন করে আবারও অনুমোদনবিহীন চারতলার নির্মাণ কাজ চলছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা— এবারও তিনি পুরোনো কৌশলেই গোপনে কাগজপত্র বানিয়ে ভবনটিকে বৈধ হিসেবে চালানোর চেষ্টা করছেন।

দাগ নং–১৭৮, বাড়ি নং–৩, ওয়ার্ড নং–৪৯, হোটেল আল মদিনা সংলগ্ন, গাওয়াইর, দক্ষিণখান, ঢাকা।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজউক বা সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা এতদিনেও ভবনটি দেখতে পাননি, বিষয়টি অবিশ্বাস্য। অনুমোদনহীন ভবন মানেই জননিরাপত্তার ঝুঁকি, যা নিঃসন্দেহে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। এলাকাবাসীর প্রশ্ন— “রাজউক কি এখন মোমতাজ মোল্লার ইশারায় চলে?”

 

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান এইড এন্ড ট্রাস্ট ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, তারা দেশের বিভিন্ন অপরাধ, অনিয়ম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় নিরপেক্ষভাবে তদন্ত চালায়। সংগঠনটির এক প্রতিনিধি বলেন— “অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কেন এত বছরেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। আইন সবার জন্য সমান— কেউই তার ঊর্ধ্বে নয়।”

 

সংবাদ প্রস্তুতের সময় হাজী মোমতাজ উদ্দিন মোল্লার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে তার ছেলে তাজুলের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি দাবি করেন— “আমাদের ভবনের অনুমোদন ও নকশা সবই আছে। আগেই ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অনুমতি নেওয়া হয়েছিল।”

 

কিন্তু প্রশাসনিকভাবে প্রশ্ন উঠেছে— ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এতদিন আগে অনুমোদন নিয়ে কীভাবে বর্তমান সময়ে ভবন সম্প্রসারণ করা হচ্ছে এবং কার অনুমতিতে— তা এখন রহস্য।

 

এলাকাবাসীর মতে, এমন নজির প্রশাসনের ব্যর্থতার প্রতীক। তারা মনে করেন, যদি একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি আইনকে এভাবে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাতে পারেন, তবে সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার কোথায়?

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

​বগুড়ার নন্দীগ্রামে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় গৃহবধূসহ নিহত ২

Verified by MonsterInsights

দক্ষিণখানে রাজউককে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে উঁচিয়ে উঠছে অবৈধ অট্টালিকা

আপলোডের সময় : 07:49:38 am, Thursday, 13 November 2025

রাজধানীর দক্ষিণখান থানার গাওয়াইর (মোল্লারটেক) এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী হাজী মোমতাজ উদ্দিন মোল্লা অবৈধভাবে বিশাল অট্টালিকা নির্মাণ করলেও প্রশাসন রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করছে। প্রায় ১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও ভবনটি এখনও রাজউক বা সিটি কর্পোরেশনের কোনো অনুমোদন ছাড়াই দাপটের সঙ্গে টিকে আছে।

 

বিস্তারিত অনুসন্ধানে জানা যায়, মোমতাজ মোল্লা দক্ষিণখানের মোল্লারটেক এলাকার তাজ গার্মেন্টস সংলগ্ন মেইন রোডের পাশে অবস্থিত জমিতে ভবনটি নির্মাণ করেন কোনো অনুমোদন ছাড়াই। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তৎকালীন সরকারের রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি পরে কৌশলে কিছু কাগজপত্র তৈরি করে ভবনটিকে ‘বৈধ’ দেখানোর চেষ্টা করেন।

বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, ভবনের পেছনের অংশে নতুন করে আবারও অনুমোদনবিহীন চারতলার নির্মাণ কাজ চলছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা— এবারও তিনি পুরোনো কৌশলেই গোপনে কাগজপত্র বানিয়ে ভবনটিকে বৈধ হিসেবে চালানোর চেষ্টা করছেন।

দাগ নং–১৭৮, বাড়ি নং–৩, ওয়ার্ড নং–৪৯, হোটেল আল মদিনা সংলগ্ন, গাওয়াইর, দক্ষিণখান, ঢাকা।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজউক বা সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা এতদিনেও ভবনটি দেখতে পাননি, বিষয়টি অবিশ্বাস্য। অনুমোদনহীন ভবন মানেই জননিরাপত্তার ঝুঁকি, যা নিঃসন্দেহে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। এলাকাবাসীর প্রশ্ন— “রাজউক কি এখন মোমতাজ মোল্লার ইশারায় চলে?”

 

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান এইড এন্ড ট্রাস্ট ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, তারা দেশের বিভিন্ন অপরাধ, অনিয়ম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় নিরপেক্ষভাবে তদন্ত চালায়। সংগঠনটির এক প্রতিনিধি বলেন— “অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কেন এত বছরেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। আইন সবার জন্য সমান— কেউই তার ঊর্ধ্বে নয়।”

 

সংবাদ প্রস্তুতের সময় হাজী মোমতাজ উদ্দিন মোল্লার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে তার ছেলে তাজুলের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি দাবি করেন— “আমাদের ভবনের অনুমোদন ও নকশা সবই আছে। আগেই ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অনুমতি নেওয়া হয়েছিল।”

 

কিন্তু প্রশাসনিকভাবে প্রশ্ন উঠেছে— ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এতদিন আগে অনুমোদন নিয়ে কীভাবে বর্তমান সময়ে ভবন সম্প্রসারণ করা হচ্ছে এবং কার অনুমতিতে— তা এখন রহস্য।

 

এলাকাবাসীর মতে, এমন নজির প্রশাসনের ব্যর্থতার প্রতীক। তারা মনে করেন, যদি একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি আইনকে এভাবে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাতে পারেন, তবে সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার কোথায়?