গাইবান্ধায় জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট, একজন আহত

 

গাইবান্ধা শহরের প্রফেসর কলোনী (সুন্দরজাহান মোড়) এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী হামলা, দোকান ও রাইস মিল ভাঙচুর এবং লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মোঃ এজাজুল হক নাহিদ (৩৬) নামের এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী নাহিদের অভিযোগ, তিনি উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত গাইবান্ধা সদর উপজেলার উত্তর হরিনসিংহা মৌজার প্রায় ৭৩ শতক জমি দীর্ঘদিন ধরে ভোগ-দখল করে আসছেন। ওই জমিতে তাঁর মালিকানাধীন একাধিক দোকান, একটি রাইস মিল, মাছ চাষ প্রকল্প ও বাগান রয়েছে। তাঁর পিতার মৃত্যুর পরও তিনি নিয়মিতভাবে জমিটি ভোগ করে আসছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়, দীর্ঘদিন পর তরিকুল্লাহ তিহাম (৪০) ও মধু মিয়া (৫০) ওই জমির মালিকানা দাবি করে ভয়ভীতি ও হুমকি দিতে থাকে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও সমাধান হয়নি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গাইবান্ধা সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করেন যাহার নং ৩২২/২৫, যা বর্তমানে বিচারাধীন।
ভুক্তভোগীর দাবি, আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় গত ২৯ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তরিকুল্লাহ তিহাম ও মধু মিয়াসহ ৪০-৫০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে তার জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে। তারা একটি চায়ের দোকান, একটি স্যানিটারী দোকান ও রাইস মিলের দরজা-জানালা, বৈদ্যুতিক মিটার ও টিনের বেড়া ভাঙচুর করে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করে।
বাধা দিতে গেলে মোঃ এজাজুল হক নাহিদকে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে মারধর করে গুরুতর জখম করা হয়। একই সঙ্গে রাইস মিল থেকে প্রায় ২ লাখ টাকার বৈদ্যুতিক মোটর ও অন্যান্য মালামাল লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার সময় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিলে সেনাবাহিনীর সদস্য ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তরিকুল্লাহ তিহামকে আটক করে। তবে অপর আসামিরা পালিয়ে যায়। আহত নাহিদকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় গাইবান্ধা থানায় একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

ঠাকুরগাঁওয়ে উপনির্বাচন উপলক্ষে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালকের নির্দেশনা

Verified by MonsterInsights

গাইবান্ধায় জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট, একজন আহত

আপলোডের সময় : 03:23:01 pm, Thursday, 1 January 2026

 

গাইবান্ধা শহরের প্রফেসর কলোনী (সুন্দরজাহান মোড়) এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী হামলা, দোকান ও রাইস মিল ভাঙচুর এবং লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মোঃ এজাজুল হক নাহিদ (৩৬) নামের এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী নাহিদের অভিযোগ, তিনি উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত গাইবান্ধা সদর উপজেলার উত্তর হরিনসিংহা মৌজার প্রায় ৭৩ শতক জমি দীর্ঘদিন ধরে ভোগ-দখল করে আসছেন। ওই জমিতে তাঁর মালিকানাধীন একাধিক দোকান, একটি রাইস মিল, মাছ চাষ প্রকল্প ও বাগান রয়েছে। তাঁর পিতার মৃত্যুর পরও তিনি নিয়মিতভাবে জমিটি ভোগ করে আসছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়, দীর্ঘদিন পর তরিকুল্লাহ তিহাম (৪০) ও মধু মিয়া (৫০) ওই জমির মালিকানা দাবি করে ভয়ভীতি ও হুমকি দিতে থাকে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও সমাধান হয়নি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গাইবান্ধা সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করেন যাহার নং ৩২২/২৫, যা বর্তমানে বিচারাধীন।
ভুক্তভোগীর দাবি, আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় গত ২৯ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তরিকুল্লাহ তিহাম ও মধু মিয়াসহ ৪০-৫০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে তার জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে। তারা একটি চায়ের দোকান, একটি স্যানিটারী দোকান ও রাইস মিলের দরজা-জানালা, বৈদ্যুতিক মিটার ও টিনের বেড়া ভাঙচুর করে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করে।
বাধা দিতে গেলে মোঃ এজাজুল হক নাহিদকে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে মারধর করে গুরুতর জখম করা হয়। একই সঙ্গে রাইস মিল থেকে প্রায় ২ লাখ টাকার বৈদ্যুতিক মোটর ও অন্যান্য মালামাল লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার সময় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিলে সেনাবাহিনীর সদস্য ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তরিকুল্লাহ তিহামকে আটক করে। তবে অপর আসামিরা পালিয়ে যায়। আহত নাহিদকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় গাইবান্ধা থানায় একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।